ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ Logo জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পায়নি ইইউ Logo কক্সবাজারে এমপি কাজলের প্রচেষ্টায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া হল বড় প্রকল্প Logo চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩ Logo ভাঙ্গুড়ায় প্রধান শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম অডিটে ২১ লাখ বেতন ফেরতের সুপারিশ Logo কালিয়াকৈরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত Logo কালিয়াকৈরে দোকানে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি, নারী ব্যবসায়ীর ১৫ দিনের কারাদণ্ড Logo নওগাঁয় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মানবিক পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম Logo জামালপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে ঘরের উপর পড়ে ৩ জনের মৃত্যু, Logo হাসের দীঘিতে নয়, কলেজ গেট–মেহেরঘোনা অংশে ফায়ার সার্ভিস চায় জনগণ

রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ০ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংগৃহীত ছবি

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ। এদিন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, পারমাণবিক জ্বালানি আসলে কেমন? এটি কতটা নিরাপদ এবং ব্যবস্থাপনা হয় কীভাবে?

রূপপুরের চুল্লিতে এই বিশেষ জ্বালানি লোড করার মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা। মাত্র কয়েক গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, তার জন্য প্রয়োজন হয় কয়েক টন কয়লা। অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার ফিশন প্রযুক্তিতে এই জ্বালানি ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদায় বিপ্লব আনা হবে।

পারমাণবিক জ্বালানি কী?

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি শক্তির মূল উপাদান হলো ক্ষুদ্র আকৃতির ইউরেনিয়াম পেলেট। এটি তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ভিন্ন। এটি মূলত ইউরেনিয়াম- ২৩৫ এর সমৃদ্ধ ধাতব পদার্থ।

এ রকম কয়েকশ পেলেট একটি নিশ্ছিদ্র ধাতব টিউবে ঢোকানো থাকে। এই ধাতব টিউবই ফুয়েল রড হিসেবে পরিচিত। অনেকগুলো ফুয়েল রড একসঙ্গে যুক্ত করে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। একটি ফুয়েল এসেম্বলি লম্বায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মিটার পর্যন্ত হয়। আর এ রকম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি জ্বালানি হিসেবে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়। বাংলাদেশে ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি চুল্লিতে এমন ১৬৩টিফুয়েল এসেম্বলি লোড করা হবে। খনির আকরিক থেকে নানা প্রক্রিয়া করে তৈরি করা হয় ইউরেনিয়ামের এই জ্বালানি।

কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে?

তেল গ্যাস বা কয়লার মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমনের কোনো সুযোগ নেই। তাই এটিকে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ও নির্মল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি বলা হয়।

গ্যাস, কয়লা বা তেল যেভাবে পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় নিউক্লিয়ার ফুয়েল পোড়ানো হয় পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশান বিক্রিয়ার মাধ্যমে যেখানে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজন ঘটে।এর ফলে প্রচুর তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে।

পারমাণবিক চুল্লিতে এটি একধরনের নিয়ন্ত্রিত চেইন রিয়্যাকশন। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি থেকে আবার ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি পাওয়া যায় বিধায় অনেকে এই জ্বালানিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবেও অভিহিত করেন।

নিউক্লিয়ার ফুয়েলের শক্তি অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এই ক্ষুদ্র আকারের মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে তার জন্য কয়লা লাগবে চারশ কেজি , গ্যাস লাগবে ৩৬০ ঘনমিটার।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ

রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ

আপডেট সময় ০৩:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংগৃহীত ছবি

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ। এদিন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, পারমাণবিক জ্বালানি আসলে কেমন? এটি কতটা নিরাপদ এবং ব্যবস্থাপনা হয় কীভাবে?

রূপপুরের চুল্লিতে এই বিশেষ জ্বালানি লোড করার মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা। মাত্র কয়েক গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, তার জন্য প্রয়োজন হয় কয়েক টন কয়লা। অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার ফিশন প্রযুক্তিতে এই জ্বালানি ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদায় বিপ্লব আনা হবে।

পারমাণবিক জ্বালানি কী?

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি শক্তির মূল উপাদান হলো ক্ষুদ্র আকৃতির ইউরেনিয়াম পেলেট। এটি তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ভিন্ন। এটি মূলত ইউরেনিয়াম- ২৩৫ এর সমৃদ্ধ ধাতব পদার্থ।

এ রকম কয়েকশ পেলেট একটি নিশ্ছিদ্র ধাতব টিউবে ঢোকানো থাকে। এই ধাতব টিউবই ফুয়েল রড হিসেবে পরিচিত। অনেকগুলো ফুয়েল রড একসঙ্গে যুক্ত করে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। একটি ফুয়েল এসেম্বলি লম্বায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মিটার পর্যন্ত হয়। আর এ রকম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি জ্বালানি হিসেবে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়। বাংলাদেশে ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি চুল্লিতে এমন ১৬৩টিফুয়েল এসেম্বলি লোড করা হবে। খনির আকরিক থেকে নানা প্রক্রিয়া করে তৈরি করা হয় ইউরেনিয়ামের এই জ্বালানি।

কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে?

তেল গ্যাস বা কয়লার মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমনের কোনো সুযোগ নেই। তাই এটিকে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ও নির্মল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি বলা হয়।

গ্যাস, কয়লা বা তেল যেভাবে পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় নিউক্লিয়ার ফুয়েল পোড়ানো হয় পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশান বিক্রিয়ার মাধ্যমে যেখানে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজন ঘটে।এর ফলে প্রচুর তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে।

পারমাণবিক চুল্লিতে এটি একধরনের নিয়ন্ত্রিত চেইন রিয়্যাকশন। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি থেকে আবার ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি পাওয়া যায় বিধায় অনেকে এই জ্বালানিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবেও অভিহিত করেন।

নিউক্লিয়ার ফুয়েলের শক্তি অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এই ক্ষুদ্র আকারের মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে তার জন্য কয়লা লাগবে চারশ কেজি , গ্যাস লাগবে ৩৬০ ঘনমিটার।


প্রিন্ট