ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!! Logo সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো Logo সায়েন্সল্যাব অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ Logo বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা মৃত্যুবরণ করেছেন Logo ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ Logo সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট Logo আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, ভারতে ঝুঁকি আছে: ক্রীড়া উপদেষ্টা

জনতার হাতে ধরা‘বোট ডাকাত’কোরবান আলী রহিম এখন যুবদল নেতা?ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় চট্টগ্রাম

ডাকাতির সময় জনতার হাতে ধরাগাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল; পরিচয় পাল্টে এখন যুবদল নেতা সেজেছেন কোরবান আলী রহিম

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্র কোরবান আলী রহিম আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।একসময় পাঁচলাইশ থানা যুবলীগের কুখ্যাত নেতা হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে নিজেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের একজন“প্রভাবশালী নেতা”হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে কর্ণফুলী এলাকায় বোট ডাকাতির অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়া,গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের একটি ভিডিও,যেখানে কোরবান আলী রহিমকে শনাক্ত করার দাবি করছেন স্থানীয়রা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়,কয়েক ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে উত্তেজিত জনতা। অত্র ডাকাতির মূল হোতা ছিলেন এই রহিম,একপর্যায়ে তাদেরকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়।ভিডিওতে উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে ক্ষোভ,উত্তেজনা ও ক্ষতির প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি,ভিডিওতে যাদেরকে দেখা যাচ্ছে একজন কোরবান আলী রহিম এবং ওই সময় তিনি কর্ণফুলী এলাকায় বোট ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন তার বাহিনী নিয়ে।স্থানীয়রা হাতেনাতে তাদেরকে ধরে ফেলার পরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বোট ডাকাতির আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাঝেমধ্যে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান,জেলেদের বোট ও পণ্যবাহী ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।এমন প্রেক্ষাপটে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করার সময় কোরবান আলী রহিমকে আটক করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ডাকাতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং উত্তমধ্যম দেয়।

যদিও ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত ছিল না বলে দাবি স্থানীয়দের, তবে প্রশ্ন উঠেছে এত বড় একটি ঘটনায় পরবর্তীতে আইনগত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ কেন চোখে পড়েনি?বরং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন এমন অভিযোগে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে কোরবান আলী রহিমের রাজনৈতিক পরিচয় বদল।এলাকাবাসীর একাংশের দাবি,তিনি একসময় পাঁচলাইশ থানা যুবলীগের প্রভাবশালী ও কুখ্যাত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ শোনা গেলেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বারবার পার পেয়ে যান।

বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোরবান আলী রহিম নিজেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দলীয় পরিচয় বদলে তিনি নতুন রাজনৈতিক ছাতার নিচে নিজেকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করছে,কোরবান আলী রহিম কুখ্যাত কিশোর গ্যাং যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত সাবেক আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।অভিযোগ রয়েছে, মোবারক আলীর রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোরবান আলী রহিম এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়তেন।
বিগত সরকারের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলীর প্রভাব ছিল ব্যাপক।স্থানীয়দের মতে, সেই ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় কোরবান আলী রহিম একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েও আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন।এখন রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পুরনো অপকর্মের ইতিহাস চাপা দিয়ে নতুন পরিচয়ে সামনে আসার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ডাকাতির মতো গুরুতর অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরও যদি কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন,তবে আইনশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক এমনটাই বলছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,কোরবান আলী রহিমের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব অভিযোগ উঠেছে,সেগুলোর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা দৃশ্যমান বিচার হয়নি।বরং প্রতিবারই তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে আড়াল করেছেন। এতে অপরাধপ্রবণতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধীদের পুনর্বাসনের এই সংস্কৃতি কি কখনো বন্ধ হবে না?কেউ কেউ আবার মন্তব্য করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় যেন এখন অপরাধ থেকে রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, অনেক নেটিজেন দাবি করছেন, ভিডিওতে দেখা ঘটনার সত্যতা যাচাই করে কোরবান আলী রহিমের বিরুদ্ধে অতীত ও বর্তমান অভিযোগগুলো নতুন করে তদন্ত করা জরুরি।প্রয়োজনে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপির যুবদল বা সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোরবান আলী রহিমকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি,কোনো রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। নচেৎ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে প্রতিবেদকের হাতে কোরবান আলী রহিমের একাধিক ভিডিও,ছবি এবং বিভিন্ন অপকর্মের তথাকথিত আমলনামা রয়েছে বলে জানা গেছে।এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পেলে বিষয়টি আরও বিস্তৃত আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিষয় নয় এটি রাজনৈতিক শুদ্ধতা,আইনশাসন এবং অপরাধ দমনের প্রশ্ন।বোট ডাকাতির অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়ার ভিডিও প্রকাশের পরও যদি কেউ নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন,তবে সেই সমাজে অপরাধ দমনের বার্তা কীভাবে যাবে সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। (ধারাবাহিক প্রথম পর্ব)


