ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রামুর শ্রীমুরায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সিএনজির ড্রাইভিং সিটের নিচে মিলল ৩০ হাজার ইয়াবা, কারবারি গ্রেপ্তার। Logo ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘অকার্যকর’ Logo আবু সাঈদ ভেবেছিলেন সামনে মানুষ, তবে ‘তারা ছিল অমানুষ’ Logo এরা হলুদ সাংবাদিকতা ছাড়বে কখন, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের Logo প্রত্যেক শহীদের রক্তের মূল্য আদায় করা হবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Logo ১০ এপ্রিল: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? Logo আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে হিরোইনসহ মাদক ব্যবসা ডিবি পুলিশের অভিযানে হিরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী সুজন ও সোহাগ গ্রেফতার Logo পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের ৩য় কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন Logo উপকূলে তালগাছ বাড়াতে প্রশিক্ষণ, বনায়নে নতুন উদ্যোগ মোংলায় Logo কসবা-আখাউড়ায় বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন: শুরু হচ্ছে দুটি মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ

আবৃত্তির আলোকবর্তিকা রনজিৎ রক্ষিতের ৭৮তম জন্মদিনে স্মরণসভা থিয়েটার ইন্সটিটিউটে আবেগঘন আয়োজন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২৪ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

আবৃত্তি শিল্পের প্রাণপুরুষ,বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ও বোধন আবৃত্তি স্কুল চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ,বরেণ্য শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক প্রয়াত রনজিৎ রক্ষিতের ৭৮তম জন্মদিন উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি)সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এ স্মরণানুষ্ঠান পরিণত হয় আবৃত্তি,গান ও কথামালায় ভরপুর এক প্রাণপ্রাচুর্যে উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

আবৃত্তি আন্দোলনের এই নির্ভীক পথিকৃতকে স্মরণ করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী, শিক্ষক,লেখক,গবেষক,সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা।স্মরণসভাটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রনজিৎ রক্ষিতের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সাধনা,মানবিকতা ও প্রজন্ম গঠনের নিরলস প্রয়াসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণায় অংশ নেন লেখক,ইতিহাস গবেষক ও সংগঠক কমলেশ দাশগুপ্ত। তিনি বলেন,রনজিৎ রক্ষিত ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠান।তিনি কেবল আবৃত্তি শেখাননি, তিনি মানুষ গড়েছেন।তার হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোকিত নাম।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সুভাষ দে বলেন,রনজিৎ রক্ষিতের কণ্ঠে কবিতা শুধু উচ্চারিত হতো না,কবিতার আত্মা জেগে উঠত।তার আবৃত্তি ছিল প্রতিবাদ,প্রেম ও মানবিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়।

দেশবরেণ্য আবৃত্তি শিল্পী,শিক্ষক ও সংগঠক অঞ্চল চৌধুরী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন,তিনি ছিলেন শুদ্ধতার প্রতীক।উচ্চারণে,চর্চায় ও দর্শনে তিনি কখনো আপস করেননি।সেই আদর্শ আজকের দিনে আরও বেশি প্রয়োজন।

বোধন আবৃত্তি পরিষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা,সাংস্কৃতিক সংগঠক আবদুল হালিম দোভাষ বলেন,রনজিৎ রক্ষিতের অবদান ছাড়া চট্টগ্রামের আবৃত্তি আন্দোলন কল্পনাই করা যায় না।বোধন আজ যে অবস্থানে,তার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তিনি।

বোধন আবৃত্তি পরিষদের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট নারায়ণ প্রসাদ বিশ্বাস বলেন,স্যার আমাদের শিখিয়েছেন সংস্কৃতি মানে দায়বদ্ধতা।সমাজের অন্যায়,অবিচার ও অসংগতির বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন‘তারুণ্য উচ্ছ্বাস’এর সভাপতি,বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম।তিনি বলেন,রনজিৎ রক্ষিতের মতো শিক্ষক পাওয়া সৌভাগ্যের।তিনি আমাদের আত্মবিশ্বাস শিখিয়েছেন,শিখিয়েছেন মঞ্চকে সম্মান করতে।

