ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo নবীনগরে মতবিনিময় সভা: তৃণমূলে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আন্তরিকতার আহ্বান জেলা প্রশাসকের Logo অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে Logo কিশোর গঞ্জ জেলা ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের আদেশেও দায়িত্ব পাননি চেয়ারম্যান রিপন Logo ছয় মাসেও ফেরেনি প্রতিবন্ধী রাজ্জাকের দোকান, আশ্বাসেই থমকে আছে প্রশাসনিক উদ্যোগ Logo রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ Logo জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পায়নি ইইউ Logo কক্সবাজারে এমপি কাজলের প্রচেষ্টায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া হল বড় প্রকল্প Logo চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিনোদপুরে মানববন্ধনঃ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষককে শারীরিক নির্যাতনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

রবিবার  (৭ ডিসেম্বর ) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।

সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষিকা তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি জানান, “আমি তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললে বাইরে থেকে লোকজন এনে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকদের আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও খারাপ কথা বলেন।”

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে অভিভাবকদের স্কুল এলাকা ত্যাগ করতে বলায় প্রধান শিক্ষিকা তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে চোখ উপড়ে ফেলার হুমকিও দেন। ভয়ে দৌড়ে পালানোর সময় সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে তিনি পায়ে আঘাত পান বলে জানান আফরোজা খাতুন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধান শিক্ষিকা প্রায়ই বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিদ্যালয়ের আশপাশে বসবাস করায় এসব ঘটনা তারা নিয়মিত দেখছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে অশান্তি লেগেই রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং নিয়মিত ক্লাস নেন না। কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে অভিভাবকদের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে দাবি তাদের।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে ফাঁসাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিনোদপুরে মানববন্ধনঃ

আপডেট সময় ০৮:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষককে শারীরিক নির্যাতনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

রবিবার  (৭ ডিসেম্বর ) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।

সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষিকা তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি জানান, “আমি তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললে বাইরে থেকে লোকজন এনে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকদের আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও খারাপ কথা বলেন।”

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে অভিভাবকদের স্কুল এলাকা ত্যাগ করতে বলায় প্রধান শিক্ষিকা তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে চোখ উপড়ে ফেলার হুমকিও দেন। ভয়ে দৌড়ে পালানোর সময় সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে তিনি পায়ে আঘাত পান বলে জানান আফরোজা খাতুন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধান শিক্ষিকা প্রায়ই বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিদ্যালয়ের আশপাশে বসবাস করায় এসব ঘটনা তারা নিয়মিত দেখছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে অশান্তি লেগেই রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং নিয়মিত ক্লাস নেন না। কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে অভিভাবকদের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে দাবি তাদের।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে ফাঁসাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট