ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কালিয়াকৈরে ইজিপিপি প্রকল্পে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মজিবুর রহমান Logo উপশহরে টেন্ডারের বাইরে গাছ নিধন: আটক ৪ অভিযুক্তকে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দিল পুলিশ Logo নববর্ষে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত মডেল ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় Logo পাহাড়তলীর সিগন্যাল কলোনীতে রানা–সোহাগ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী Logo যানযট মুক্ত করতে এমপি নির্দেশে ছাগল বাজার অপসারণ৷ ঈদগাঁও ডিসি সড়ক থেকে অবশেষে স্থানান্তর হলো ছাগল বাজার, জনমনে স্বস্তি Logo কুমিল্লায় প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত কাজী সাইফুল ইসলাম গ্রেফতার Logo রোম পুড়লে আমরা নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না: জামায়াত আমির Logo এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা Logo পূর্ব শত্রুতা-আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা Logo নওগাঁ জেলা পুলিশের দুর্দান্ত অভিযান : বদলগাছিতে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি মোঃ আব্দুস সাত্তার (৬০) গ্রেফতার

পাহাড়তলীর সিগন্যাল কলোনীতে রানা–সোহাগ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সিগন্যাল কলোনী এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শামসুল হক রানা মির্জা ও রফিবুল ইসলাম সোহাগ ওরফে ডাইল সোহাগ নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই রানা মির্জা ও তার সহযোগী রফিবুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছুরি নিয়ে ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুজনের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহাগের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়তলী এলাকায় পাইকারি মাদক কেনাবেচা হয়ে থাকে। ওই মাদক পরবর্তীতে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলাসহ ফরিদ হত্যা মামলারও আসামি হিসেবে সোহাগের নাম উঠে এসেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সিএমপির বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, সোহাগের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচিত শামসুল হক রানা মির্জার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রানা মির্জা বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম টুটুলের অনুসারী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রানা ও সোহাগের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দিন-রাত এলাকায় তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুক।”

এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে ইজিপিপি প্রকল্পে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মজিবুর রহমান

পাহাড়তলীর সিগন্যাল কলোনীতে রানা–সোহাগ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

আপডেট সময় ১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সিগন্যাল কলোনী এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শামসুল হক রানা মির্জা ও রফিবুল ইসলাম সোহাগ ওরফে ডাইল সোহাগ নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই রানা মির্জা ও তার সহযোগী রফিবুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছুরি নিয়ে ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুজনের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহাগের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়তলী এলাকায় পাইকারি মাদক কেনাবেচা হয়ে থাকে। ওই মাদক পরবর্তীতে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলাসহ ফরিদ হত্যা মামলারও আসামি হিসেবে সোহাগের নাম উঠে এসেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সিএমপির বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, সোহাগের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচিত শামসুল হক রানা মির্জার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রানা মির্জা বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম টুটুলের অনুসারী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রানা ও সোহাগের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দিন-রাত এলাকায় তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুক।”

এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


প্রিন্ট