ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভাঙ্গুড়ায় কর্মজীবী নারীদের ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল Logo টাকার খেলায় জড়িয়ে গণপূর্তের আশরাফুল Logo জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইল আসছেন বুধবার Logo বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক লোগো Logo হাসনাত আবদুল্লাহ ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে Logo শিশু নির্যাতন: স্ত্রীসহ বিমানের এমডি শফিকুর কারাগারে Logo ঠাকুরগাঁও—৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচন \ ত্রি—মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা Logo বুধবার বরিশালে যাচ্ছেন তারেক রহমান, চলছে মঞ্চ তৈরি: Logo মহম্মদপুর আইডিয়াল একাডেমীর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান -২০২৬ অনুষ্ঠিত Logo ‎উদিতা কিন্ডারগার্টেন এন্ড  হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক লোগো

  • অর্থ সম্পাদক
  • আপডেট সময় ০৮:২৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪১৫ কোটি ডলার বা ৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ‍মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এক পর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়—উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা রয়েছে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গুড়ায় কর্মজীবী নারীদের ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল

বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক লোগো

আপডেট সময় ০৮:২৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪১৫ কোটি ডলার বা ৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ‍মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এক পর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়—উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা রয়েছে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।


প্রিন্ট