ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘অকার্যকর’ Logo আবু সাঈদ ভেবেছিলেন সামনে মানুষ, তবে ‘তারা ছিল অমানুষ’ Logo এরা হলুদ সাংবাদিকতা ছাড়বে কখন, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের Logo প্রত্যেক শহীদের রক্তের মূল্য আদায় করা হবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Logo ১০ এপ্রিল: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? Logo আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে হিরোইনসহ মাদক ব্যবসা ডিবি পুলিশের অভিযানে হিরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী সুজন ও সোহাগ গ্রেফতার Logo পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের ৩য় কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন Logo উপকূলে তালগাছ বাড়াতে প্রশিক্ষণ, বনায়নে নতুন উদ্যোগ মোংলায় Logo কসবা-আখাউড়ায় বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন: শুরু হচ্ছে দুটি মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ Logo কর্ম হারিয়ে দেশে আসা প্রবাসীদের নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছি: বিএনপি দলের শামা ওবায়েদ

নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন ১২ বছর পর রায়ে স্বস্তি

দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নেত্রকোনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হাসেম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার জাফর আলীর ছেলে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৩৮) মোহনগঞ্জ উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর ও রেজিয়া খাতুন—উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আবু বক্কর শ্বশুরবাড়ি বসন্তিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছালে আবু বক্কর নিজের পরনের শার্ট দিয়ে রেজিয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর লাশটি ঘরের পাশের খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলেকে ফোন করে ঘটনা জানান তিনি। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এ রায়ে নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও এলাকায় এখনও সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ভারী হয়ে আছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘অকার্যকর’

নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন ১২ বছর পর রায়ে স্বস্তি

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নেত্রকোনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হাসেম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার জাফর আলীর ছেলে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৩৮) মোহনগঞ্জ উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর ও রেজিয়া খাতুন—উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আবু বক্কর শ্বশুরবাড়ি বসন্তিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছালে আবু বক্কর নিজের পরনের শার্ট দিয়ে রেজিয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর লাশটি ঘরের পাশের খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলেকে ফোন করে ঘটনা জানান তিনি। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এ রায়ে নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও এলাকায় এখনও সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ভারী হয়ে আছে।


প্রিন্ট