ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এস আলম থেকে ঘুস নেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান Logo দুর্ভোগের রাজধানী কারওয়ান বাজারে অব্যবস্থাপনা, নেপথ্যে চাঁদাবাজি মাহমুদা ডলি Logo মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান Logo আতঙ্কে বাঁশখালী প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ প্রতিবেদন চট্টগ্রাম Logo অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট আলফাজ আনাম Logo আজমিরীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কালভৈরব মেলায় Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!!

ওএমএস প্রকল্পে ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগ: কাশিমপুরে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিচালিত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস (Open Market Sale) প্রকল্পে গাজীপুরের কাশিমপুরে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এবং প্রকল্পের সুষম বণ্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ৩০ টাকা এবং ৫ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সারদাগঞ্জ ইব্রাহিম মার্কেটের ডিলাররা প্রতিবারের মতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সরকার ৩০–২৪ টাকায় দেওয়ার কথা, কিন্তু তারা ৩০–৫০ টাকা বেশি নেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখনো পাই, কখনো পাই না। এটা আমাদের সাথে প্রতিদিন অন্যায়।”
এলাকাবাসীর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—ডিলারদের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গ্রুপ আছে, যারা লাইন ধ’রে না দাঁড়িয়ে ২০–৩০ কেজি বস্তা করে চাল ও আটা তুলে নিয়ে যায়। ফলে সারা দিন অপেক্ষা করা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একজন নারী ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন—
“আমরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু ডিলারের লোকজন এসে সরাসরি বস্তা নিয়ে চলে যায়। তাদেরকে কেউ কিছু বলে না। এটা সিন্ডিকেট ছাড়া কিছুই না।”
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী—
আগে এলে আগে পাওয়ার নীতি,
জনপ্রতি নির্দিষ্ট বরাদ্দ,
সরকারি দামের কঠোর অনুসরণ,
এবং সুষ্ঠু তদারকি—
এসব কোনো নিয়মই সারদাগঞ্জ এলাকায় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও তদারকি প্রয়োজন। তবেই ওএমএস প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করেন তারা।
সংবাদদাতা: ফারুক আহমদ
কাশিমপুর প্রতিনিধি


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

এস আলম থেকে ঘুস নেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান

ওএমএস প্রকল্পে ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগ: কাশিমপুরে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় ০৩:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিচালিত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস (Open Market Sale) প্রকল্পে গাজীপুরের কাশিমপুরে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এবং প্রকল্পের সুষম বণ্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ৩০ টাকা এবং ৫ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সারদাগঞ্জ ইব্রাহিম মার্কেটের ডিলাররা প্রতিবারের মতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সরকার ৩০–২৪ টাকায় দেওয়ার কথা, কিন্তু তারা ৩০–৫০ টাকা বেশি নেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখনো পাই, কখনো পাই না। এটা আমাদের সাথে প্রতিদিন অন্যায়।”
এলাকাবাসীর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—ডিলারদের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গ্রুপ আছে, যারা লাইন ধ’রে না দাঁড়িয়ে ২০–৩০ কেজি বস্তা করে চাল ও আটা তুলে নিয়ে যায়। ফলে সারা দিন অপেক্ষা করা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একজন নারী ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন—
“আমরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু ডিলারের লোকজন এসে সরাসরি বস্তা নিয়ে চলে যায়। তাদেরকে কেউ কিছু বলে না। এটা সিন্ডিকেট ছাড়া কিছুই না।”
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী—
আগে এলে আগে পাওয়ার নীতি,
জনপ্রতি নির্দিষ্ট বরাদ্দ,
সরকারি দামের কঠোর অনুসরণ,
এবং সুষ্ঠু তদারকি—
এসব কোনো নিয়মই সারদাগঞ্জ এলাকায় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও তদারকি প্রয়োজন। তবেই ওএমএস প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করেন তারা।
সংবাদদাতা: ফারুক আহমদ
কাশিমপুর প্রতিনিধি


প্রিন্ট