ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজধানীর গুলশান রাজউকের এস্টেট শাখায় উপ-পরিচালক লিটন সরকারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ফাইল গায়েব থেকে বিতর্কিত অনুমোদন Logo এস আলম থেকে ঘুস নেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান Logo দুর্ভোগের রাজধানী কারওয়ান বাজারে অব্যবস্থাপনা, নেপথ্যে চাঁদাবাজি মাহমুদা ডলি Logo মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান Logo আতঙ্কে বাঁশখালী প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ প্রতিবেদন চট্টগ্রাম Logo অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট আলফাজ আনাম Logo আজমিরীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কালভৈরব মেলায় Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রিটি লিটল বেবি’খ্যাত পপতারকা কনি ফ্রান্সিস আর নেই

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:০১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • ৩০২ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কনি ফ্রান্সিস। ছবি:সংযুক্ত

প্রিটি লিটল বেবিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পপগায়িকা কনি ফ্রান্সিস আর নেই। তিনি ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে তরুণ প্রেম ও হৃদয়ভাঙার গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মন জয় করেছিলেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ম্যানেজার। মৃত্যুকালে গায়িকার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

ম্যানেজার রন রবার্টস জানান, জুলাই মাসের শুরুতে কনিকে তীব্র পেলভিক ব্যথাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন তাকে আইসিইউতেও রাখা হয়। তবে তার মৃত্যুর স্থান বা নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

একদিকে প্রাণবন্ত, অন্যদিকে আবেগময় কণ্ঠের অধিকারী কনি ফ্রান্সিস ১৯৫০-এর দশক ও ১৯৬০-এর শুরুর দিকে কোটি কোটি গানের রেকর্ড বিক্রি করেন। তার বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে–

🎵 Stupid Cupid (চঞ্চল প্রেমের গান),
🎵 Who’s Sorry Now (বিরহের বেদনাদায়ক সুর),
🎵 Where the Boys Are (প্রেম খোঁজার আকাঙ্ক্ষা)।
১৯৬০ সালে তিনি ছিলেন প্রথম নারী, যিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

গানটি ছিল- “Everybody’s Somebody’s Fool”।

পরে তিনি গানটির জার্মান সংস্করণ “Die Liebe ist ein seltsames Spiel” রেকর্ড করেন।

তিনি বহু ভাষায় গান গাওয়ার দক্ষতা অর্জন করেন এবং ইতালীয়, স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষায় নিজের গান প্রকাশ করেন।

কনি ফ্রান্সিসের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১২ ডিসেম্বর নিউ জার্সির নিউ ইয়র্ক শহরে, এক ইতালীয়-আমেরিকান পরিবারে। তার আসল নাম ছিল কনচেত্তা ফ্রানকোনেরো। ১৯৫০-এর দশকে এক ট্যালেন্ট স্কাউট তাকে বলেন, রেডিও ডিজে’রা সহজে উচ্চারণ করতে পারে এমন একটি মঞ্চনাম গ্রহণ করতে।

তার আত্মজীবনীতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বাবা নিউ ইয়র্কের শিপইয়ার্ড ও ফ্যাক্টরিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনিই ছিলেন কনির জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

কনি ছোটবেলায় তার বাবার উৎসাহেই অ্যাকর্ডিয়ন বাজানো শিখেছিলেন।

গায়িকা লিখেছেন, ‘আমি অ্যাকর্ডিয়ন যেমন বাজাতাম, তেমনই জীবন কাটিয়েছি –এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ও জেদ নিয়ে। সঙ্গীতই হয়ে উঠেছিল আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।’

তার বাবার ইচ্ছাতেই কনি রেকর্ড করেন ‘Who’s Sorry Now’, যা হয় তার প্রথম হিট গান।

এছাড়া, জনপ্রিয় গায়ক ববি ড্যারিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার বাবার নিষেধে সেই সম্পর্ক এগোয়নি।

এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ববি ড্যারিনকে বিয়ে না করাটা আমার জীবনের অন্যতম বড় আফসোস’।

২০২৫ সালের শুরুতে তার ১৯৬২ সালের রেকর্ডিং ‘Pretty Little Baby’ হঠাৎ করেই TikTok-এ ভাইরাল হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী গানটির সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে ভিডিও তৈরি করেন।

এ বিষয়ে People ম্যাগাজিনকে কনি বলেন, ‘আমি তো ভুলেই গেছিলাম গানটা আমি কখন রেকর্ড করেছিলাম! ভাবতেই অবাক লাগে, ৬৩ বছর আগে রেকর্ড করা একটা গান এখনো লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।’

কনি ফ্রান্সিস ছিলেন একাধিক প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা, যার গান এখনো জীবন্ত হয়ে ফিরে আসে স্মৃতির মতো।

তার মৃত্যুতে সংগীতজগত হারাল এক কিংবদন্তি কণ্ঠ। সূত্র: রয়টার্স


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীর গুলশান রাজউকের এস্টেট শাখায় উপ-পরিচালক লিটন সরকারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ফাইল গায়েব থেকে বিতর্কিত অনুমোদন

প্রিটি লিটল বেবি’খ্যাত পপতারকা কনি ফ্রান্সিস আর নেই

আপডেট সময় ১২:০১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কনি ফ্রান্সিস। ছবি:সংযুক্ত

প্রিটি লিটল বেবিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পপগায়িকা কনি ফ্রান্সিস আর নেই। তিনি ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে তরুণ প্রেম ও হৃদয়ভাঙার গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মন জয় করেছিলেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ম্যানেজার। মৃত্যুকালে গায়িকার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

ম্যানেজার রন রবার্টস জানান, জুলাই মাসের শুরুতে কনিকে তীব্র পেলভিক ব্যথাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন তাকে আইসিইউতেও রাখা হয়। তবে তার মৃত্যুর স্থান বা নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

একদিকে প্রাণবন্ত, অন্যদিকে আবেগময় কণ্ঠের অধিকারী কনি ফ্রান্সিস ১৯৫০-এর দশক ও ১৯৬০-এর শুরুর দিকে কোটি কোটি গানের রেকর্ড বিক্রি করেন। তার বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে–

🎵 Stupid Cupid (চঞ্চল প্রেমের গান),
🎵 Who’s Sorry Now (বিরহের বেদনাদায়ক সুর),
🎵 Where the Boys Are (প্রেম খোঁজার আকাঙ্ক্ষা)।
১৯৬০ সালে তিনি ছিলেন প্রথম নারী, যিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

গানটি ছিল- “Everybody’s Somebody’s Fool”।

পরে তিনি গানটির জার্মান সংস্করণ “Die Liebe ist ein seltsames Spiel” রেকর্ড করেন।

তিনি বহু ভাষায় গান গাওয়ার দক্ষতা অর্জন করেন এবং ইতালীয়, স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষায় নিজের গান প্রকাশ করেন।

কনি ফ্রান্সিসের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১২ ডিসেম্বর নিউ জার্সির নিউ ইয়র্ক শহরে, এক ইতালীয়-আমেরিকান পরিবারে। তার আসল নাম ছিল কনচেত্তা ফ্রানকোনেরো। ১৯৫০-এর দশকে এক ট্যালেন্ট স্কাউট তাকে বলেন, রেডিও ডিজে’রা সহজে উচ্চারণ করতে পারে এমন একটি মঞ্চনাম গ্রহণ করতে।

তার আত্মজীবনীতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বাবা নিউ ইয়র্কের শিপইয়ার্ড ও ফ্যাক্টরিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনিই ছিলেন কনির জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

কনি ছোটবেলায় তার বাবার উৎসাহেই অ্যাকর্ডিয়ন বাজানো শিখেছিলেন।

গায়িকা লিখেছেন, ‘আমি অ্যাকর্ডিয়ন যেমন বাজাতাম, তেমনই জীবন কাটিয়েছি –এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ও জেদ নিয়ে। সঙ্গীতই হয়ে উঠেছিল আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।’

তার বাবার ইচ্ছাতেই কনি রেকর্ড করেন ‘Who’s Sorry Now’, যা হয় তার প্রথম হিট গান।

এছাড়া, জনপ্রিয় গায়ক ববি ড্যারিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার বাবার নিষেধে সেই সম্পর্ক এগোয়নি।

এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ববি ড্যারিনকে বিয়ে না করাটা আমার জীবনের অন্যতম বড় আফসোস’।

২০২৫ সালের শুরুতে তার ১৯৬২ সালের রেকর্ডিং ‘Pretty Little Baby’ হঠাৎ করেই TikTok-এ ভাইরাল হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী গানটির সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে ভিডিও তৈরি করেন।

এ বিষয়ে People ম্যাগাজিনকে কনি বলেন, ‘আমি তো ভুলেই গেছিলাম গানটা আমি কখন রেকর্ড করেছিলাম! ভাবতেই অবাক লাগে, ৬৩ বছর আগে রেকর্ড করা একটা গান এখনো লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।’

কনি ফ্রান্সিস ছিলেন একাধিক প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা, যার গান এখনো জীবন্ত হয়ে ফিরে আসে স্মৃতির মতো।

তার মৃত্যুতে সংগীতজগত হারাল এক কিংবদন্তি কণ্ঠ। সূত্র: রয়টার্স


প্রিন্ট