গাজীপুর মহানগর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদনগর ২ নম্বর ব্লক লালু মিয়ার গলি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য মাদকের নেটওয়ার্ক। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মোহাম্মদ সেন্টু (পিতা: বাসেদ,মাতা: বিআইসি), যাকে ঘিরেই চলছে নানা অভিযোগ ও আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এই এলাকাটিতে দিন-রাতের নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে মাদক বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন বয়সী তরুণদের ব্যবহার করে সরবরাহ ও খুচরা বিক্রির একটি চক্র গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সহজেই নজর এড়িয়ে চলছে পুরো কার্যক্রম।একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা এখন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।”
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই মাদক ব্যবসা পরিচালনার পেছনে প্রভাবশালী মহলের ছায়া থাকার গুঞ্জন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী গ্রুপ এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রেখেছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের অসাধু সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও তা স্থায়ী প্রভাব ফেলছে না বলে দাবি তাদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে মাদক সহজলভ্য হয়ে গেলে একটি প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থার ওপর পড়ে বাড়ে চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতা।জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এলাকায় নিয়মিত অভিযান জোরদার করা।তরুণদের পুনর্বাসন ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো এরশাদনগরের এই পরিস্থিতি শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিন্ট
বিশেষ প্রতিনিধি: 













