ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!! Logo সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো Logo সায়েন্সল্যাব অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ Logo বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা মৃত্যুবরণ করেছেন Logo ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ Logo সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট Logo আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, ভারতে ঝুঁকি আছে: ক্রীড়া উপদেষ্টা

যত্রতত্র একতান্ত্রিক দলীয় ভূমিদস্যদের হাউজিং প্রকল্প আর নয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০২:০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫
  • ৪৭ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

এখন থেকে যত্রতত্র আবাসন বা হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। হাউজিং বা আবাসন প্রকল্পের জন্য যে কোনো পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হলে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদন নিতে হবে। সরকারি দপ্তর বা সংস্থা ভূমি অধিগ্রহণ করে ব্যবহার না করলে তা বাতিল (রিজিউম) এবং আবাসন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সকল জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ দুটি নির্দেশনা দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সব জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৪৮তম সভায় নেওয়া দুটি সিদ্ধান্ত তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার অনুকূলে এর আগে অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি ওই দপ্তর বা সংস্থা ব্যবহার না করলে বা অব্যবহৃত থাকলে এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে রিজিউম করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকরা প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। যত্রতত্র আবাসন বা হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। হাউজিং বা আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হলে যে কোনো পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এমন অবস্থায়, ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৪৮তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এবং প্রথম গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতি মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদন (অগ্রগতি না থাকলে শূন্য প্রতিবেদন) নির্ধারিত ছকে (হার্ড কপি ও সফট কপি) পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে। শহর এলাকার কাছাকাছি গ্রামীণ ভূমি চিহ্নিত করে আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা হবে। বন্যাকবলিত এলাকা ও উর্বর কৃৃষিজমি এর বাইরে থাকবে। সরকারি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোটা থাকবে। সমবায় সমিতি ও অলাভজনক সংস্থাকে ভূমি উন্নয়ন কর্মকা-ে উৎসাহিত করা হবে। উঁচু ভবন উৎসাহিত করা হবে। নগর এলাকার অব্যবহৃত খাস জমি নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ভূমি ব্যাংক গঠন করবে। গ্রামাঞ্চলের খাস জমি ও চর নিয়ে গ্রামীণ ভূমি ব্যাংক করা হবে। প্রয়োজনে জমি কিনে ভূমি ব্যাংক সমৃদ্ধ করা হবে। উচ্চবিত্তের কাছে আবাসন শিল্প-বাণিজ্যের জন্য প্লট বিক্রি করে যে মুনাফা হবে তা থেকে নি¤œবিত্তদের জমি দেওয়ায় ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হবে। ফ্ল্যাটের বেলায়ও ভর্তুকি দেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০০১ অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি করতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিতে হবে। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে বহুতল ভবন করতে অবশ্যই নকশা অনুমোদন করতে হবে।

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, দেশে জমির পরিমাণ এক কোটি ৪৯ লাখ ২১ হাজার হেক্টর এবং এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ২৬৬ হেক্টর এবং অনাবাদি জমির পরিমাণ দুই লাখ ২৫ হাজার ৫৫১ একর বা ৯১ হাজার ২৭৭ হেক্টর। এর মধ্যে প্রতি বছর প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি রূপান্তরিত হচ্ছে এবং অকৃষি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে বড় বড় দালানকোঠা, কলকারখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাউজিং প্রকল্প। কিন্তু এখন থেকে যত্রতত্র আবাসন বা হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেয়া যাবে না। আগে কৃষি জমি রক্ষা করতে হবে। এ কারণে আমরা একটি চিঠি ডিসিদের পাঠিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কিছু ভুয়া কোম্পানি প্লট দেয়ার নামে জনগনের কাছে টাকা নিয়ে প্রতারণা করছে। এগুলো বন্ধে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে করে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য আরো ভালো হবে।

জানা গেছে, জমি নেই-জায়গা নেই এমন ভুইফোঁর রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর প্রতারণা এবং অব্যবস্থাপনারও অন্যতম নাম এই খাত। হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, লাখো গ্রাহকের স্বপ্ন, চাকরিপ্রত্যাশীদের আশা-সবকিছু অসাধু রিয়েল এস্টেট কোম্পানির প্রতারণার ফাঁদে বিপন্ন। প্লট বিক্রির প্রতারণা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষজন থেকে শুরু করে বিত্তশালী সবার পকেট থেকেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। তাই সরকারি দপ্তর বা সংস্থা ভূমি অধিগ্রহণ করে ব্যবহার না করলে তা বাতিল (রিজিউম) এবং আবাসন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নেওয়া ও নিবন্ধন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগে এসব কোম্পানির নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কোম্পানির লে-আউট করে বা প্লট তৈরি করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়ে প্রকল্প নিতে হয়। কিন্তু অনেক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এমন বিধানের তোয়াক্কা করছে না। নিজেদের ইচ্ছামতো বেশিরভাগ প্লট তৈরি না করেই জমি বিক্রি ও প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোতে যে সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকার নিয়ম আছে, সেটাও তাদের নেই। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ নবায়ন করতে হয়; কিন্তু সনদ বাতিল হওয়া ৩৬টি কোম্পানির বেশিরভাগেরই সনদ সাত থেকে নয় বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। এক চিঠিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সনদ নবায়ন না করায় এসব কোম্পানিকে একাধিকবার চিঠি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তারা বিষয়টি তোয়াক্কা করেনি। এসব কোম্পানির অফিসের যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেসব জায়গায় তাদের অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় গৃহায়নের কর্মকর্তারা। পরে তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের লোকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

৩৬টি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নিবন্ধন বাতিল হওয়ার চিঠিতে বলা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৪ উপধারা (২)(ঘ) ও রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১১-এর বিধি ৫ অনুযায়ী নি¤œবর্ণিত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমা ৫ (পাঁচ) বছর অতিক্রান্ত হওয়া এবং শুনানিতে অংশগ্রহণ না করায়/সন্তোষজনক লিখিত জবাব প্রদান না করায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২৪২তম বোর্ড সভার ২১ নম্বর সিদ্ধান্তের আলোকে ২৬৬তম বোর্ড সভার ২৭ নম্বর সিদ্ধান্ত বর্ণিত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হলো। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় অনিবন্ধিত ডেভেলপার এবং অননুমোদিত প্রকল্প থেকে প্লট-ফ্ল্যাট ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ থেকে জনসাধারণকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, নিবন্ধন বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে. পারিজাত ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন, দিশারী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ভেনিস অব বেঙ্গল প্রপার্টিজ, বসুধা বিল্ডার্স, রূপান্তর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক প্রপার্টিজ, নেটওয়ার্ক ২০০৮ বিডি, বসুতি বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপারস, ভিশন ২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, প্রিমিয়াম হাউজিং এস্টেট, এনা প্রপার্টিজ, গ্রেট ওয়ালস ল্যান্ড প্রপার্টি, গ্লোরিয়াস প্রপার্টিজ, ম্যাক্সিম হোল্ডিংস (প্রা.) তুরিন হাউজিং, বিওসিএল ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রপার্টিজ, বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন, সাফিজ ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, আরডিপি প্রপার্টিজ, গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট, ভেনাস হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, এফআইসিএল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার, এসএফএল চন্দ্রিমা সিটি, হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট, হার্ব হোল্ডিংস, নবোদয় হাউজিং, আমাদের বাড়ী, নবধারা হাউজিং, রিচমন্ড ডেভেলপারস, পূবালী ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ড্রিম প্যারাডাইজ প্রপার্টিজ, সবুজ ছায়া আবাসন, ইউরো বাংলা হাউজিং, সৃজন হাউজিং এবং ম্যাগপাই হাউজিং লিমিটেড।

সরকারি বেসরকারী দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা এবং চটকদার প্রচার-প্রচারণাই এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজি। নামে-বেনামে প্রায় শতাধিক আবাসন প্রকল্পগুলোর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এর নীতি বহির্ভূত এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই তারা দেধারছে প্রকল্প পরিচালনা করছে। কেরানীগঞ্জসহ ধলেশ্বরী ব্রিজের পর পদ্মা মুখী সিরাজদিখান, শ্রীনগর, নিমতলা ঘুরে দেখা গেছে, পুরো উপজেলায় আবাসন আর হাউজিং প্রকল্পের হিড়িক পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও ড্রেজিং করে নিচু জমিতে বালু ফেলে ভরাট করে প্লট তৈরির কাজ চলছে। মাঠের পর মাঠ শত শত সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে অসংখ্য আবাসন।

কেরানীগঞ্জের নয় ইউনিয়নে ৮০টি আবাসন প্রকল্প : কেরানীগঞ্জে ১২টি ইউনিয়ন- হযরতপুর, কলাতিয়া, তারানগর, রোহিতপুর, শাক্তা, কালিন্দী, বাস্তা, তেঘরিয়া, শুভাঢ্যা, জিনজিরা, কোন্ডা ও আগানগর। শুধু হযরতপুর, জিনজিরা ও আগানগরে কোনো আবাসন প্রকল্প নেই। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের অনুমান, অন্য নয়টি ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় ৮০টির মতো আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আবাসন প্রকল্প হয়েছে তারানগর ইউনিয়নে, প্রায় ৪৫টি। মাইলের পর মাইলজুড়ে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির শত শত সাইনবোর্ড। কোনো কোনো আবাসনে বালু ভরাট চলছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

