ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!! Logo সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো Logo সায়েন্সল্যাব অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ Logo বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা মৃত্যুবরণ করেছেন Logo ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ Logo সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট Logo আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, ভারতে ঝুঁকি আছে: ক্রীড়া উপদেষ্টা

কর ফাঁকির মামলায় শীর্ষে থাকা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত হওয়া সত্ত্ব আবারো মনোনয়নপত্র পাওয়ার অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধেই বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলের কম-বেশি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।

তবে সবাইকে পেছনে ফেলে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু দুর্নীতি আর কর খেলাপি মামলার শীর্ষে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় প্রচার হওয়ার পর এনিয়ে দুই উপজেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে।

নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি থেকে ক্লীন ইমেজের প্রার্থী দেয়ার ঘোষনা দিলেও বরিশাল-২ আসনে দুর্নীতি আর কর ফাঁকির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারপরও ডিসির নির্দেশে মনোনয়নপত্র পান কিভাবে এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে।কেউ কেউ দাবি করছে ডিসিকে বিপুল পরিমান অর্থ ঘুষ দিয়ে তিনি মনোনয়ন বৈধ করিয়েছে।
তবে কি আবারো নির্বাচন সঠিক হবে এ ব্যাপারে সন্দেহো প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্ধীতার জন্য ১০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সাথে হলফনামা সংযুক্ত করেছেন।

বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদের হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। যারমধ্যে পাঁচটি মামলাই দুর্নিতী দমন কমিশন আইনে দায়ের হওয়া। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির একটি মামলা রয়েছে। যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছিলো। যার তিনটিই আয়কর ফাঁকির মামলা। যা বর্তমানে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

অপরদিকে ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন বাছাইয়ে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা
একটি সরকারি সংস্থার তথ্যমতে, আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার কারনে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রসাসক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করে।

করখেলাপীতে শ্রেষ্ট : বরিশাল-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে কেহই কর খেলাপি মামলায় অভিযুক্ত না থাকলেও তিনি (সরফুদ্দিন) কর খেলাপি মামলায় সবার উপরে অবস্থান করছেন।

ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এর সার্কেল-১৩৩ কার্যালয় সূত্রে পাওয়া ২০১৪ সালের এক নথিতে জানা গেছে, করবর্ষ ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০০৭-২০০৮ করবর্ষ পর্যন্ত তার কাছে করদাবী ছিলো ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা। জরিমানা হয় ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ২৩৫ টাকা। তার কাছে মোট দাবী ২০৭ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭ টাকা।

এবিষয়ে বরিশাল-২ আসনের একাধিক প্রার্থীরা বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নিতী ও কর ফাঁকির মামলা সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা করখেলাপি হয়েও যদি নির্বাচনের সুযোগ পায় তাহলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকেনা।

এবিষয়ে জানতে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর হলফনামায় দেওয়া (০১৭১১-৬৩২৫**) মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তাকে না পাওয়ায় কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

স্থানীয় সাধারন ভোটারদের মনে প্রশ্ন কিভাবে দুর্নীতির শীর্ষে থাকা প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়??


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

কর ফাঁকির মামলায় শীর্ষে থাকা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত হওয়া সত্ত্ব আবারো মনোনয়নপত্র পাওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধেই বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলের কম-বেশি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।

তবে সবাইকে পেছনে ফেলে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু দুর্নীতি আর কর খেলাপি মামলার শীর্ষে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় প্রচার হওয়ার পর এনিয়ে দুই উপজেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে।

নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি থেকে ক্লীন ইমেজের প্রার্থী দেয়ার ঘোষনা দিলেও বরিশাল-২ আসনে দুর্নীতি আর কর ফাঁকির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারপরও ডিসির নির্দেশে মনোনয়নপত্র পান কিভাবে এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে।কেউ কেউ দাবি করছে ডিসিকে বিপুল পরিমান অর্থ ঘুষ দিয়ে তিনি মনোনয়ন বৈধ করিয়েছে।
তবে কি আবারো নির্বাচন সঠিক হবে এ ব্যাপারে সন্দেহো প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্ধীতার জন্য ১০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সাথে হলফনামা সংযুক্ত করেছেন।

বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদের হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। যারমধ্যে পাঁচটি মামলাই দুর্নিতী দমন কমিশন আইনে দায়ের হওয়া। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির একটি মামলা রয়েছে। যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছিলো। যার তিনটিই আয়কর ফাঁকির মামলা। যা বর্তমানে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

অপরদিকে ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন বাছাইয়ে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা
একটি সরকারি সংস্থার তথ্যমতে, আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার কারনে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রসাসক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করে।

করখেলাপীতে শ্রেষ্ট : বরিশাল-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে কেহই কর খেলাপি মামলায় অভিযুক্ত না থাকলেও তিনি (সরফুদ্দিন) কর খেলাপি মামলায় সবার উপরে অবস্থান করছেন।

ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এর সার্কেল-১৩৩ কার্যালয় সূত্রে পাওয়া ২০১৪ সালের এক নথিতে জানা গেছে, করবর্ষ ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০০৭-২০০৮ করবর্ষ পর্যন্ত তার কাছে করদাবী ছিলো ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা। জরিমানা হয় ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ২৩৫ টাকা। তার কাছে মোট দাবী ২০৭ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭ টাকা।

এবিষয়ে বরিশাল-২ আসনের একাধিক প্রার্থীরা বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নিতী ও কর ফাঁকির মামলা সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা করখেলাপি হয়েও যদি নির্বাচনের সুযোগ পায় তাহলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকেনা।

এবিষয়ে জানতে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর হলফনামায় দেওয়া (০১৭১১-৬৩২৫**) মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তাকে না পাওয়ায় কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

স্থানীয় সাধারন ভোটারদের মনে প্রশ্ন কিভাবে দুর্নীতির শীর্ষে থাকা প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়??


প্রিন্ট