ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অটোরিক্সায় মাদক পরিবহন; ১৪ (চৌদ্দ) কেজি গাঁজাসহ ০১ মাদক কারবারী গ্রেফতার Logo বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের অভিযানে ৩৮৯ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, পিকআপ জব্দ Logo পশ্চিম পাইকপাড়ায় ঈদ সামগ্রী বিতরণে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম Logo অবহেলা হারিয়ে যাচ্ছে আলীয়াবাদ-মাঝিকাড়া খাল Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলে উদ্ধার Logo বাড়তি ভাড়া নিলে সরাসরি জানাবেন: যোগাযোগ নাম্বার নাই আইজিপি Logo গাজীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ছুটির প্রথমদিনে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, পরিবহনগুলোতে বাড়ছে ভিড় Logo কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে ঈদ উপহার হিসেবে পাঞ্জাবি বিতরণ Logo ট্রাম্প-শি বৈঠক কি শেষ পর্যন্ত হবে?

চকবাজারে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ছায়া: কিশোর গ্যাং লিডার জাবেদ এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে

  • বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় ০৬:০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৭০ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরীর ঘাষিয়াপাড়া ও ফুলতলা মোড় এলাকায় চরম সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনায় পুরো এলাকায় ভয় আর আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাং লিডার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাবেদ (৪২), পিতা-আলী আহম্মদ, ঘাষিয়াপাড়া, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দাপট দেখাচ্ছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জাবেদ তার সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি হোটেলে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা লুট, অস্ত্রের মুখে জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন।

হতাহত হয়েছেন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসা চালানো অমল মালাকার, যাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা একাধিক সেলাই দিয়ে জীবন রক্ষা করেন। হামলার সময় হোটেল থেকে লুট হওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার টাকার বেশি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জাবেদ তার কিশোর গ্যাং সদস্য ফরিদ (১৮), পিতা-হোসেন; নাজমুল (২০), পিতা-রফিক ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, তিনি প্রতিদিন ও মাসিক ভিত্তিতে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন। প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাব খোঁজার জন্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে জাবেদকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও থানার পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—মামলা রুজু হওয়ার পর কেন জাবেদকে দ্রুত গ্রেফতার করা হলো না?

স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের কিশোর গ্যাং ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।

চকবাজার থানায় আহত অমল মালাকার ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাবেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনও পুলিশ
আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রশাসন অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এই সন্ত্রাসী চক্রকে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অটোরিক্সায় মাদক পরিবহন; ১৪ (চৌদ্দ) কেজি গাঁজাসহ ০১ মাদক কারবারী গ্রেফতার

চকবাজারে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ছায়া: কিশোর গ্যাং লিডার জাবেদ এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে

আপডেট সময় ০৬:০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম নগরীর ঘাষিয়াপাড়া ও ফুলতলা মোড় এলাকায় চরম সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনায় পুরো এলাকায় ভয় আর আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাং লিডার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাবেদ (৪২), পিতা-আলী আহম্মদ, ঘাষিয়াপাড়া, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দাপট দেখাচ্ছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জাবেদ তার সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি হোটেলে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা লুট, অস্ত্রের মুখে জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন।

হতাহত হয়েছেন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসা চালানো অমল মালাকার, যাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা একাধিক সেলাই দিয়ে জীবন রক্ষা করেন। হামলার সময় হোটেল থেকে লুট হওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার টাকার বেশি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জাবেদ তার কিশোর গ্যাং সদস্য ফরিদ (১৮), পিতা-হোসেন; নাজমুল (২০), পিতা-রফিক ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, তিনি প্রতিদিন ও মাসিক ভিত্তিতে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন। প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাব খোঁজার জন্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে জাবেদকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও থানার পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—মামলা রুজু হওয়ার পর কেন জাবেদকে দ্রুত গ্রেফতার করা হলো না?

স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের কিশোর গ্যাং ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।

চকবাজার থানায় আহত অমল মালাকার ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাবেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনও পুলিশ
আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রশাসন অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এই সন্ত্রাসী চক্রকে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেবে।


প্রিন্ট