আঞ্চলিক শব্দের বিশিষ্ট ছড়াকার ও কবি উৎপল বড়ুয়া স্মরণ করে বলেন,তিনি আঞ্চলিকতাকে ভালোবাসতেন। ভাষার শেকড়কে ধারণ করেই তিনি শিল্পচর্চা করতেন।এই চর্চা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও বোধন আবৃত্তি পরিষদের সংগঠক প্রণব চৌধুরী বলেন,স্যারের শাসন ছিল স্নেহের,নির্দেশ ছিল প্রেরণার।তিনি আমাদের ভুল ধরিয়ে দিতেন,কিন্তু কখনো মন ভাঙতেন না।

স্মরণসভায় আবৃত্তি,গান ও কথামালায় অংশ নেন বোধন পরিবারের সদস্য ও রনজিৎ রক্ষিতের স্বজনেরা।কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে উঠে আসে তার জীবনদর্শন,সংস্কৃতি ভাবনা ও মানবিক চেতনা।গানে গানে স্মরণ করা হয় তার প্রিয় সুর ও সংগ্রামী জীবনবোধকে।পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।কেউ কেউ বলেন, রনজিৎ রক্ষিত আজ নেই,কিন্তু তার কণ্ঠ,শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের মাঝেই বেঁচে আছে।

স্মরণসভা শেষে আয়োজকেরা জানান,প্রয়াত রনজিৎ রক্ষিতের আদর্শ ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখতে বোধন আবৃত্তি পরিষদ ও বোধন আবৃত্তি স্কুল নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করবে।নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ উচ্চারণ,মুক্ত চিন্তা ও মানবিক সংস্কৃতির পথে গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে থিয়েটার ইন্সটিটিউট যেন এক সময়ের জন্য হয়ে উঠেছিল আবৃত্তির তীর্থভূমি।কবিতার শব্দে,স্মৃতির আলোয় এবং ভালোবাসার আবেশে আবারও ফিরে এলেন আবৃত্তি শিল্পের প্রাণপুরুষ রনজিৎ রক্ষিত নিঃশব্দে,কিন্তু গভীরভাবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামুর শ্রীমুরায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সিএনজির ড্রাইভিং সিটের নিচে মিলল ৩০ হাজার ইয়াবা, কারবারি গ্রেপ্তার।

আবৃত্তির আলোকবর্তিকা রনজিৎ রক্ষিতের ৭৮তম জন্মদিনে স্মরণসভা থিয়েটার ইন্সটিটিউটে আবেগঘন আয়োজন

আপডেট সময় ০১:০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আবৃত্তি শিল্পের প্রাণপুরুষ,বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ও বোধন আবৃত্তি স্কুল চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ,বরেণ্য শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক প্রয়াত রনজিৎ রক্ষিতের ৭৮তম জন্মদিন উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি)সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এ স্মরণানুষ্ঠান পরিণত হয় আবৃত্তি,গান ও কথামালায় ভরপুর এক প্রাণপ্রাচুর্যে উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

আবৃত্তি আন্দোলনের এই নির্ভীক পথিকৃতকে স্মরণ করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী, শিক্ষক,লেখক,গবেষক,সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা।স্মরণসভাটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রনজিৎ রক্ষিতের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সাধনা,মানবিকতা ও প্রজন্ম গঠনের নিরলস প্রয়াসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণায় অংশ নেন লেখক,ইতিহাস গবেষক ও সংগঠক কমলেশ দাশগুপ্ত। তিনি বলেন,রনজিৎ রক্ষিত ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠান।তিনি কেবল আবৃত্তি শেখাননি, তিনি মানুষ গড়েছেন।তার হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোকিত নাম।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সুভাষ দে বলেন,রনজিৎ রক্ষিতের কণ্ঠে কবিতা শুধু উচ্চারিত হতো না,কবিতার আত্মা জেগে উঠত।তার আবৃত্তি ছিল প্রতিবাদ,প্রেম ও মানবিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়।

দেশবরেণ্য আবৃত্তি শিল্পী,শিক্ষক ও সংগঠক অঞ্চল চৌধুরী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন,তিনি ছিলেন শুদ্ধতার প্রতীক।উচ্চারণে,চর্চায় ও দর্শনে তিনি কখনো আপস করেননি।সেই আদর্শ আজকের দিনে আরও বেশি প্রয়োজন।

বোধন আবৃত্তি পরিষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা,সাংস্কৃতিক সংগঠক আবদুল হালিম দোভাষ বলেন,রনজিৎ রক্ষিতের অবদান ছাড়া চট্টগ্রামের আবৃত্তি আন্দোলন কল্পনাই করা যায় না।বোধন আজ যে অবস্থানে,তার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তিনি।

বোধন আবৃত্তি পরিষদের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট নারায়ণ প্রসাদ বিশ্বাস বলেন,স্যার আমাদের শিখিয়েছেন সংস্কৃতি মানে দায়বদ্ধতা।সমাজের অন্যায়,অবিচার ও অসংগতির বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন‘তারুণ্য উচ্ছ্বাস’এর সভাপতি,বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম।তিনি বলেন,রনজিৎ রক্ষিতের মতো শিক্ষক পাওয়া সৌভাগ্যের।তিনি আমাদের আত্মবিশ্বাস শিখিয়েছেন,শিখিয়েছেন মঞ্চকে সম্মান করতে।

আঞ্চলিক শব্দের বিশিষ্ট ছড়াকার ও কবি উৎপল বড়ুয়া স্মরণ করে বলেন,তিনি আঞ্চলিকতাকে ভালোবাসতেন। ভাষার শেকড়কে ধারণ করেই তিনি শিল্পচর্চা করতেন।এই চর্চা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও বোধন আবৃত্তি পরিষদের সংগঠক প্রণব চৌধুরী বলেন,স্যারের শাসন ছিল স্নেহের,নির্দেশ ছিল প্রেরণার।তিনি আমাদের ভুল ধরিয়ে দিতেন,কিন্তু কখনো মন ভাঙতেন না।

স্মরণসভায় আবৃত্তি,গান ও কথামালায় অংশ নেন বোধন পরিবারের সদস্য ও রনজিৎ রক্ষিতের স্বজনেরা।কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে উঠে আসে তার জীবনদর্শন,সংস্কৃতি ভাবনা ও মানবিক চেতনা।গানে গানে স্মরণ করা হয় তার প্রিয় সুর ও সংগ্রামী জীবনবোধকে।পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।কেউ কেউ বলেন, রনজিৎ রক্ষিত আজ নেই,কিন্তু তার কণ্ঠ,শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের মাঝেই বেঁচে আছে।

স্মরণসভা শেষে আয়োজকেরা জানান,প্রয়াত রনজিৎ রক্ষিতের আদর্শ ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখতে বোধন আবৃত্তি পরিষদ ও বোধন আবৃত্তি স্কুল নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করবে।নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ উচ্চারণ,মুক্ত চিন্তা ও মানবিক সংস্কৃতির পথে গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে থিয়েটার ইন্সটিটিউট যেন এক সময়ের জন্য হয়ে উঠেছিল আবৃত্তির তীর্থভূমি।কবিতার শব্দে,স্মৃতির আলোয় এবং ভালোবাসার আবেশে আবারও ফিরে এলেন আবৃত্তি শিল্পের প্রাণপুরুষ রনজিৎ রক্ষিত নিঃশব্দে,কিন্তু গভীরভাবে।


প্রিন্ট