যত্রতত্র একতান্ত্রিক দলীয় ভূমিদস্যদের হাউজিং প্রকল্প আর নয়

আপডেট সময় ০২:০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

এখন থেকে যত্রতত্র আবাসন বা হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। হাউজিং বা আবাসন প্রকল্পের জন্য যে কোনো পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হলে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদন নিতে হবে। সরকারি দপ্তর বা সংস্থা ভূমি অধিগ্রহণ করে ব্যবহার না করলে তা বাতিল (রিজিউম) এবং আবাসন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সকল জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ দুটি নির্দেশনা দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সব জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৪৮তম সভায় নেওয়া দুটি সিদ্ধান্ত তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার অনুকূলে এর আগে অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি ওই দপ্তর বা সংস্থা ব্যবহার না করলে বা অব্যবহৃত থাকলে এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে রিজিউম করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকরা প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। যত্রতত্র আবাসন বা হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। হাউজিং বা আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হলে যে কোনো পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এমন অবস্থায়, ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৪৮তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এবং প্রথম গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতি মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদন (অগ্রগতি না থাকলে শূন্য প্রতিবেদন) নির্ধারিত ছকে (হার্ড কপি ও সফট কপি) পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে। শহর এলাকার কাছাকাছি গ্রামীণ ভূমি চিহ্নিত করে আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা হবে। বন্যাকবলিত এলাকা ও উর্বর কৃৃষিজমি এর বাইরে থাকবে। সরকারি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোটা থাকবে। সমবায় সমিতি ও অলাভজনক সংস্থাকে ভূমি উন্নয়ন কর্মকা-ে উৎসাহিত করা হবে। উঁচু ভবন উৎসাহিত করা হবে। নগর এলাকার অব্যবহৃত খাস জমি নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ভূমি ব্যাংক গঠন করবে। গ্রামাঞ্চলের খাস জমি ও চর নিয়ে গ্রামীণ ভূমি ব্যাংক করা হবে। প্রয়োজনে জমি কিনে ভূমি ব্যাংক সমৃদ্ধ করা হবে। উচ্চবিত্তের কাছে আবাসন শিল্প-বাণিজ্যের জন্য প্লট বিক্রি করে যে মুনাফা হবে তা থেকে নি¤œবিত্তদের জমি দেওয়ায় ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হবে। ফ্ল্যাটের বেলায়ও ভর্তুকি দেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০০১ অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি করতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিতে হবে। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে বহুতল ভবন করতে অবশ্যই নকশা অনুমোদন করতে হবে।

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, দেশে জমির পরিমাণ এক কোটি ৪৯ লাখ ২১ হাজার হেক্টর এবং এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ২৬৬ হেক্টর এবং অনাবাদি জমির পরিমাণ দুই লাখ ২৫ হাজার ৫৫১ একর বা ৯১ হাজার ২৭৭ হেক্টর। এর মধ্যে প্রতি বছর প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি রূপান্তরিত হচ্ছে এবং অকৃষি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে বড় বড় দালানকোঠা, কলকারখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাউজিং প্রকল্প। কিন্তু এখন থেকে যত্রতত্র আবাসন বা হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেয়া যাবে না। আগে কৃষি জমি রক্ষা করতে হবে। এ কারণে আমরা একটি চিঠি ডিসিদের পাঠিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কিছু ভুয়া কোম্পানি প্লট দেয়ার নামে জনগনের কাছে টাকা নিয়ে প্রতারণা করছে। এগুলো বন্ধে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে করে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য আরো ভালো হবে।

জানা গেছে, জমি নেই-জায়গা নেই এমন ভুইফোঁর রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর প্রতারণা এবং অব্যবস্থাপনারও অন্যতম নাম এই খাত। হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, লাখো গ্রাহকের স্বপ্ন, চাকরিপ্রত্যাশীদের আশা-সবকিছু অসাধু রিয়েল এস্টেট কোম্পানির প্রতারণার ফাঁদে বিপন্ন। প্লট বিক্রির প্রতারণা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষজন থেকে শুরু করে বিত্তশালী সবার পকেট থেকেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। তাই সরকারি দপ্তর বা সংস্থা ভূমি অধিগ্রহণ করে ব্যবহার না করলে তা বাতিল (রিজিউম) এবং আবাসন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নেওয়া ও নিবন্ধন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগে এসব কোম্পানির নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কোম্পানির লে-আউট করে বা প্লট তৈরি করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়ে প্রকল্প নিতে হয়। কিন্তু অনেক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এমন বিধানের তোয়াক্কা করছে না। নিজেদের ইচ্ছামতো বেশিরভাগ প্লট তৈরি না করেই জমি বিক্রি ও প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোতে যে সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকার নিয়ম আছে, সেটাও তাদের নেই। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ নবায়ন করতে হয়; কিন্তু সনদ বাতিল হওয়া ৩৬টি কোম্পানির বেশিরভাগেরই সনদ সাত থেকে নয় বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। এক চিঠিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সনদ নবায়ন না করায় এসব কোম্পানিকে একাধিকবার চিঠি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তারা বিষয়টি তোয়াক্কা করেনি। এসব কোম্পানির অফিসের যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেসব জায়গায় তাদের অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় গৃহায়নের কর্মকর্তারা। পরে তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের লোকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

