ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা Logo সংসদেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে অথচ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের তালবাহানা অবৈধ সরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড Logo পশুর নদীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর জীবন্ত সত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে: মোংলায় প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড.শেখ ফরিদুল ইসলাম Logo সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতের Logo ১৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, আরও তিনটি আসছে Logo ভাঙ্গুড়ায় মশক নিধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত Logo লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহত ৩১ Logo ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র: উত্তরণের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প Logo আনোয়ারায় শ্রমজীবী ও পেশাজীবীদের সম্মানে এডভোকেট নুরুল কবির রানা’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে

শুল্ক আরোপে বিকল্প ক্ষমতা প্রয়োগের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন—এমন রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এমন রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে বিশ্বজুড়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, আদালতের রায়ের পর বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

রায়ের পরপরই শীর্ষ আদালতের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আদালতের কয়েকজন সদস্যের কারণে দেশের জন্য সঠিক কাজ করার সাহস তারা দেখাতে পারেননি।’

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যেসব বিদেশি দেশ বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে এসেছে, তারা এখন খুব খুশি। তারা রাস্তায় নাচছে। কিন্তু এই আনন্দ বেশি দিন থাকবে না, এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি।’

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জবাবে শুক্রবারই একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সব দেশের ওপর বিদ্যমান শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এটি হবে আদালতের রায়ের আইনি সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার একটি উপায়।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়
এছাড়া তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী নতুন করে একাধিক বাণিজ্য তদন্ত শুরু করা হবে। এই ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে, যাদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক, অন্যায্য কিংবা বৈষম্যমূলক বাণিজ্য চর্চার অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ওদের সিদ্ধান্ত ভুল। তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ এই রায়েই আমাদের জন্য আরও শক্তিশালী বিকল্প পথ উন্মুক্ত হয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ রায়ের ফলে ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিগত হাতিয়ার বড়ভাবে সীমিত হয়ে গেল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরজুড়েই তিনি বিভিন্ন দেশকে নতুন বাণিজ্যচুক্তিতে বাধ্য করতে শুল্ককে প্রধান চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রেও শুল্ককে চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি ছিল, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন তাকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়। তবে, আদালত ট্রাম্পের সেই যুক্তি নাকচ করে দেয়।

ট্রাম্প এই রায়কে ডেমোক্র্যাট বিচারপতিদের সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বাস্তবে আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতি এই শুল্ক বাতিলের পক্ষে রায় দেন।

ওয়াশিংটন ডিসি প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবকিছু পড়ে দেখেছি এবং ভেবেছিলাম এই মামলায় হারার প্রশ্নই নেই। কিন্তু যখন বিচারকেরা রাজনৈতিক হয়ে ওঠেন, যখন তারা রাজনৈতিক শুদ্ধতার খাতিরে সিদ্ধান্ত নেন কিংবা ডিসির কিছু গোষ্ঠীর তোষামোদ করেন, তখন এমনটা হয়।’

সূত্র: আনাদোলু


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

শুল্ক আরোপে বিকল্প ক্ষমতা প্রয়োগের ঘোষণা ট্রাম্পের

আপডেট সময় ১০:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন—এমন রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এমন রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে বিশ্বজুড়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, আদালতের রায়ের পর বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

রায়ের পরপরই শীর্ষ আদালতের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আদালতের কয়েকজন সদস্যের কারণে দেশের জন্য সঠিক কাজ করার সাহস তারা দেখাতে পারেননি।’

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যেসব বিদেশি দেশ বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে এসেছে, তারা এখন খুব খুশি। তারা রাস্তায় নাচছে। কিন্তু এই আনন্দ বেশি দিন থাকবে না, এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি।’

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জবাবে শুক্রবারই একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সব দেশের ওপর বিদ্যমান শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এটি হবে আদালতের রায়ের আইনি সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার একটি উপায়।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়
এছাড়া তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী নতুন করে একাধিক বাণিজ্য তদন্ত শুরু করা হবে। এই ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে, যাদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক, অন্যায্য কিংবা বৈষম্যমূলক বাণিজ্য চর্চার অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ওদের সিদ্ধান্ত ভুল। তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ এই রায়েই আমাদের জন্য আরও শক্তিশালী বিকল্প পথ উন্মুক্ত হয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ রায়ের ফলে ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিগত হাতিয়ার বড়ভাবে সীমিত হয়ে গেল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরজুড়েই তিনি বিভিন্ন দেশকে নতুন বাণিজ্যচুক্তিতে বাধ্য করতে শুল্ককে প্রধান চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রেও শুল্ককে চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি ছিল, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন তাকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়। তবে, আদালত ট্রাম্পের সেই যুক্তি নাকচ করে দেয়।

ট্রাম্প এই রায়কে ডেমোক্র্যাট বিচারপতিদের সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বাস্তবে আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতি এই শুল্ক বাতিলের পক্ষে রায় দেন।

ওয়াশিংটন ডিসি প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবকিছু পড়ে দেখেছি এবং ভেবেছিলাম এই মামলায় হারার প্রশ্নই নেই। কিন্তু যখন বিচারকেরা রাজনৈতিক হয়ে ওঠেন, যখন তারা রাজনৈতিক শুদ্ধতার খাতিরে সিদ্ধান্ত নেন কিংবা ডিসির কিছু গোষ্ঠীর তোষামোদ করেন, তখন এমনটা হয়।’

সূত্র: আনাদোলু


প্রিন্ট