ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন Logo নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি উদ্ধার সম্পন্ন, লাইন স্থাপনের কাজ চলছে Logo মহম্মদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ পেল ৫৮৫ জন Logo জামালপুরে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo জামালপুরে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo শ’হীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রু’হের মা’গফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল Logo বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ Logo ইরানে লারিজানি-সোলেইমানিসহ নৌসেনাদের জানাজা অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর এান তহবিল থেকে পীরগঞ্জে ৩শ পরিবারের মাঝে ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ 

ভাঙ্গুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শোকজে বিতর্ক

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আরাজি পার-ভাঙ্গুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে শোকজ নোটিশ ঘিরে এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইফফাত মোকারমার সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তিনি ঢাকার টোমা হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য তিনি নিয়মমাফিক ভাবে ৬ মাসের ছুটি নেন। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলেয়া ফেরদৌস শিখার স্বাক্ষরে পুনরায় গত ৩০জুলাই পর্যন্ত তার ছুটি অনুমোদন করা হয়।

ছুটি শেষে ৩১ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগ না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক মোছা. নিশাত রেহানা একই দিনে তাকে শোকজ করেন এবং ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, শোকজ নোটিশ ৩১ জুলাইয়ের হলেও তা সহকারী শিক্ষিকার ভাড়া বাসার মালিকের কাছে পৌঁছায় ৫ আগস্ট। এতে এলাকায় প্রধান শিক্ষকের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা চলছে। কেউ এটিকে নিয়মের অজ্ঞতা বলছেন, আবার কেউবা বলছেন সহকারী শিক্ষকের প্রতি প্রধান শিক্ষকের অনিচ্ছাকৃত হয়রানি।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক ইফফাত মোকাররমা বলেন,
আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে ঢাকায় অবস্থান করছি, এবং প্রধান শিক্ষক ৩১ তারিখে শোকজ করলেও আমাকে চিঠি দিয়েছে ৭ তারিখে তাই আমি শোকজের জবাব দেয়নি। আমার ছুটি শেষে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার ইচ্ছা থাকলেও যোগদান করতে পারছিনা কারণ আমার বিরুদ্ধে আমার এক বান্ধবী ভাঙ্গুড়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা করেছেন এবং ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার (ওসি) শফিকুল ইসলাম অভিযোগ তদন্ত ছাড়ায় রাজনৈতিক নেতার চাপে মামলা রুজু করেছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিশাত রেহানা বলেন,
“আমি নিয়মকানুন ভালোভাবে জানি না। ছুটি শেষের পরদিন ৩১ জুলাই তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় আমি শোকজ করেছি। পরে ৫ আগস্ট নিজে তার বাসায় গিয়ে চিঠি দিয়ে আসি এবং এক কপি এটিও স্যার আজিম হোসেনকে দিয়েছি।”

এদিকে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার(এটিও)মো. আজিম হোসেন বলেন, “শোকজের চিঠি আমি পাইনি। তবে নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক তিন দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলে তাকে শোকজ করা যায়। সহকারী শিক্ষক ইফফাত মোকারমার ছেলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছে বলে শুনেছি।”

উপজেলা শিক্ষা অফিসার(টিও)বলেন, শোকজ চিঠি আমি পাইনি। তবে গত ৭ আগস্ট প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন, যা আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এবং ওই সহকারী শিক্ষক বিনা বেতনে অর্জিত ছুটি নিয়েছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন

ভাঙ্গুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শোকজে বিতর্ক

আপডেট সময় ১০:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আরাজি পার-ভাঙ্গুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে শোকজ নোটিশ ঘিরে এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইফফাত মোকারমার সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তিনি ঢাকার টোমা হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য তিনি নিয়মমাফিক ভাবে ৬ মাসের ছুটি নেন। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলেয়া ফেরদৌস শিখার স্বাক্ষরে পুনরায় গত ৩০জুলাই পর্যন্ত তার ছুটি অনুমোদন করা হয়।

ছুটি শেষে ৩১ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগ না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক মোছা. নিশাত রেহানা একই দিনে তাকে শোকজ করেন এবং ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, শোকজ নোটিশ ৩১ জুলাইয়ের হলেও তা সহকারী শিক্ষিকার ভাড়া বাসার মালিকের কাছে পৌঁছায় ৫ আগস্ট। এতে এলাকায় প্রধান শিক্ষকের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা চলছে। কেউ এটিকে নিয়মের অজ্ঞতা বলছেন, আবার কেউবা বলছেন সহকারী শিক্ষকের প্রতি প্রধান শিক্ষকের অনিচ্ছাকৃত হয়রানি।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক ইফফাত মোকাররমা বলেন,
আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে ঢাকায় অবস্থান করছি, এবং প্রধান শিক্ষক ৩১ তারিখে শোকজ করলেও আমাকে চিঠি দিয়েছে ৭ তারিখে তাই আমি শোকজের জবাব দেয়নি। আমার ছুটি শেষে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার ইচ্ছা থাকলেও যোগদান করতে পারছিনা কারণ আমার বিরুদ্ধে আমার এক বান্ধবী ভাঙ্গুড়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা করেছেন এবং ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার (ওসি) শফিকুল ইসলাম অভিযোগ তদন্ত ছাড়ায় রাজনৈতিক নেতার চাপে মামলা রুজু করেছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিশাত রেহানা বলেন,
“আমি নিয়মকানুন ভালোভাবে জানি না। ছুটি শেষের পরদিন ৩১ জুলাই তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় আমি শোকজ করেছি। পরে ৫ আগস্ট নিজে তার বাসায় গিয়ে চিঠি দিয়ে আসি এবং এক কপি এটিও স্যার আজিম হোসেনকে দিয়েছি।”

এদিকে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার(এটিও)মো. আজিম হোসেন বলেন, “শোকজের চিঠি আমি পাইনি। তবে নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক তিন দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলে তাকে শোকজ করা যায়। সহকারী শিক্ষক ইফফাত মোকারমার ছেলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছে বলে শুনেছি।”

উপজেলা শিক্ষা অফিসার(টিও)বলেন, শোকজ চিঠি আমি পাইনি। তবে গত ৭ আগস্ট প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন, যা আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এবং ওই সহকারী শিক্ষক বিনা বেতনে অর্জিত ছুটি নিয়েছে।


প্রিন্ট