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

জনতার হাতে ধরা‘বোট ডাকাত’কোরবান আলী রহিম এখন যুবদল নেতা?ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় চট্টগ্রাম

আপডেট সময় ১১:০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ডাকাতির সময় জনতার হাতে ধরাগাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল; পরিচয় পাল্টে এখন যুবদল নেতা সেজেছেন কোরবান আলী রহিম

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্র কোরবান আলী রহিম আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।একসময় পাঁচলাইশ থানা যুবলীগের কুখ্যাত নেতা হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে নিজেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের একজন“প্রভাবশালী নেতা”হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে কর্ণফুলী এলাকায় বোট ডাকাতির অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়া,গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের একটি ভিডিও,যেখানে কোরবান আলী রহিমকে শনাক্ত করার দাবি করছেন স্থানীয়রা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়,কয়েক ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে উত্তেজিত জনতা। অত্র ডাকাতির মূল হোতা ছিলেন এই রহিম,একপর্যায়ে তাদেরকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়।ভিডিওতে উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে ক্ষোভ,উত্তেজনা ও ক্ষতির প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি,ভিডিওতে যাদেরকে দেখা যাচ্ছে একজন কোরবান আলী রহিম এবং ওই সময় তিনি কর্ণফুলী এলাকায় বোট ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন তার বাহিনী নিয়ে।স্থানীয়রা হাতেনাতে তাদেরকে ধরে ফেলার পরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বোট ডাকাতির আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাঝেমধ্যে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান,জেলেদের বোট ও পণ্যবাহী ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।এমন প্রেক্ষাপটে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করার সময় কোরবান আলী রহিমকে আটক করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ডাকাতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং উত্তমধ্যম দেয়।

যদিও ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত ছিল না বলে দাবি স্থানীয়দের, তবে প্রশ্ন উঠেছে এত বড় একটি ঘটনায় পরবর্তীতে আইনগত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ কেন চোখে পড়েনি?বরং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন এমন অভিযোগে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে কোরবান আলী রহিমের রাজনৈতিক পরিচয় বদল।এলাকাবাসীর একাংশের দাবি,তিনি একসময় পাঁচলাইশ থানা যুবলীগের প্রভাবশালী ও কুখ্যাত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ শোনা গেলেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বারবার পার পেয়ে যান।

বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোরবান আলী রহিম নিজেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দলীয় পরিচয় বদলে তিনি নতুন রাজনৈতিক ছাতার নিচে নিজেকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করছে,কোরবান আলী রহিম কুখ্যাত কিশোর গ্যাং যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত সাবেক আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।অভিযোগ রয়েছে, মোবারক আলীর রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোরবান আলী রহিম এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়তেন।
বিগত সরকারের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলীর প্রভাব ছিল ব্যাপক।স্থানীয়দের মতে, সেই ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় কোরবান আলী রহিম একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েও আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন।এখন রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পুরনো অপকর্মের ইতিহাস চাপা দিয়ে নতুন পরিচয়ে সামনে আসার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ডাকাতির মতো গুরুতর অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরও যদি কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন,তবে আইনশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক এমনটাই বলছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,কোরবান আলী রহিমের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব অভিযোগ উঠেছে,সেগুলোর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা দৃশ্যমান বিচার হয়নি।বরং প্রতিবারই তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে আড়াল করেছেন। এতে অপরাধপ্রবণতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধীদের পুনর্বাসনের এই সংস্কৃতি কি কখনো বন্ধ হবে না?কেউ কেউ আবার মন্তব্য করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় যেন এখন অপরাধ থেকে রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, অনেক নেটিজেন দাবি করছেন, ভিডিওতে দেখা ঘটনার সত্যতা যাচাই করে কোরবান আলী রহিমের বিরুদ্ধে অতীত ও বর্তমান অভিযোগগুলো নতুন করে তদন্ত করা জরুরি।প্রয়োজনে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপির যুবদল বা সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোরবান আলী রহিমকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি,কোনো রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। নচেৎ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে প্রতিবেদকের হাতে কোরবান আলী রহিমের একাধিক ভিডিও,ছবি এবং বিভিন্ন অপকর্মের তথাকথিত আমলনামা রয়েছে বলে জানা গেছে।এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পেলে বিষয়টি আরও বিস্তৃত আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিষয় নয় এটি রাজনৈতিক শুদ্ধতা,আইনশাসন এবং অপরাধ দমনের প্রশ্ন।বোট ডাকাতির অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়ার ভিডিও প্রকাশের পরও যদি কেউ নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন,তবে সেই সমাজে অপরাধ দমনের বার্তা কীভাবে যাবে সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। (ধারাবাহিক প্রথম পর্ব)


প্রিন্ট