ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিমান মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চাই: বিমানমন্ত্রী Logo হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করছে ইরান Logo মঠবাড়িয়া উপজেলায় বিপুল পরিমাণ গাজা উদ্ধার করেছে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ। Logo দিবসের শ্রমিকদলের সমাবেশ ষড়যন্ত্র ও অপশক্তির বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানে থাকার আহ্বান পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলমের। Logo টঙ্গী এরশাদ নগরে সেন্টুর সিন্ডিকেট মাদকের জালে আটকা যুব সমাজ এবং নেপথ্যে কারা Logo জামালপুরে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উদযাপিত, Logo সীতাকুণ্ডে বর্ণাঢ্য র‍্যালীর মাধ্যমে মহান মে দিবস উদযাপিত: প্রধান অতিথি আসলাম চৌধুরী এমপি Logo ৩৬০ জনের অলির রোজা শরীফ সারা বাংলায় কোন কোন জায়গায় Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহান মে দিবস উপলক্ষে জেলা নির্মাণ শ্রমিকের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo ইসলামপুরে মাইক্রো চালককে হত্যা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

অস্ত্রের মুখে পরিবার জিম্মি, ভাঙ্গুড়ায় পাঁচ জুয়েলার্স দোকান–তিন বাড়িতে দুই কোটি টাকার লুট

  • প্রতিনিধি,(পাবনা)
  • আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮৮ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারে গভীর রাতে স্পিডবোটযোগে ভয়ঙ্কর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক দু’টার দিকে ১২–১৫ জনের একটি ডাকাত দল বাজারে নেমে দুই নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলার পর পাঁচটি জুয়েলার্স দোকান ও তিন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। আড়াই ঘণ্টার এই তাণ্ডবে প্রায় দুই কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, আত্তাব জুয়েলার্স মালিক আত্তাব হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার, তপন জুয়েলার্স মালিক তপন কর্মকারের বাড়ি থেকে ৪২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং রতন জুয়েলার্স মালিক রতন কর্মকারের পরিবারকে মারধর করে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ লুট করে ডাকাতরা। এছাড়া উত্তম কর্মকার ও ইউসুফ আলীর জুয়েলার্স দোকানেও ডাকাতি করা হয়।

রতন কর্মকার বলেন, ‘ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকতেই আমি তিন তলায় উঠে প্রতিবেশীদের ফোন করি। কিন্তু কেউ আসেনি। পরে দীপকে ফোন করলেও বের হতে পারেনি, কারণ তার দরজার সামনে দুইজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়ে ছিল।’

রঞ্জন কর্মকার জানান, দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার নেওয়ার পর ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর মা ও তাঁকে মারধর করে। ‘আমাদের কাছ থেকে দশ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। তাদের হাতে বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র ছিল,’ বলেন তিনি।

লুটপাট শেষে ডাকাত দল ভোর সাড়ে চারটার দিকে স্পিডবোটে করে গুমানী নদীর ভাটির দিকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া সার্কেল) আবু বকর সিদ্দিক, পাবনা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম, ডিবির একটি টিম এবং ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কাজ। খুব শিগগিরই ডাকাতচক্রকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমান মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চাই: বিমানমন্ত্রী

অস্ত্রের মুখে পরিবার জিম্মি, ভাঙ্গুড়ায় পাঁচ জুয়েলার্স দোকান–তিন বাড়িতে দুই কোটি টাকার লুট

আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারে গভীর রাতে স্পিডবোটযোগে ভয়ঙ্কর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক দু’টার দিকে ১২–১৫ জনের একটি ডাকাত দল বাজারে নেমে দুই নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলার পর পাঁচটি জুয়েলার্স দোকান ও তিন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। আড়াই ঘণ্টার এই তাণ্ডবে প্রায় দুই কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, আত্তাব জুয়েলার্স মালিক আত্তাব হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার, তপন জুয়েলার্স মালিক তপন কর্মকারের বাড়ি থেকে ৪২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং রতন জুয়েলার্স মালিক রতন কর্মকারের পরিবারকে মারধর করে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ লুট করে ডাকাতরা। এছাড়া উত্তম কর্মকার ও ইউসুফ আলীর জুয়েলার্স দোকানেও ডাকাতি করা হয়।

রতন কর্মকার বলেন, ‘ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকতেই আমি তিন তলায় উঠে প্রতিবেশীদের ফোন করি। কিন্তু কেউ আসেনি। পরে দীপকে ফোন করলেও বের হতে পারেনি, কারণ তার দরজার সামনে দুইজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়ে ছিল।’

রঞ্জন কর্মকার জানান, দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার নেওয়ার পর ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর মা ও তাঁকে মারধর করে। ‘আমাদের কাছ থেকে দশ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। তাদের হাতে বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র ছিল,’ বলেন তিনি।

লুটপাট শেষে ডাকাত দল ভোর সাড়ে চারটার দিকে স্পিডবোটে করে গুমানী নদীর ভাটির দিকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া সার্কেল) আবু বকর সিদ্দিক, পাবনা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম, ডিবির একটি টিম এবং ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কাজ। খুব শিগগিরই ডাকাতচক্রকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।


প্রিন্ট