ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইসলামপুরে মাইক্রো চালককে হত্যা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন Logo নাসিরনগরে বৃষ্টিতে সোনালী ধান পানির নিচে Logo আজমিরীগঞ্জে অতিবৃষ্টির কারনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি। মোঃ আংগুর মিয়া Logo ১মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে ‘মঠবাড়িয়া উপজেলা ও পৌর শ্রমিকদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি Logo সমুদ্রপথে ‘শত্রুর দাপট’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির Logo যুদ্ধজাহাজে নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদ মজুদ করছে যুক্তরাষ্ট্র Logo রাতে বাসায় ঢোকার সময় দেখি দুইজন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে’ Logo ভাইকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ফেসবুকে পোস্ট, সাংবাদিককে লাঞ্চিত করলো বিএনপি নেতার ভাই Logo ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নাসিরনগরে বৃষ্টিতে সোনালী ধান পানির নিচে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন হাওরের শত শত হেক্টর পাকা বোরো ধান। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। শ্রমিকসংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারেননি।

উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, পানিতে থইথই করছে পাকা ধানখেত। মেদীর হাওরের কৃষক সেফুল মিয়া জানান, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে তার সব জমি তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় গত দুই দিন তিনি ধান কাটতে পারেননি।

একই হাওরের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, ‘ছয় বিঘা জমি আবাদ করেছি, কিন্তু শ্রমিকসংকটের কারণে মাত্র দুই বিঘা কাটতে পেরেছি। বাকি ধান এখন পানির নিচে। এই ফসলের ওপরই আমার পরিবারের ভরণপোষণ নির্ভর করে।’

চাষিদের অভিযোগ, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ধান ডুবে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নৌকা নিয়ে পানির নিচ থেকে আধা পাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি ধান বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিকসংকটের কারণে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও ঢলে পাকা ধান তলিয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কীভাবে সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চলছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ইসলামপুরে মাইক্রো চালককে হত্যা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নাসিরনগরে বৃষ্টিতে সোনালী ধান পানির নিচে

আপডেট সময় ০১:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন হাওরের শত শত হেক্টর পাকা বোরো ধান। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। শ্রমিকসংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারেননি।

উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, পানিতে থইথই করছে পাকা ধানখেত। মেদীর হাওরের কৃষক সেফুল মিয়া জানান, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে তার সব জমি তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় গত দুই দিন তিনি ধান কাটতে পারেননি।

একই হাওরের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, ‘ছয় বিঘা জমি আবাদ করেছি, কিন্তু শ্রমিকসংকটের কারণে মাত্র দুই বিঘা কাটতে পেরেছি। বাকি ধান এখন পানির নিচে। এই ফসলের ওপরই আমার পরিবারের ভরণপোষণ নির্ভর করে।’

চাষিদের অভিযোগ, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ধান ডুবে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নৌকা নিয়ে পানির নিচ থেকে আধা পাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি ধান বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিকসংকটের কারণে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও ঢলে পাকা ধান তলিয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কীভাবে সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চলছে।


প্রিন্ট