ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন Logo নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি উদ্ধার সম্পন্ন, লাইন স্থাপনের কাজ চলছে Logo মহম্মদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ পেল ৫৮৫ জন Logo জামালপুরে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo জামালপুরে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo শ’হীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রু’হের মা’গফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল Logo বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ Logo ইরানে লারিজানি-সোলেইমানিসহ নৌসেনাদের জানাজা অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর এান তহবিল থেকে পীরগঞ্জে ৩শ পরিবারের মাঝে ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ 

অবৈধ লটারিতে প্রশাসনের নীরবতা: পুরস্কারের প্রলোভনে নিঃস্ব সাধারণ মানুষ

দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার থানাপাড়া খেলার মাঠে এন.এস ক্লাবের আয়োজনে লটারি–২০২৫ নামে একটি বৃহৎ লটারির আয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, এই লটারি কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, যা লটারি আইন ২০১২-এর ধারা ৫ ও ৬ অনুযায়ী স্পষ্টতই অবৈধ।

প্রতি টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। আয়োজকরা মোট ১৫১টি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন— যার মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, সেলাই মেশিনসহ নানা আকর্ষণীয় পণ্য। টিকিটে উল্লেখ ছিল ১৬ অক্টোবর ড্র অনুষ্ঠিত হবে, তবে পরবর্তীতে তা পিছিয়ে ২০ অক্টোবর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব পুরস্কারের লোভে পড়ে অনেক সাধারণ মানুষ ধার–দেনা করে টিকিট কিনেছেন, যা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লটারির ড্র ও পুরস্কার বিতরণে অস্বচ্ছতা ও প্রতারণার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অনুমোদনহীন লটারি শুধু মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনে না, বরং এটি জুয়া ও প্রতারণার এক রূপ, যা সমাজে অসাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

একজন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছরই এমন নামে–বেনামে লটারি হয়। প্রশাসন জানে, তবুও কোনো ব্যবস্থা নেয় না। মানুষ টাকাপয়সা খরচ করে, শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুমোদনহীন লটারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষতি রোধ করা যায়।

এবিষয়ে অবৈধ লটারির আয়োজক এন.এস ক্লাবের কমিটির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা ফোন করে রিসিভ করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান বলেন, লটারির বিষয়টি তদন্তের জন্য ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম জানান, পূজার আগে আয়োজকরা অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু আমরা অনুমতি দিইনি। যদি তারা অবৈধভাবে লটারি পরিচালনা করে থাকে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন

অবৈধ লটারিতে প্রশাসনের নীরবতা: পুরস্কারের প্রলোভনে নিঃস্ব সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় ১০:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার থানাপাড়া খেলার মাঠে এন.এস ক্লাবের আয়োজনে লটারি–২০২৫ নামে একটি বৃহৎ লটারির আয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, এই লটারি কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, যা লটারি আইন ২০১২-এর ধারা ৫ ও ৬ অনুযায়ী স্পষ্টতই অবৈধ।

প্রতি টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। আয়োজকরা মোট ১৫১টি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন— যার মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, সেলাই মেশিনসহ নানা আকর্ষণীয় পণ্য। টিকিটে উল্লেখ ছিল ১৬ অক্টোবর ড্র অনুষ্ঠিত হবে, তবে পরবর্তীতে তা পিছিয়ে ২০ অক্টোবর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব পুরস্কারের লোভে পড়ে অনেক সাধারণ মানুষ ধার–দেনা করে টিকিট কিনেছেন, যা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লটারির ড্র ও পুরস্কার বিতরণে অস্বচ্ছতা ও প্রতারণার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অনুমোদনহীন লটারি শুধু মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনে না, বরং এটি জুয়া ও প্রতারণার এক রূপ, যা সমাজে অসাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

একজন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছরই এমন নামে–বেনামে লটারি হয়। প্রশাসন জানে, তবুও কোনো ব্যবস্থা নেয় না। মানুষ টাকাপয়সা খরচ করে, শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুমোদনহীন লটারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষতি রোধ করা যায়।

এবিষয়ে অবৈধ লটারির আয়োজক এন.এস ক্লাবের কমিটির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা ফোন করে রিসিভ করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান বলেন, লটারির বিষয়টি তদন্তের জন্য ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম জানান, পূজার আগে আয়োজকরা অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু আমরা অনুমতি দিইনি। যদি তারা অবৈধভাবে লটারি পরিচালনা করে থাকে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট