ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo নবীনগরে মতবিনিময় সভা: তৃণমূলে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আন্তরিকতার আহ্বান জেলা প্রশাসকের Logo অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে Logo কিশোর গঞ্জ জেলা ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের আদেশেও দায়িত্ব পাননি চেয়ারম্যান রিপন Logo ছয় মাসেও ফেরেনি প্রতিবন্ধী রাজ্জাকের দোকান, আশ্বাসেই থমকে আছে প্রশাসনিক উদ্যোগ Logo রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ Logo জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পায়নি ইইউ Logo কক্সবাজারে এমপি কাজলের প্রচেষ্টায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া হল বড় প্রকল্প Logo চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩

নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন ১২ বছর পর রায়ে স্বস্তি

দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নেত্রকোনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হাসেম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার জাফর আলীর ছেলে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৩৮) মোহনগঞ্জ উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর ও রেজিয়া খাতুন—উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আবু বক্কর শ্বশুরবাড়ি বসন্তিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছালে আবু বক্কর নিজের পরনের শার্ট দিয়ে রেজিয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর লাশটি ঘরের পাশের খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলেকে ফোন করে ঘটনা জানান তিনি। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এ রায়ে নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও এলাকায় এখনও সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ভারী হয়ে আছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন ১২ বছর পর রায়ে স্বস্তি

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নেত্রকোনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হাসেম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার জাফর আলীর ছেলে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৩৮) মোহনগঞ্জ উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর ও রেজিয়া খাতুন—উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আবু বক্কর শ্বশুরবাড়ি বসন্তিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছালে আবু বক্কর নিজের পরনের শার্ট দিয়ে রেজিয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর লাশটি ঘরের পাশের খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলেকে ফোন করে ঘটনা জানান তিনি। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এ রায়ে নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও এলাকায় এখনও সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ভারী হয়ে আছে।


প্রিন্ট