ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জামালপুরে ৪টি ইফতার সামগ্রীর দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা Logo লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ সিম বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ জন Logo বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি আটক Logo আনোয়ারায় রাতের আঁধারে পরৈকোড়া ইউনিয়নের সাদ্দামের বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ, Logo বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে ইটভাটা, পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতি Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা Logo আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের Logo বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা Logo নাসিরনগরে অবৈধ মাটি কাটায় দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা, ৫ ট্রাক্টর জব্দ

সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১১:৫৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৯ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

বিগত সরকারের আমলে এই চরমোনাইয়ের সোজা নিয়েছেন এখন সব জায়গায় ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট
ভাঙনের মুখে পড়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। চরমোনাইর পীরের কারণে মূলত জোটে এই ভাঙন। জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও চরমোনাই তাতে নাখোশ। চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী অন্দোলনের ধারণা, দেশব্যাপী তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই তারা আরও বেশি আসনের দাবিদার। এই অবস্থানে তারা অনড় থাকায় দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছা যায়নি। এমনকি জামায়াত ৪০ অসনের পর কিছু আসন উন্মুক্ত রাখতেও রাজি ছিল, কিন্তু চরমোনাই তাতেও রাজি না হওয়ায় ভাঙনের মুখে পড়েছে জোট ।

এদিকে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ায় তারাও বেশি আসন দাবি করছে। তাদের সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত বনিবনা এখনো হয়নি। শেষ পর্যন্ত দল দুটি ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচন করতে পারে বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি শেষ করে ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা সফল হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রাথমিক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চরমোনাইর পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে তাদের কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই ছাড়ের ফলে দল দুটি জামায়াতের সাথে বার্গেনিং-এর বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

আট দলীয় ইসলামী জোটের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত আন্দোলন করে আসছিল এবং জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পরই ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

এনসিপিসহ নতুন তিন দলের সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য হওয়ার পর থেকেই জামায়াত জোটে ইসলামি অন্য দলগুলোর গুরুত্ব কমতে থাকে। ভাগে কম সিট পাওয়ার ভয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহও কমতে থাকে। কারণ তারা বুঝতে পারে, এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় তাদের পক্ষে জামায়াতকে চাপে রাখার শক্তিও কমে গেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরদিন দেখা যায় ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সময় কম পাওয়ায় এটা হয়েছে। আলোচনা করে তারা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করবেন। এনিসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দেয় জামায়াত। এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ অসন মেনে নিয়েছে।

জামায়াতের নেতৃত্বে আট ইসলামি দলের জোটে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে।

এসআই


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ৪টি ইফতার সামগ্রীর দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট

আপডেট সময় ১১:৫৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিগত সরকারের আমলে এই চরমোনাইয়ের সোজা নিয়েছেন এখন সব জায়গায় ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট
ভাঙনের মুখে পড়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। চরমোনাইর পীরের কারণে মূলত জোটে এই ভাঙন। জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও চরমোনাই তাতে নাখোশ। চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী অন্দোলনের ধারণা, দেশব্যাপী তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই তারা আরও বেশি আসনের দাবিদার। এই অবস্থানে তারা অনড় থাকায় দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছা যায়নি। এমনকি জামায়াত ৪০ অসনের পর কিছু আসন উন্মুক্ত রাখতেও রাজি ছিল, কিন্তু চরমোনাই তাতেও রাজি না হওয়ায় ভাঙনের মুখে পড়েছে জোট ।

এদিকে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ায় তারাও বেশি আসন দাবি করছে। তাদের সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত বনিবনা এখনো হয়নি। শেষ পর্যন্ত দল দুটি ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচন করতে পারে বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি শেষ করে ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা সফল হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রাথমিক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চরমোনাইর পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে তাদের কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই ছাড়ের ফলে দল দুটি জামায়াতের সাথে বার্গেনিং-এর বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

আট দলীয় ইসলামী জোটের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত আন্দোলন করে আসছিল এবং জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পরই ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

এনসিপিসহ নতুন তিন দলের সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য হওয়ার পর থেকেই জামায়াত জোটে ইসলামি অন্য দলগুলোর গুরুত্ব কমতে থাকে। ভাগে কম সিট পাওয়ার ভয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহও কমতে থাকে। কারণ তারা বুঝতে পারে, এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় তাদের পক্ষে জামায়াতকে চাপে রাখার শক্তিও কমে গেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরদিন দেখা যায় ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সময় কম পাওয়ায় এটা হয়েছে। আলোচনা করে তারা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করবেন। এনিসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দেয় জামায়াত। এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ অসন মেনে নিয়েছে।

জামায়াতের নেতৃত্বে আট ইসলামি দলের জোটে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে।

এসআই


প্রিন্ট