ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার (ওসি) তৌফিক আজমের Logo রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা মোংলায় একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন, শেলাবুনিয়ায় শোকের মাতম Logo মালদ্বীপে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি নিহত Logo মির্জা আব্বাসকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর Logo ওমানে ড্রোন বিধ্বস্ত, দুই বিদেশি নাগরিক নিহত Logo আবারও কমল স্বর্ণের দাম Logo ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্প ও উপদেষ্টাদের ভুল হিসাব Logo উত্তরের ঈদযাত্রায় এবারও সেই ১৩ কিলোমিটার হতে পারে গলার কাঁটা Logo তানোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোয়ালঘর পুড়ে ছাই, প্রাণ গেল ৬ গরুর Logo রহমত,মাগফিরাত, নাজাতের পবিত্র রমজান মাসে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মোঃ সোহেল সরকার, সভাপতি,৭ নং ওয়ার্ড যুবদল

রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা মোংলায় একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন, শেলাবুনিয়ায় শোকের মাতম

ওমর ফারুক : বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মোংলা জুড়ে। বিয়ের আনন্দ শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই একটি পরিবার প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোংলা সরকারি কবরস্থানে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহগুলো মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজা ও দাফনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাচান চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দাফন সম্পন্ন হলেও মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া ও সাত্তার লেন এলাকায় শোকের মাতম থামেনি। যে বাড়িতে কয়েকদিন আগেও ছিল বিয়ের আনন্দ আর অতিথিদের কোলাহল, সেই বাড়ির উঠানেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল একাধিক মরদেহ। স্বজনদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সেখানে ভিড় করেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী এবং ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়া বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখও।
অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকে নিহত হয়েছেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ার বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।
স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আশরাফুল আলম জনি। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে পরিবারের সঙ্গে তিনি কয়রায় গিয়েছিলেন। পরিবারের সবাই মাইক্রোবাসে উঠলেও তিনি পিছনে মোটরসাইকেলে আসছিলেন। সেই কারণেই প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে চোখের সামনে প্রিয়জনদের নিথর দেহ দেখে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
পরিবারের মৃত্যুর খবর পেয়ে অসাড় হয়ে রয়েছেন তাদের মা আঞ্জুমানয়ারা। আর বেঁচে থাকা আরেক ভাই সাদ্দাম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম বলেন, খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হলেও এখনো চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। সরু রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস মোংলার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন মারা যান। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের একাধিক সদস্যসহ মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার (ওসি) তৌফিক আজমের

রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা মোংলায় একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন, শেলাবুনিয়ায় শোকের মাতম

আপডেট সময় ০৬:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ওমর ফারুক : বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মোংলা জুড়ে। বিয়ের আনন্দ শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই একটি পরিবার প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোংলা সরকারি কবরস্থানে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহগুলো মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজা ও দাফনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাচান চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দাফন সম্পন্ন হলেও মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া ও সাত্তার লেন এলাকায় শোকের মাতম থামেনি। যে বাড়িতে কয়েকদিন আগেও ছিল বিয়ের আনন্দ আর অতিথিদের কোলাহল, সেই বাড়ির উঠানেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল একাধিক মরদেহ। স্বজনদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সেখানে ভিড় করেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী এবং ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়া বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখও।
অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকে নিহত হয়েছেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ার বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।
স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আশরাফুল আলম জনি। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে পরিবারের সঙ্গে তিনি কয়রায় গিয়েছিলেন। পরিবারের সবাই মাইক্রোবাসে উঠলেও তিনি পিছনে মোটরসাইকেলে আসছিলেন। সেই কারণেই প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে চোখের সামনে প্রিয়জনদের নিথর দেহ দেখে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
পরিবারের মৃত্যুর খবর পেয়ে অসাড় হয়ে রয়েছেন তাদের মা আঞ্জুমানয়ারা। আর বেঁচে থাকা আরেক ভাই সাদ্দাম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম বলেন, খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হলেও এখনো চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। সরু রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস মোংলার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন মারা যান। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের একাধিক সদস্যসহ মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।


প্রিন্ট