ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে চোর ও ছিনতাইকারী চক্ Logo নির্বাচন উপলক্ষে সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডের টহল জোরদার Logo আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী Logo নাসিরনগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন Logo দ্য উইকে সাক্ষাৎকার জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল: ডা. শফিকুর রহমান Logo নির্বাচন বানচালে ভারতের নীলনকশা, বড় হামলার ছক ওয়াসিম সিদ্দিকী Logo নাসিরনগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকা থেকে বিদেশি গান ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বিজিবি Logo ২০ বছর পর বরিশালে জনসভা মঞ্চে তারেক রহমান।

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৭:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৬ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিই অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন হবে।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান । তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন এবং ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এর এক দিন আগে বা পরে নয়। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে। প্রশাসন থাকবে পক্ষপাতমুক্ত এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার প্রচার চালাচ্ছে। জনগণের সমর্থনে জুলাই সনদ অনুমোদিত হলে তা গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের কোনো সুযোগ থাকবে না।

নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। ক্রমেই তারা এআই-সৃষ্ট বিভ্রান্তিকর ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।

প্রেস উইং জানায়, প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও জুলাই বিপ্লব ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও অপতথ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন- এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গম্বিস এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, বিশ্বজুড়ে ভুয়া খবর এখন গণতন্ত্রের ‘প্রধান শত্রুদের একটি’ হয়ে উঠেছে। এ হুমকি মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দুই কূটনীতিকই গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ পরবর্তী সময়ের মতো বাংলাদেশে ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে জানতে চান। জবাবে ড. ইউনূস জানান, নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে অনুসরণ করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি।

পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সময় এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ শুরু করা তখনই সম্ভব, যখন ভুল স্বীকার করা হয়, অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয় এবং সেই পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এখনো কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো অনুতাপ নেই। বরং জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত তরুণদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ তাদের বর্বর অপরাধের বিপুল প্রমাণ রয়েছে। তারপরও তারা সবকিছু অস্বীকার করে যাচ্ছে।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে চোর ও ছিনতাইকারী চক্

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

আপডেট সময় ০৭:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিই অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন হবে।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান । তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন এবং ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এর এক দিন আগে বা পরে নয়। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে। প্রশাসন থাকবে পক্ষপাতমুক্ত এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার প্রচার চালাচ্ছে। জনগণের সমর্থনে জুলাই সনদ অনুমোদিত হলে তা গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের কোনো সুযোগ থাকবে না।

নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। ক্রমেই তারা এআই-সৃষ্ট বিভ্রান্তিকর ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।

প্রেস উইং জানায়, প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও জুলাই বিপ্লব ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও অপতথ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন- এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গম্বিস এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, বিশ্বজুড়ে ভুয়া খবর এখন গণতন্ত্রের ‘প্রধান শত্রুদের একটি’ হয়ে উঠেছে। এ হুমকি মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দুই কূটনীতিকই গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ পরবর্তী সময়ের মতো বাংলাদেশে ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে জানতে চান। জবাবে ড. ইউনূস জানান, নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে অনুসরণ করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি।

পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সময় এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ শুরু করা তখনই সম্ভব, যখন ভুল স্বীকার করা হয়, অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয় এবং সেই পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এখনো কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো অনুতাপ নেই। বরং জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত তরুণদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ তাদের বর্বর অপরাধের বিপুল প্রমাণ রয়েছে। তারপরও তারা সবকিছু অস্বীকার করে যাচ্ছে।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট