ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নব নির্বাচিত এমপি কামরুজ্জামান কামরুলের সাথে ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় Logo লালমনিরহাটে হরিজন অধিকার আদায় সংগঠনের মানববন্ধন Logo নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন ১২ বছর পর রায়ে স্বস্তি Logo কলেজগেটে স্থায়ী বাজারের দাবিতে ব্যবসায়ীদের আকুতি: আশ্বাস মিললেও ১৭ বছরেও হয়নি সমাধান Logo ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফের প্রস্তাব অনুমোদন Logo ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা Logo মোংলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত Logo কেওড়া জল মৃতদেহের ময়নাতদন্তের এসিড হিসাবে ব্যবহার করা হয়,যা দ্রব্যসামগ্রীর এক দোকানে কেওড়া জল পাওয়ায় জরিমানা, Logo তানোরে ছাগল চুরির ‘গডফাদার’ আলম সরদার, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী Logo একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার

নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন ১২ বছর পর রায়ে স্বস্তি

দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নেত্রকোনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হাসেম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার জাফর আলীর ছেলে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৩৮) মোহনগঞ্জ উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর ও রেজিয়া খাতুন—উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আবু বক্কর শ্বশুরবাড়ি বসন্তিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছালে আবু বক্কর নিজের পরনের শার্ট দিয়ে রেজিয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর লাশটি ঘরের পাশের খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলেকে ফোন করে ঘটনা জানান তিনি। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এ রায়ে নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও এলাকায় এখনও সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ভারী হয়ে আছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নব নির্বাচিত এমপি কামরুজ্জামান কামরুলের সাথে ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময়

নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন ১২ বছর পর রায়ে স্বস্তি

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নেত্রকোনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হাসেম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার জাফর আলীর ছেলে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৩৮) মোহনগঞ্জ উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর ও রেজিয়া খাতুন—উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আবু বক্কর শ্বশুরবাড়ি বসন্তিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছালে আবু বক্কর নিজের পরনের শার্ট দিয়ে রেজিয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর লাশটি ঘরের পাশের খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলেকে ফোন করে ঘটনা জানান তিনি। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এ রায়ে নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও এলাকায় এখনও সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ভারী হয়ে আছে।


প্রিন্ট