ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোংলায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্‌যাপন। মোংলা নৌ ঘাঁটি”তে দিনব্যাপী নানা আয়োজন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩৫ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

ওমর ফারুক : মোংলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২৫) সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫ উদ্‌যাপিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে দিনব্যাপী পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবগাঁথা স্মরণ, বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শান্তি-অগ্রগতির প্রত্যাশায় মোংলা নৌ অঞ্চলে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

দিনের শুরুতে বানৌজা মোংলা ঘাঁটির মসজিদে বাদ ফজর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নয়ন কামনা করা হয়।

সকালে ঘাঁটির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া, কুচকাওয়াজ পরিদর্শনসহ দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিএনএস আবু বকর-এর ক্যাপ্টেন মীর বায়েজিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রথম ভরসাস্থল। শান্তিকালেও মানবিক বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ দেশের যেকোনো সংকটে নৌবাহিনী জনগণের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অঙ্গীকার অটুট থাকবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং আধুনিক দক্ষতায় প্রস্তুত করা আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও জানান, সমুদ্র নিরাপত্তা, মেরিটাইম সম্পদ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে নৌবাহিনী আজ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের গৌরব।

এরপর মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ঘাঁটির কর্মকর্তা, নাবিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রামাণ্যচিত্রটি উপভোগ করেন। মোংলা উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

দিবসটিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেখা যায় সাধারণ মানুষের মাঝে। দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে অবস্থানরত নৌবাহিনীর জাহাজ “বানৌজা আবু বকর” সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। জাহাজে উঠতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষ নৌবাহিনীর আধুনিক প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং জাহাজের বিভিন্ন কার্যক্রম কাছ থেকে দেখে মুগ্ধ হন। অনেকে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় কাটান।

জাহাজ প্রদর্শনী ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে দেখতে আসা ব্যক্তিরা জানান, নৌবাহিনীর সক্ষমতা সরেজমিনে দেখা সত্যিই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে মোংলার বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছুটির প্রথমদিনে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, পরিবহনগুলোতে বাড়ছে ভিড়

মোংলায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্‌যাপন। মোংলা নৌ ঘাঁটি”তে দিনব্যাপী নানা আয়োজন

আপডেট সময় ১১:১৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ওমর ফারুক : মোংলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২৫) সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫ উদ্‌যাপিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে দিনব্যাপী পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবগাঁথা স্মরণ, বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শান্তি-অগ্রগতির প্রত্যাশায় মোংলা নৌ অঞ্চলে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

দিনের শুরুতে বানৌজা মোংলা ঘাঁটির মসজিদে বাদ ফজর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নয়ন কামনা করা হয়।

সকালে ঘাঁটির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া, কুচকাওয়াজ পরিদর্শনসহ দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিএনএস আবু বকর-এর ক্যাপ্টেন মীর বায়েজিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রথম ভরসাস্থল। শান্তিকালেও মানবিক বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ দেশের যেকোনো সংকটে নৌবাহিনী জনগণের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অঙ্গীকার অটুট থাকবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং আধুনিক দক্ষতায় প্রস্তুত করা আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও জানান, সমুদ্র নিরাপত্তা, মেরিটাইম সম্পদ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে নৌবাহিনী আজ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের গৌরব।

এরপর মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ঘাঁটির কর্মকর্তা, নাবিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রামাণ্যচিত্রটি উপভোগ করেন। মোংলা উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

দিবসটিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেখা যায় সাধারণ মানুষের মাঝে। দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে অবস্থানরত নৌবাহিনীর জাহাজ “বানৌজা আবু বকর” সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। জাহাজে উঠতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষ নৌবাহিনীর আধুনিক প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং জাহাজের বিভিন্ন কার্যক্রম কাছ থেকে দেখে মুগ্ধ হন। অনেকে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় কাটান।

জাহাজ প্রদর্শনী ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে দেখতে আসা ব্যক্তিরা জানান, নৌবাহিনীর সক্ষমতা সরেজমিনে দেখা সত্যিই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে মোংলার বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।


প্রিন্ট