মোঃ ওমর ফারুক : মোংলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাজারে অস্থিরতা রোধ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রতিরোধ এবং আসন্ন পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অনিয়মে জড়িত পাঁচ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় মোংলা উপজেলার প্রধান কাঁচাবাজার, কলাবাজার ও বিভিন্ন পাইকারি আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসীনা আরিফ। অভিযানে বাজারের সার্বিক পরিবেশ, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, পণ্যের সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নির্ধারিত দামে বিক্রয় কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, একাধিক ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়, মূল্যতালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শনে গাফিলতি এবং ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। প্রাথমিকভাবে সতর্কীকরণ শেষে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দায়ী প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ড আরোপ করা হয়।
অভিযানকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় পাঁচটি পৃথক মামলায় পাঁচ ব্যবসায়ীকে মোট ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসন জানায়, বাজারে শৃঙ্খলা রক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগে কোনো প্রকার শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসীনা আরিফ বলেন, পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে যাতে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র কৃত্রিমভাবে মূল্যবৃদ্ধি বা মজুতদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
অভিযান চলাকালে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোংলা থানা পুলিশ-এর একটি দল সহযোগিতা প্রদান করে। উপজেলা প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থানে সচেতন মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
প্রিন্ট
নিজস্ব সংবাদ : 




