৩৬টি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নিবন্ধন বাতিল হওয়ার চিঠিতে বলা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৪ উপধারা (২)(ঘ) ও রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১১-এর বিধি ৫ অনুযায়ী নি¤œবর্ণিত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমা ৫ (পাঁচ) বছর অতিক্রান্ত হওয়া এবং শুনানিতে অংশগ্রহণ না করায়/সন্তোষজনক লিখিত জবাব প্রদান না করায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২৪২তম বোর্ড সভার ২১ নম্বর সিদ্ধান্তের আলোকে ২৬৬তম বোর্ড সভার ২৭ নম্বর সিদ্ধান্ত বর্ণিত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হলো। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় অনিবন্ধিত ডেভেলপার এবং অননুমোদিত প্রকল্প থেকে প্লট-ফ্ল্যাট ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ থেকে জনসাধারণকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, নিবন্ধন বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে. পারিজাত ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন, দিশারী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ভেনিস অব বেঙ্গল প্রপার্টিজ, বসুধা বিল্ডার্স, রূপান্তর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক প্রপার্টিজ, নেটওয়ার্ক ২০০৮ বিডি, বসুতি বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপারস, ভিশন ২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, প্রিমিয়াম হাউজিং এস্টেট, এনা প্রপার্টিজ, গ্রেট ওয়ালস ল্যান্ড প্রপার্টি, গ্লোরিয়াস প্রপার্টিজ, ম্যাক্সিম হোল্ডিংস (প্রা.) তুরিন হাউজিং, বিওসিএল ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রপার্টিজ, বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন, সাফিজ ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, আরডিপি প্রপার্টিজ, গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট, ভেনাস হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, এফআইসিএল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার, এসএফএল চন্দ্রিমা সিটি, হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট, হার্ব হোল্ডিংস, নবোদয় হাউজিং, আমাদের বাড়ী, নবধারা হাউজিং, রিচমন্ড ডেভেলপারস, পূবালী ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ড্রিম প্যারাডাইজ প্রপার্টিজ, সবুজ ছায়া আবাসন, ইউরো বাংলা হাউজিং, সৃজন হাউজিং এবং ম্যাগপাই হাউজিং লিমিটেড।

সরকারি বেসরকারী দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা এবং চটকদার প্রচার-প্রচারণাই এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজি। নামে-বেনামে প্রায় শতাধিক আবাসন প্রকল্পগুলোর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এর নীতি বহির্ভূত এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই তারা দেধারছে প্রকল্প পরিচালনা করছে। কেরানীগঞ্জসহ ধলেশ্বরী ব্রিজের পর পদ্মা মুখী সিরাজদিখান, শ্রীনগর, নিমতলা ঘুরে দেখা গেছে, পুরো উপজেলায় আবাসন আর হাউজিং প্রকল্পের হিড়িক পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও ড্রেজিং করে নিচু জমিতে বালু ফেলে ভরাট করে প্লট তৈরির কাজ চলছে। মাঠের পর মাঠ শত শত সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে অসংখ্য আবাসন।

কেরানীগঞ্জের নয় ইউনিয়নে ৮০টি আবাসন প্রকল্প : কেরানীগঞ্জে ১২টি ইউনিয়ন- হযরতপুর, কলাতিয়া, তারানগর, রোহিতপুর, শাক্তা, কালিন্দী, বাস্তা, তেঘরিয়া, শুভাঢ্যা, জিনজিরা, কোন্ডা ও আগানগর। শুধু হযরতপুর, জিনজিরা ও আগানগরে কোনো আবাসন প্রকল্প নেই। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের অনুমান, অন্য নয়টি ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় ৮০টির মতো আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আবাসন প্রকল্প হয়েছে তারানগর ইউনিয়নে, প্রায় ৪৫টি। মাইলের পর মাইলজুড়ে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির শত শত সাইনবোর্ড। কোনো কোনো আবাসনে বালু ভরাট চলছে।


প্রিন্ট