ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তানোরে সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমপি মুুজিবুবের পৃথক মতবিনিময় সভা! Logo নবর্নিবাচিত সাংসদকে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সংবর্ধনা Logo গংগাছড়া উপজেলায় ক্যাসিনো খেলায় প্রতিটি যুবক আসক্ত ৩ নং বড়বিল মন্থনা বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে Logo জামালপুরে ৪টি ইফতার সামগ্রীর দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা Logo লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ সিম বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ জন Logo বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি আটক Logo আনোয়ারায় রাতের আঁধারে পরৈকোড়া ইউনিয়নের সাদ্দামের বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ, Logo বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে ইটভাটা, পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতি Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

কুয়ালালামপুরে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার মধ্যে এশিয়ায় নিজেদের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে দুই বৃহৎ শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (১১ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

ওয়াশিংটনের শীর্ষ কূটনীতিক দায়িত্ব গ্রহণের পর এশিয়ায় প্রথম সফরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। তিনি জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামে যোগদান করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, আজকের আলোচনার শুরুতে রুবিও এবং ওয়াং কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল।

প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের মধ্যে ওয়াং ইয়ের সঙ্গে রুবিওর বৈঠকটি হচ্ছে। চীন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আগামী মাসে তাদের পণ্যের ওপর ভারী শুল্ক পুনর্বহালের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। চীনকে সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বেইজিং।

রুবিওর এই সফর ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মনোযোগ পুনরায় জোরদার এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সংঘাতের বাইরে নিজেদের দেখার প্রচেষ্টার অংশ। এখন এশিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের বেশিরভাগ মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে।

কিন্তু এই সপ্তাহে অনেক এশীয় দেশ এবং মার্কিন মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের ঘোষণার ফলে এটি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়ার ওপর ২৫%, ইন্দোনেশিয়ার জন্য ৩২%, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার জন্য ৩৬% এবং মায়ানমার ও লাওসের উপর ৪০% শুল্ক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রুবিও এই সফরের সময় ওয়াশিংটনের প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে আরও ভালো অংশীদার, তা তুলে ধরতে চাইবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও শুক্রবার থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছেন।

একদিন আগে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বলেছিলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।

‘গুন্ডামিমূলক আচরণ’

এদিকে, শুক্রবার বেইজিংয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, চীনের ওয়াং কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, মার্কিন শুল্ক একতরফা হুমকিমূলক আচরণ, যা কোনো দেশেরই সমর্থন করা বা একমত হওয়া উচিত নয়।

ওয়াং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, শুল্কের অপব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, মার্কিন শুল্ক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোকে তাদের উন্নয়নের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ওয়াং বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার, নীতিগত অবস্থান মেনে চলার এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে।’

অপরদিকে, শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করেই আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছে, একতরফা শুল্ক ‘বিপরীতমুখী এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক খণ্ডনকে আরও খারাপ করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’। মে মাসেও আসিয়ান নেতারা একই ধরণের বিবৃতি দিয়েছিলেন।

তারা ‘নতুন এবং উদীয়মান’ অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তার ওপরেও জোর দেন এবং একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘আমরা এই লক্ষ্যে সকল অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তানোরে সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমপি মুুজিবুবের পৃথক মতবিনিময় সভা!

কুয়ালালামপুরে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে

আপডেট সময় ০৬:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার মধ্যে এশিয়ায় নিজেদের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে দুই বৃহৎ শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (১১ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

ওয়াশিংটনের শীর্ষ কূটনীতিক দায়িত্ব গ্রহণের পর এশিয়ায় প্রথম সফরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। তিনি জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামে যোগদান করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, আজকের আলোচনার শুরুতে রুবিও এবং ওয়াং কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল।

প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের মধ্যে ওয়াং ইয়ের সঙ্গে রুবিওর বৈঠকটি হচ্ছে। চীন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আগামী মাসে তাদের পণ্যের ওপর ভারী শুল্ক পুনর্বহালের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। চীনকে সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বেইজিং।

রুবিওর এই সফর ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মনোযোগ পুনরায় জোরদার এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সংঘাতের বাইরে নিজেদের দেখার প্রচেষ্টার অংশ। এখন এশিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের বেশিরভাগ মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে।

কিন্তু এই সপ্তাহে অনেক এশীয় দেশ এবং মার্কিন মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের ঘোষণার ফলে এটি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়ার ওপর ২৫%, ইন্দোনেশিয়ার জন্য ৩২%, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার জন্য ৩৬% এবং মায়ানমার ও লাওসের উপর ৪০% শুল্ক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রুবিও এই সফরের সময় ওয়াশিংটনের প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে আরও ভালো অংশীদার, তা তুলে ধরতে চাইবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও শুক্রবার থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছেন।

একদিন আগে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বলেছিলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।

‘গুন্ডামিমূলক আচরণ’

এদিকে, শুক্রবার বেইজিংয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, চীনের ওয়াং কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, মার্কিন শুল্ক একতরফা হুমকিমূলক আচরণ, যা কোনো দেশেরই সমর্থন করা বা একমত হওয়া উচিত নয়।

ওয়াং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, শুল্কের অপব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, মার্কিন শুল্ক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোকে তাদের উন্নয়নের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ওয়াং বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার, নীতিগত অবস্থান মেনে চলার এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে।’

অপরদিকে, শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করেই আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছে, একতরফা শুল্ক ‘বিপরীতমুখী এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক খণ্ডনকে আরও খারাপ করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’। মে মাসেও আসিয়ান নেতারা একই ধরণের বিবৃতি দিয়েছিলেন।

তারা ‘নতুন এবং উদীয়মান’ অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তার ওপরেও জোর দেন এবং একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘আমরা এই লক্ষ্যে সকল অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।


প্রিন্ট