ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন Logo নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি উদ্ধার সম্পন্ন, লাইন স্থাপনের কাজ চলছে Logo মহম্মদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ পেল ৫৮৫ জন Logo জামালপুরে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo জামালপুরে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo শ’হীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রু’হের মা’গফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল Logo বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ Logo ইরানে লারিজানি-সোলেইমানিসহ নৌসেনাদের জানাজা অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর এান তহবিল থেকে পীরগঞ্জে ৩শ পরিবারের মাঝে ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ 

দুর্নীতি এখনও উড়ছে এই দেশের আকাশে, আর সেই দুর্নীতির ভার বইছে এই প্রজন্মের সাহসীরা

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় শহীদ হয়েছেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরসহ আরও কয়েকজন। তবে এই ঘটনায় তৌকিরের আত্মত্যাগ ঘিরে দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি উঠছে তীব্র প্রশ্ন—কেন এখনো আকাশে উড়ছে সত্তরের দশকের বাতিল যুদ্ধবিমান?

প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “একটা বোতাম চাপলেই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ফিরে যেতে পারতেন পরিবারে, জীবনের কাছে। নিজেকে বাঁচানোর সুযোগ ছিল তাঁর হাতে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ সিট ত্যাগ করে প্যারাসুট নিয়ে প্রাণ রক্ষার সুযোগ থাকলেও, তিনি তা করেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফাঁকা জায়গায় বিমানটি নামানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।”

তৌকিরের চালানো যুদ্ধবিমানটি ছিল একটি পুরনো মডেলের F-7—যার জায়গা আধুনিক ২০২৫ সালের আকাশে থাকার কথা নয়। ইলিয়াসের ভাষায়, “তবু সেটিই উড়ছিল, কারণ দুর্নীতি এখনও উড়ছে এই দেশের আকাশে। সেই দুর্নীতির ভার বইছে এই প্রজন্মের সাহসীরা।”

তিনি আরও বলেন, “তৌকির আকাশে মারা যাননি। তিনি মরে গিয়েছিলেন অনেক আগেই— যেদিন বাজেট চুরি হয়েছিল, যেদিন সিদ্ধান্ত হয়েছিল ১৯৭৬ সালের বাতিল বিমান দিয়েই চলবে আধুনিক যুগের প্রশিক্ষণ। এই সিস্টেম তাঁর জন্য কিছুই রাখেনি— না কোনো নিরাপত্তা, না কোনো বিকল্প। রেখে গেছে কেবল ঝুঁকি, মরচে ধরা লোহা, আর এক তরুণ অফিসারের নিশ্চিত মৃত্যু।”

এই দুর্ঘটনায় নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন ইলিয়াস হোসেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন তিনি।

শেষে তার হৃদয়বিদারক আবেদন—”আর যেন কোনো তরুণ তৌকিরকে, একটা মরচে ধরা বিমানের সঙ্গে জীবন বিসর্জন দিতে না হয়।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন

দুর্নীতি এখনও উড়ছে এই দেশের আকাশে, আর সেই দুর্নীতির ভার বইছে এই প্রজন্মের সাহসীরা

আপডেট সময় ০৮:২৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় শহীদ হয়েছেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরসহ আরও কয়েকজন। তবে এই ঘটনায় তৌকিরের আত্মত্যাগ ঘিরে দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি উঠছে তীব্র প্রশ্ন—কেন এখনো আকাশে উড়ছে সত্তরের দশকের বাতিল যুদ্ধবিমান?

প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “একটা বোতাম চাপলেই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ফিরে যেতে পারতেন পরিবারে, জীবনের কাছে। নিজেকে বাঁচানোর সুযোগ ছিল তাঁর হাতে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ সিট ত্যাগ করে প্যারাসুট নিয়ে প্রাণ রক্ষার সুযোগ থাকলেও, তিনি তা করেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফাঁকা জায়গায় বিমানটি নামানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।”

তৌকিরের চালানো যুদ্ধবিমানটি ছিল একটি পুরনো মডেলের F-7—যার জায়গা আধুনিক ২০২৫ সালের আকাশে থাকার কথা নয়। ইলিয়াসের ভাষায়, “তবু সেটিই উড়ছিল, কারণ দুর্নীতি এখনও উড়ছে এই দেশের আকাশে। সেই দুর্নীতির ভার বইছে এই প্রজন্মের সাহসীরা।”

তিনি আরও বলেন, “তৌকির আকাশে মারা যাননি। তিনি মরে গিয়েছিলেন অনেক আগেই— যেদিন বাজেট চুরি হয়েছিল, যেদিন সিদ্ধান্ত হয়েছিল ১৯৭৬ সালের বাতিল বিমান দিয়েই চলবে আধুনিক যুগের প্রশিক্ষণ। এই সিস্টেম তাঁর জন্য কিছুই রাখেনি— না কোনো নিরাপত্তা, না কোনো বিকল্প। রেখে গেছে কেবল ঝুঁকি, মরচে ধরা লোহা, আর এক তরুণ অফিসারের নিশ্চিত মৃত্যু।”

এই দুর্ঘটনায় নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন ইলিয়াস হোসেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন তিনি।

শেষে তার হৃদয়বিদারক আবেদন—”আর যেন কোনো তরুণ তৌকিরকে, একটা মরচে ধরা বিমানের সঙ্গে জীবন বিসর্জন দিতে না হয়।


প্রিন্ট