মোঃ তাজুল ইসলাম সরকারি সম্পত্তি ও রাজস্বের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সরকারি কোয়ার্টার, টিনসেড, দোকান এবং ক্যান্টিন থেকে ভাড়া আদায় করে সরকারকে অর্থ জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভ অর্জন করে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে, যখন মোঃ তাজুল ইসলাম উচ্চমানসহকারী হিসেবে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল ঢাকা-তে কর্মরত ছিলেন।
প্রথমদিকে তিনি একাধিক সরকারি বাসা দখল করে বসবাস শুরু করেন। এর মধ্যে ১ম ১২ তলা ভবনের পূর্ব পাশে অবস্থিত ৫ নং টিনসেডটি উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বসবাসকালে তিনি কোনো সরকারি ভাড়া, গ্যাস, পানি কিংবা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি। এতে সরকারের প্রায় ২২,৬২,০০০ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা সাবেক কেন্দ্রীয় সচিবালয় (এনএসআই) ভবন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত আরও দুটি সরকারি বাসা থেকে প্রতিমাসে প্রায় ২৫,০০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ সরকারকে জমা না দিয়ে তিনি নিজেই গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে তাজুল ইসলাম তার পূর্বের সরকারি কোয়ার্টার ত্যাগ করে রাজাবাগ এলাকায় আরেকটি সরকারি কোয়ার্টারে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি প্রায় এক বছর বিনা ভাড়ায় বসবাস করেন। পরে বিষয়টি জনসমক্ষে এলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়ার পরও তিনি ভাড়া পরিশোধ না করে বসবাস চালিয়ে যান। এর ফলে সরকারের প্রায় ৩০,০০,০০০ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তাজুল ইসলাম ক্যান্টিনের চুক্তি দেওয়ার সময় এককালীন প্রায় ৫,০০,০০০ টাকা চাঁদা গ্রহণ করেছিলেন। পূর্ত ভবনের কর্মীদের কাছে তিনি “চাঁদাকরাজ” নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এতে সরকারি সম্পত্তি ও চুক্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হয়।
প্রথম কোর্ট অব সেটেলমেন্ট এলাকায় আদালতের সাবেক পাঠিয়ালের পাশের দুটি কক্ষেও অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। এই কক্ষগুলোতে আদালতের গাড়িচালকদের থাকার কথা থাকলেও দখলের কারণে তারা সেখানে থাকতে পারছেন না। ফলে আদালতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাসা, টিনসেড, দোকান ও ক্যান্টিন থেকে নিয়মিত ভাড়া ও চাঁদা আদায় করে আসছেন। এসব অনিয়মের কারণে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব অভিযোগের বিষয়ে ৩০ মার্চ ২০২৩ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়। সেখানে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার সাহস কেউ পাচ্ছেন না। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ বিষয়ে তেমন কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এই অভিযোগগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি দখল ও রাজস্ব আত্মসাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। স্থানীয় নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















