ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির Logo সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ আবার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে Logo আল্লাহর দেওয়া বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু Logo টানা তাপদাহের মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি Logo ইসলামপুরে আওয়ামীলীগের ২৪ নেতাকর্মী জামিন চেয়ে আদালতে স্বেচায় আত্মসমর্পন করায় আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন Logo কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে গজারি ইউনিয়নের প্রধান নুরুল ইসলাম খোলকানী অনুষ্ঠিত, সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল Logo আবিদুলের অভিযোগের জবাবে সাদিক কায়েম ‘ছাত্রদলের অপকর্ম, দেশের সংকট- সবকিছু ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে Logo রাজধানীতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড Logo ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি, হামলাকারী আটক Logo কাশিমপুরে কসাইয়ের ছুরিকাঘাতে চিকিৎসক গুরুতর জখম, ঘাতক গ্রেফতার

মুকুলের সুবাসে সোনালি তানোর, বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর চাষিরা

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এখন বসন্তের রঙ লেগেছে আম ও লিচু বাগানে। উপজেলার মাঠ-ঘাট, পাড়া-মহল্লা যেন সোনালি মুকুলের ঘ্রাণে মুখরিত। আমগাছের ডালে ডালে সোনালি মুকুলের অপরূপ সমারোহ, আর লিচুগাছে থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে মুকুল—প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজিয়েছে পুরো জনপদ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি আম ও লিচুগাছ মুকুলে ভরে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলের পরিমাণও বেশি। এতে করে বাম্পার ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।
চাষিরা জানান, গত বছর মুকুল এলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তাই এ বছর শুরু থেকেই বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তারা। গাছে ভিটামিন স্প্রে, পুষ্টিসার প্রয়োগ, গোড়ায় সার দেওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন—বৃষ্টি না হলে মুকুল ঝরে পড়তে পারে। তাই কেউ কেউ আগাম সতর্কতায় পানি ও স্প্রে প্রয়োগ করছেন।
তবে কিছু চাষি বলছেন, সময়মতো হালকা বৃষ্টি হলে ফলনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব না পড়লে এবার লাভবান হওয়ার আশাও করছেন।
তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে আম ও লিচুর বাগান। বিশেষ করে বাধাইড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি আম বাগান রয়েছে। এছাড়া উপজেলার পাড়া-মহল্লা ও সরকারি রাস্তার ধারের গাছগুলোও এখন মুকুলে সেজেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং যথাসময়ে মুকুল বের হয়েছে। তিনি বলেন, আগাম মুকুল ঝরে যাওয়ার কিছু ঝুঁকি থাকলেও বর্তমানে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এখনই অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন নেই, তবে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে হালকা বৃষ্টি ফলনের জন্য উপকারী হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে চাষিরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। সারা বছর নিয়মিত সার, সেচ ও পুষ্টিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করায় ফলনের সম্ভাবনাও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে মুকুলের সুবাসে ভরে উঠেছে তানোর। প্রকৃতির এই সোনালি আভা এখন কৃষকের মুখে ফুটিয়েছে আশার হাসি—ভালো আবহাওয়া থাকলে এবার আম ও লিচুতে ভরে উঠবে বাজার।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

মুকুলের সুবাসে সোনালি তানোর, বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর চাষিরা

আপডেট সময় ০২:১৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এখন বসন্তের রঙ লেগেছে আম ও লিচু বাগানে। উপজেলার মাঠ-ঘাট, পাড়া-মহল্লা যেন সোনালি মুকুলের ঘ্রাণে মুখরিত। আমগাছের ডালে ডালে সোনালি মুকুলের অপরূপ সমারোহ, আর লিচুগাছে থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে মুকুল—প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজিয়েছে পুরো জনপদ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি আম ও লিচুগাছ মুকুলে ভরে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলের পরিমাণও বেশি। এতে করে বাম্পার ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।
চাষিরা জানান, গত বছর মুকুল এলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তাই এ বছর শুরু থেকেই বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তারা। গাছে ভিটামিন স্প্রে, পুষ্টিসার প্রয়োগ, গোড়ায় সার দেওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন—বৃষ্টি না হলে মুকুল ঝরে পড়তে পারে। তাই কেউ কেউ আগাম সতর্কতায় পানি ও স্প্রে প্রয়োগ করছেন।
তবে কিছু চাষি বলছেন, সময়মতো হালকা বৃষ্টি হলে ফলনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব না পড়লে এবার লাভবান হওয়ার আশাও করছেন।
তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে আম ও লিচুর বাগান। বিশেষ করে বাধাইড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি আম বাগান রয়েছে। এছাড়া উপজেলার পাড়া-মহল্লা ও সরকারি রাস্তার ধারের গাছগুলোও এখন মুকুলে সেজেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং যথাসময়ে মুকুল বের হয়েছে। তিনি বলেন, আগাম মুকুল ঝরে যাওয়ার কিছু ঝুঁকি থাকলেও বর্তমানে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এখনই অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন নেই, তবে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে হালকা বৃষ্টি ফলনের জন্য উপকারী হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে চাষিরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। সারা বছর নিয়মিত সার, সেচ ও পুষ্টিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করায় ফলনের সম্ভাবনাও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে মুকুলের সুবাসে ভরে উঠেছে তানোর। প্রকৃতির এই সোনালি আভা এখন কৃষকের মুখে ফুটিয়েছে আশার হাসি—ভালো আবহাওয়া থাকলে এবার আম ও লিচুতে ভরে উঠবে বাজার।


প্রিন্ট