ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ওমানে ড্রোন বিধ্বস্ত, দুই বিদেশি নাগরিক নিহত Logo আবারও কমল স্বর্ণের দাম Logo ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্প ও উপদেষ্টাদের ভুল হিসাব Logo উত্তরের ঈদযাত্রায় এবারও সেই ১৩ কিলোমিটার হতে পারে গলার কাঁটা Logo তানোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোয়ালঘর পুড়ে ছাই, প্রাণ গেল ৬ গরুর Logo রহমত,মাগফিরাত, নাজাতের পবিত্র রমজান মাসে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মোঃ সোহেল সরকার, সভাপতি,৭ নং ওয়ার্ড যুবদল Logo পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ৫২​ নং ওয়ার্ডবাসী সহ বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন- মোঃ সেলিম কাজল Logo বাঞ্ছারামপুরে অবৈধ গুড় কারখানায় অভিযান: দুইজনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা, কারখানা সিলগালা Logo রক্ত খেকো রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন, বিরোধীদলের ওয়াকআউট Logo পীরগঞ্জে এতিমদের মাঝে সরকারি খেজুর বিতরণ

মুকুলের সুবাসে সোনালি তানোর, বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর চাষিরা

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এখন বসন্তের রঙ লেগেছে আম ও লিচু বাগানে। উপজেলার মাঠ-ঘাট, পাড়া-মহল্লা যেন সোনালি মুকুলের ঘ্রাণে মুখরিত। আমগাছের ডালে ডালে সোনালি মুকুলের অপরূপ সমারোহ, আর লিচুগাছে থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে মুকুল—প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজিয়েছে পুরো জনপদ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি আম ও লিচুগাছ মুকুলে ভরে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলের পরিমাণও বেশি। এতে করে বাম্পার ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।
চাষিরা জানান, গত বছর মুকুল এলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তাই এ বছর শুরু থেকেই বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তারা। গাছে ভিটামিন স্প্রে, পুষ্টিসার প্রয়োগ, গোড়ায় সার দেওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন—বৃষ্টি না হলে মুকুল ঝরে পড়তে পারে। তাই কেউ কেউ আগাম সতর্কতায় পানি ও স্প্রে প্রয়োগ করছেন।
তবে কিছু চাষি বলছেন, সময়মতো হালকা বৃষ্টি হলে ফলনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব না পড়লে এবার লাভবান হওয়ার আশাও করছেন।
তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে আম ও লিচুর বাগান। বিশেষ করে বাধাইড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি আম বাগান রয়েছে। এছাড়া উপজেলার পাড়া-মহল্লা ও সরকারি রাস্তার ধারের গাছগুলোও এখন মুকুলে সেজেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং যথাসময়ে মুকুল বের হয়েছে। তিনি বলেন, আগাম মুকুল ঝরে যাওয়ার কিছু ঝুঁকি থাকলেও বর্তমানে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এখনই অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন নেই, তবে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে হালকা বৃষ্টি ফলনের জন্য উপকারী হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে চাষিরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। সারা বছর নিয়মিত সার, সেচ ও পুষ্টিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করায় ফলনের সম্ভাবনাও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে মুকুলের সুবাসে ভরে উঠেছে তানোর। প্রকৃতির এই সোনালি আভা এখন কৃষকের মুখে ফুটিয়েছে আশার হাসি—ভালো আবহাওয়া থাকলে এবার আম ও লিচুতে ভরে উঠবে বাজার।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমানে ড্রোন বিধ্বস্ত, দুই বিদেশি নাগরিক নিহত

মুকুলের সুবাসে সোনালি তানোর, বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর চাষিরা

আপডেট সময় ০২:১৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এখন বসন্তের রঙ লেগেছে আম ও লিচু বাগানে। উপজেলার মাঠ-ঘাট, পাড়া-মহল্লা যেন সোনালি মুকুলের ঘ্রাণে মুখরিত। আমগাছের ডালে ডালে সোনালি মুকুলের অপরূপ সমারোহ, আর লিচুগাছে থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে মুকুল—প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজিয়েছে পুরো জনপদ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি আম ও লিচুগাছ মুকুলে ভরে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলের পরিমাণও বেশি। এতে করে বাম্পার ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।
চাষিরা জানান, গত বছর মুকুল এলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তাই এ বছর শুরু থেকেই বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তারা। গাছে ভিটামিন স্প্রে, পুষ্টিসার প্রয়োগ, গোড়ায় সার দেওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন—বৃষ্টি না হলে মুকুল ঝরে পড়তে পারে। তাই কেউ কেউ আগাম সতর্কতায় পানি ও স্প্রে প্রয়োগ করছেন।
তবে কিছু চাষি বলছেন, সময়মতো হালকা বৃষ্টি হলে ফলনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব না পড়লে এবার লাভবান হওয়ার আশাও করছেন।
তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে আম ও লিচুর বাগান। বিশেষ করে বাধাইড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি আম বাগান রয়েছে। এছাড়া উপজেলার পাড়া-মহল্লা ও সরকারি রাস্তার ধারের গাছগুলোও এখন মুকুলে সেজেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং যথাসময়ে মুকুল বের হয়েছে। তিনি বলেন, আগাম মুকুল ঝরে যাওয়ার কিছু ঝুঁকি থাকলেও বর্তমানে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এখনই অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন নেই, তবে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে হালকা বৃষ্টি ফলনের জন্য উপকারী হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে চাষিরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। সারা বছর নিয়মিত সার, সেচ ও পুষ্টিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করায় ফলনের সম্ভাবনাও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে মুকুলের সুবাসে ভরে উঠেছে তানোর। প্রকৃতির এই সোনালি আভা এখন কৃষকের মুখে ফুটিয়েছে আশার হাসি—ভালো আবহাওয়া থাকলে এবার আম ও লিচুতে ভরে উঠবে বাজার।


প্রিন্ট