ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির Logo সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ আবার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে Logo আল্লাহর দেওয়া বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু Logo টানা তাপদাহের মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি Logo ইসলামপুরে আওয়ামীলীগের ২৪ নেতাকর্মী জামিন চেয়ে আদালতে স্বেচায় আত্মসমর্পন করায় আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন Logo কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে গজারি ইউনিয়নের প্রধান নুরুল ইসলাম খোলকানী অনুষ্ঠিত, সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল Logo আবিদুলের অভিযোগের জবাবে সাদিক কায়েম ‘ছাত্রদলের অপকর্ম, দেশের সংকট- সবকিছু ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে Logo রাজধানীতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড Logo ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি, হামলাকারী আটক Logo কাশিমপুরে কসাইয়ের ছুরিকাঘাতে চিকিৎসক গুরুতর জখম, ঘাতক গ্রেফতার

ওএমএস প্রকল্পে ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগ: কাশিমপুরে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিচালিত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস (Open Market Sale) প্রকল্পে গাজীপুরের কাশিমপুরে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এবং প্রকল্পের সুষম বণ্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ৩০ টাকা এবং ৫ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সারদাগঞ্জ ইব্রাহিম মার্কেটের ডিলাররা প্রতিবারের মতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সরকার ৩০–২৪ টাকায় দেওয়ার কথা, কিন্তু তারা ৩০–৫০ টাকা বেশি নেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখনো পাই, কখনো পাই না। এটা আমাদের সাথে প্রতিদিন অন্যায়।”
এলাকাবাসীর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—ডিলারদের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গ্রুপ আছে, যারা লাইন ধ’রে না দাঁড়িয়ে ২০–৩০ কেজি বস্তা করে চাল ও আটা তুলে নিয়ে যায়। ফলে সারা দিন অপেক্ষা করা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একজন নারী ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন—
“আমরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু ডিলারের লোকজন এসে সরাসরি বস্তা নিয়ে চলে যায়। তাদেরকে কেউ কিছু বলে না। এটা সিন্ডিকেট ছাড়া কিছুই না।”
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী—
আগে এলে আগে পাওয়ার নীতি,
জনপ্রতি নির্দিষ্ট বরাদ্দ,
সরকারি দামের কঠোর অনুসরণ,
এবং সুষ্ঠু তদারকি—
এসব কোনো নিয়মই সারদাগঞ্জ এলাকায় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও তদারকি প্রয়োজন। তবেই ওএমএস প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করেন তারা।
সংবাদদাতা: ফারুক আহমদ
কাশিমপুর প্রতিনিধি


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

ওএমএস প্রকল্পে ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগ: কাশিমপুরে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় ০৩:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিচালিত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস (Open Market Sale) প্রকল্পে গাজীপুরের কাশিমপুরে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এবং প্রকল্পের সুষম বণ্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ৩০ টাকা এবং ৫ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সারদাগঞ্জ ইব্রাহিম মার্কেটের ডিলাররা প্রতিবারের মতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সরকার ৩০–২৪ টাকায় দেওয়ার কথা, কিন্তু তারা ৩০–৫০ টাকা বেশি নেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখনো পাই, কখনো পাই না। এটা আমাদের সাথে প্রতিদিন অন্যায়।”
এলাকাবাসীর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—ডিলারদের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গ্রুপ আছে, যারা লাইন ধ’রে না দাঁড়িয়ে ২০–৩০ কেজি বস্তা করে চাল ও আটা তুলে নিয়ে যায়। ফলে সারা দিন অপেক্ষা করা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একজন নারী ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন—
“আমরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু ডিলারের লোকজন এসে সরাসরি বস্তা নিয়ে চলে যায়। তাদেরকে কেউ কিছু বলে না। এটা সিন্ডিকেট ছাড়া কিছুই না।”
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী—
আগে এলে আগে পাওয়ার নীতি,
জনপ্রতি নির্দিষ্ট বরাদ্দ,
সরকারি দামের কঠোর অনুসরণ,
এবং সুষ্ঠু তদারকি—
এসব কোনো নিয়মই সারদাগঞ্জ এলাকায় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও তদারকি প্রয়োজন। তবেই ওএমএস প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করেন তারা।
সংবাদদাতা: ফারুক আহমদ
কাশিমপুর প্রতিনিধি


প্রিন্ট