ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা Logo আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের Logo বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা Logo নাসিরনগরে অবৈধ মাটি কাটায় দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা, ৫ ট্রাক্টর জব্দ Logo পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল Logo শিবিরের জনশক্তিকে বৃহত্তর নেতৃত্বের যোগ্যতায় গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর Logo তানোরের মুন্ডুমালায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল Logo ১ নং কাস্টম ঘাট টোলমুক্ত ঘোষণা সৌজন্যে বি কোম্পানি Logo সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ: নাইক্ষ্যংছড়িতে আরাকান আর্মির ৩ সদস্য আটক Logo লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় পবিত্র রমজানে বাজার মনিটরিং

ওএমএস প্রকল্পে ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগ: কাশিমপুরে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিচালিত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস (Open Market Sale) প্রকল্পে গাজীপুরের কাশিমপুরে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এবং প্রকল্পের সুষম বণ্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ৩০ টাকা এবং ৫ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সারদাগঞ্জ ইব্রাহিম মার্কেটের ডিলাররা প্রতিবারের মতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সরকার ৩০–২৪ টাকায় দেওয়ার কথা, কিন্তু তারা ৩০–৫০ টাকা বেশি নেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখনো পাই, কখনো পাই না। এটা আমাদের সাথে প্রতিদিন অন্যায়।”
এলাকাবাসীর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—ডিলারদের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গ্রুপ আছে, যারা লাইন ধ’রে না দাঁড়িয়ে ২০–৩০ কেজি বস্তা করে চাল ও আটা তুলে নিয়ে যায়। ফলে সারা দিন অপেক্ষা করা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একজন নারী ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন—
“আমরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু ডিলারের লোকজন এসে সরাসরি বস্তা নিয়ে চলে যায়। তাদেরকে কেউ কিছু বলে না। এটা সিন্ডিকেট ছাড়া কিছুই না।”
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী—
আগে এলে আগে পাওয়ার নীতি,
জনপ্রতি নির্দিষ্ট বরাদ্দ,
সরকারি দামের কঠোর অনুসরণ,
এবং সুষ্ঠু তদারকি—
এসব কোনো নিয়মই সারদাগঞ্জ এলাকায় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও তদারকি প্রয়োজন। তবেই ওএমএস প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করেন তারা।
সংবাদদাতা: ফারুক আহমদ
কাশিমপুর প্রতিনিধি


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ওএমএস প্রকল্পে ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগ: কাশিমপুরে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় ০৩:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিচালিত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস (Open Market Sale) প্রকল্পে গাজীপুরের কাশিমপুরে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এবং প্রকল্পের সুষম বণ্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ৩০ টাকা এবং ৫ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সারদাগঞ্জ ইব্রাহিম মার্কেটের ডিলাররা প্রতিবারের মতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সরকার ৩০–২৪ টাকায় দেওয়ার কথা, কিন্তু তারা ৩০–৫০ টাকা বেশি নেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখনো পাই, কখনো পাই না। এটা আমাদের সাথে প্রতিদিন অন্যায়।”
এলাকাবাসীর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—ডিলারদের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গ্রুপ আছে, যারা লাইন ধ’রে না দাঁড়িয়ে ২০–৩০ কেজি বস্তা করে চাল ও আটা তুলে নিয়ে যায়। ফলে সারা দিন অপেক্ষা করা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একজন নারী ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন—
“আমরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু ডিলারের লোকজন এসে সরাসরি বস্তা নিয়ে চলে যায়। তাদেরকে কেউ কিছু বলে না। এটা সিন্ডিকেট ছাড়া কিছুই না।”
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী—
আগে এলে আগে পাওয়ার নীতি,
জনপ্রতি নির্দিষ্ট বরাদ্দ,
সরকারি দামের কঠোর অনুসরণ,
এবং সুষ্ঠু তদারকি—
এসব কোনো নিয়মই সারদাগঞ্জ এলাকায় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও তদারকি প্রয়োজন। তবেই ওএমএস প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করেন তারা।
সংবাদদাতা: ফারুক আহমদ
কাশিমপুর প্রতিনিধি


প্রিন্ট