২৪ফেব্রুয়ারী,২৬ইং
বিদ্যালয়ের স্মারক নং তিঃউঃবিঃ/২০২৬/০৩, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত এ আদেশ জারি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, রফিকুল স্যার বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী নিজ বাড়িতে তাদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। প্রাইভেটে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে সহজ প্রশ্ন করা হয় পরীক্ষায় সম্ভাব্য প্রশ্ন জানিয়ে দেওয়া এবং ভালো নম্বর দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে যারা প্রাইভেট পড়ে না, ক্লাসে তাদের কঠিন প্রশ্ন করা, না পারলে খারাপ ব্যবহার ও শারীরিক শাস্তি দেওয়া এবং পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এভাবে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে থাকে। তবে এসএসসি পরীক্ষার নম্বর সরাসরি স্কুলের শিক্ষকের হাতে না থাকায় অনেকেই পরে প্রাইভেট ছেড়ে দেয়।
আদেশ সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা, নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আগমন এবং নির্ধারিত সময়ের আগে প্রস্থানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি।
এছাড়া প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে মোঃ রাজু আহম্মেদ (সাবেক অভিভাবক সদস্য) ও মোঃ আব্দুস সামাদ (বিএসসি), সিনিয়র শিক্ষক-এর উপস্থিতিতে আলোচনা করলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গেও অসদাচরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিক্ষা বিধির লঙ্ঘন বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেঃ আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে শিক্ষা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রাম, মহাপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর), চেয়ারম্যান (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর), উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর), জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে প্রধান শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন ও সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ ও আদেশের বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং জানান তিনি প্রাইভেট পড়ান না এবং এমন ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাময়িক বরখাস্ত বিষয়ে একটি আদেশপত্র পেয়েছি।
প্রিন্ট
মোঃ রেজাউল ইসলাম উলিপুর উপজেলাপ্রতিনিধি, 



















