ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত Logo ঈদের আগের দিন রাজধানীতে ঝড়-বৃষ্টি Logo কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন Logo নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি উদ্ধার সম্পন্ন, লাইন স্থাপনের কাজ চলছে Logo মহম্মদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ পেল ৫৮৫ জন Logo জামালপুরে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo জামালপুরে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo শ’হীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রু’হের মা’গফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল Logo বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ

অস্ত্রের মুখে পরিবার জিম্মি, ভাঙ্গুড়ায় পাঁচ জুয়েলার্স দোকান–তিন বাড়িতে দুই কোটি টাকার লুট

  • প্রতিনিধি,(পাবনা)
  • আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৯ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারে গভীর রাতে স্পিডবোটযোগে ভয়ঙ্কর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক দু’টার দিকে ১২–১৫ জনের একটি ডাকাত দল বাজারে নেমে দুই নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলার পর পাঁচটি জুয়েলার্স দোকান ও তিন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। আড়াই ঘণ্টার এই তাণ্ডবে প্রায় দুই কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, আত্তাব জুয়েলার্স মালিক আত্তাব হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার, তপন জুয়েলার্স মালিক তপন কর্মকারের বাড়ি থেকে ৪২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং রতন জুয়েলার্স মালিক রতন কর্মকারের পরিবারকে মারধর করে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ লুট করে ডাকাতরা। এছাড়া উত্তম কর্মকার ও ইউসুফ আলীর জুয়েলার্স দোকানেও ডাকাতি করা হয়।

রতন কর্মকার বলেন, ‘ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকতেই আমি তিন তলায় উঠে প্রতিবেশীদের ফোন করি। কিন্তু কেউ আসেনি। পরে দীপকে ফোন করলেও বের হতে পারেনি, কারণ তার দরজার সামনে দুইজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়ে ছিল।’

রঞ্জন কর্মকার জানান, দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার নেওয়ার পর ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর মা ও তাঁকে মারধর করে। ‘আমাদের কাছ থেকে দশ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। তাদের হাতে বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র ছিল,’ বলেন তিনি।

লুটপাট শেষে ডাকাত দল ভোর সাড়ে চারটার দিকে স্পিডবোটে করে গুমানী নদীর ভাটির দিকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া সার্কেল) আবু বকর সিদ্দিক, পাবনা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম, ডিবির একটি টিম এবং ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কাজ। খুব শিগগিরই ডাকাতচক্রকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

অস্ত্রের মুখে পরিবার জিম্মি, ভাঙ্গুড়ায় পাঁচ জুয়েলার্স দোকান–তিন বাড়িতে দুই কোটি টাকার লুট

আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারে গভীর রাতে স্পিডবোটযোগে ভয়ঙ্কর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক দু’টার দিকে ১২–১৫ জনের একটি ডাকাত দল বাজারে নেমে দুই নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলার পর পাঁচটি জুয়েলার্স দোকান ও তিন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। আড়াই ঘণ্টার এই তাণ্ডবে প্রায় দুই কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, আত্তাব জুয়েলার্স মালিক আত্তাব হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার, তপন জুয়েলার্স মালিক তপন কর্মকারের বাড়ি থেকে ৪২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং রতন জুয়েলার্স মালিক রতন কর্মকারের পরিবারকে মারধর করে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ লুট করে ডাকাতরা। এছাড়া উত্তম কর্মকার ও ইউসুফ আলীর জুয়েলার্স দোকানেও ডাকাতি করা হয়।

রতন কর্মকার বলেন, ‘ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকতেই আমি তিন তলায় উঠে প্রতিবেশীদের ফোন করি। কিন্তু কেউ আসেনি। পরে দীপকে ফোন করলেও বের হতে পারেনি, কারণ তার দরজার সামনে দুইজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়ে ছিল।’

রঞ্জন কর্মকার জানান, দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার নেওয়ার পর ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর মা ও তাঁকে মারধর করে। ‘আমাদের কাছ থেকে দশ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। তাদের হাতে বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র ছিল,’ বলেন তিনি।

লুটপাট শেষে ডাকাত দল ভোর সাড়ে চারটার দিকে স্পিডবোটে করে গুমানী নদীর ভাটির দিকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া সার্কেল) আবু বকর সিদ্দিক, পাবনা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম, ডিবির একটি টিম এবং ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কাজ। খুব শিগগিরই ডাকাতচক্রকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।


প্রিন্ট