দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসতে যাচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় সুখবর হিসেবে থাকছে নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের জন্য নজিরবিহীন সুবিধা।
জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যেসব পেনশনভোগী মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়বে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের জন্য বাড়ানোর হার ধরা হয়েছে ৫৫ শতাংশ।
পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সি পেনশনধারীদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বয়সভেদে এ ভাতা আট হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ৫৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য চিকিৎসা ভাতা পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
বৈশাখী ভাতা বাড়ছে ৫০ শতাংশ
নতুন পে-স্কেলে বৈশাখী ভাতাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেয়া হলেও তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে কমিশন। ফলে উৎসব ভাতার পরিমাণ আড়াই গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
অন্যান্য সুবিধা ও ভাতা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতার পাশাপাশি যাতায়াত ভাতার পরিসরও বাড়ানো হচ্ছে। এতদিন ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা থাকলেও নতুন কাঠামোতে ১০ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে তুলনামূলক বেশি হারে নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের প্রস্তাব
নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভেদে বেতন বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১০০ শতাংশ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত।
• সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড): ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা
• সর্বোচ্চ বেতন (১ম গ্রেড): ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা
বাস্তবায়নের সময়সূচি
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বিভিন্ন যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীর জীবনযাত্রার মান ও কর্মস্পৃহা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রিন্ট
অর্থ সম্পাদক 


















