ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবহেলা হারিয়ে যাচ্ছে আলীয়াবাদ-মাঝিকাড়া খাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বুড়ী নদী থেকে ভাটা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত পৌরসভার ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত আলীয়াবাদ ও মাঝিকাড়া খাল দুটি এখন বিলুপ্ত প্রায়। পলিথিন ও অপচনশীল বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, বর্ষায় পর্যাপ্ত পানি না হওয়া এবং খালের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা নির্মাণের ফলে এ খাল গুলো বিলীন হতে চলছে। শুধু তাই নয় নিয়মিত খাল গুলো পরিষ্কার না করায় পানি নষ্ট হয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। দুর্গন্ধে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বর্জ্য পরিষ্কার ও পানি চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয়রা বলেন- খাল গুলো ২০০৩-৪ সালে ও খরস্রোতা ছিল। বর্ষা মৌসুমে ১২-১৩ টি গ্রামের মানুষ নৌকা দিয়ে নবীনগরে আসত। কিন্তু আলীয়াবাদ পশ্চিম পাড়া ব্রিজের নিচে খালের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে রাস্তা নির্মান করায় খালের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়- খালের মধ্যে গৃহস্থালি ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। খালের কিছু কিছু অংশ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। স্থানীয়রা বিচ্ছিন্ন ভাবে খালের পাড়ের অংশ দখলে নিয়েছে।
মাঝিকাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মোখলেছুর রহমান বলেন-“এক সময় এই খাল দুটি অনেক গভীর ও চওড়া ছিল। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নির্বিচারে আবর্জনা ফেলা কারণে ধীরে ধীরে খাল গুলো চোখের সামনে মরে গেল।”
স্থানীয়দের মতে- খাল গুলো খননের পর নির্বিচারে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা এবং বুড়ি নদীর সঙ্গে খাল গুলোর সংযোগ ঘটিয়ে পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলে খাল গুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক ও নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন- “খাল দুটি রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা করছি,খননের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি পবিত্র ঈদ উল ফিতরের পরপরই আমরা কাজ শুরু করতে পারব।”


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের অভিযানে ৩৮৯ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, পিকআপ জব্দ

অবহেলা হারিয়ে যাচ্ছে আলীয়াবাদ-মাঝিকাড়া খাল

আপডেট সময় ০৯:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বুড়ী নদী থেকে ভাটা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত পৌরসভার ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত আলীয়াবাদ ও মাঝিকাড়া খাল দুটি এখন বিলুপ্ত প্রায়। পলিথিন ও অপচনশীল বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, বর্ষায় পর্যাপ্ত পানি না হওয়া এবং খালের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা নির্মাণের ফলে এ খাল গুলো বিলীন হতে চলছে। শুধু তাই নয় নিয়মিত খাল গুলো পরিষ্কার না করায় পানি নষ্ট হয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। দুর্গন্ধে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বর্জ্য পরিষ্কার ও পানি চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয়রা বলেন- খাল গুলো ২০০৩-৪ সালে ও খরস্রোতা ছিল। বর্ষা মৌসুমে ১২-১৩ টি গ্রামের মানুষ নৌকা দিয়ে নবীনগরে আসত। কিন্তু আলীয়াবাদ পশ্চিম পাড়া ব্রিজের নিচে খালের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে রাস্তা নির্মান করায় খালের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়- খালের মধ্যে গৃহস্থালি ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। খালের কিছু কিছু অংশ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। স্থানীয়রা বিচ্ছিন্ন ভাবে খালের পাড়ের অংশ দখলে নিয়েছে।
মাঝিকাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মোখলেছুর রহমান বলেন-“এক সময় এই খাল দুটি অনেক গভীর ও চওড়া ছিল। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নির্বিচারে আবর্জনা ফেলা কারণে ধীরে ধীরে খাল গুলো চোখের সামনে মরে গেল।”
স্থানীয়দের মতে- খাল গুলো খননের পর নির্বিচারে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা এবং বুড়ি নদীর সঙ্গে খাল গুলোর সংযোগ ঘটিয়ে পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলে খাল গুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক ও নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন- “খাল দুটি রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা করছি,খননের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি পবিত্র ঈদ উল ফিতরের পরপরই আমরা কাজ শুরু করতে পারব।”


প্রিন্ট