ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!! Logo সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো Logo সায়েন্সল্যাব অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ Logo বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা মৃত্যুবরণ করেছেন Logo ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ Logo সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট Logo আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, ভারতে ঝুঁকি আছে: ক্রীড়া উপদেষ্টা

পাবনার বাজারে বিক্রি হওয়া দুধে মিলল ডিটারজেন্ট

পাবনার মানুষের সকালের এক গ্লাস দুধ এখন আর পুষ্টির নিশ্চয়তা নয়—বরং নীরব বিষের আতঙ্ক। বাজারে বিক্রি হওয়া তরল দুধে কাপড় ধোয়ার ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট পাউডারের অস্তিত্ব মিলেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাব পরীক্ষায়। রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
গত ৪ ডিসেম্বর পাবনার লাইব্রেরি বাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন ডেইরি প্রতিষ্ঠানের দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার ফলাফল যেন জনস্বাস্থ্যের ওপর এক নির্মম চপেটাঘাত। আটঘরিয়া উপজেলার বাঈখোলায় অবস্থিত ‘ফারুক ডেইরি ফার্ম’-এর দুধে সরাসরি ডিটারজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। যদিও অন্য প্রতিষ্ঠানের দুধে আপাতত ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কতটা অদৃশ্য ভেজাল চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে?
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম ফারুক দাবি করেন,
“প্রতিদিন ১৯–২০ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করি। বাইরের খামার থেকেও দুধ আনা হয়। সতর্কতা থাকে, তবু কেন এমন হলো খতিয়ে দেখা হবে।”
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—ডিটারজেন্ট কি ভুলে পড়ে? নাকি মুনাফার নেশায় ইচ্ছাকৃত মেশানো হয়?
পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিএম শাফিকুল হাসান জুয়েল সতর্ক করে বলেন,
“ডিটারজেন্ট মিশ্রিত দুধ লিভার ও পাকস্থলীতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডায়রিয়া, আমাশয়সহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়।”
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন—
“কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের দুধ সংগ্রহ করেই থেমে নেই, নিজেরাই ভেজালের সঙ্গে জড়িত।”
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাবনার কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান,
“ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু জনমনে প্রশ্ন—মৌখিক সতর্কতায় কি থামবে দুধে ডিটারজেন্ট?
শিশু, বৃদ্ধ, রোগী—সবার খাদ্য নিয়ে এমন নোংরা কারবারের বিরুদ্ধে কি শুধু কাগুজে ব্যবস্থা যথেষ্ট?
দুধ যদি বিষ হয়, তবে নীরবতা অপরাধ।
এখনই প্রয়োজন কঠোর শাস্তি, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং প্রকাশ্য জবাবদিহি—নইলে “পুষ্টির দুধ” নামেই চলবে বিষের ব্যবসা।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

পাবনার বাজারে বিক্রি হওয়া দুধে মিলল ডিটারজেন্ট

আপডেট সময় ০৩:০০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পাবনার মানুষের সকালের এক গ্লাস দুধ এখন আর পুষ্টির নিশ্চয়তা নয়—বরং নীরব বিষের আতঙ্ক। বাজারে বিক্রি হওয়া তরল দুধে কাপড় ধোয়ার ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট পাউডারের অস্তিত্ব মিলেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাব পরীক্ষায়। রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
গত ৪ ডিসেম্বর পাবনার লাইব্রেরি বাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন ডেইরি প্রতিষ্ঠানের দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার ফলাফল যেন জনস্বাস্থ্যের ওপর এক নির্মম চপেটাঘাত। আটঘরিয়া উপজেলার বাঈখোলায় অবস্থিত ‘ফারুক ডেইরি ফার্ম’-এর দুধে সরাসরি ডিটারজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। যদিও অন্য প্রতিষ্ঠানের দুধে আপাতত ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কতটা অদৃশ্য ভেজাল চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে?
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম ফারুক দাবি করেন,
“প্রতিদিন ১৯–২০ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করি। বাইরের খামার থেকেও দুধ আনা হয়। সতর্কতা থাকে, তবু কেন এমন হলো খতিয়ে দেখা হবে।”
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—ডিটারজেন্ট কি ভুলে পড়ে? নাকি মুনাফার নেশায় ইচ্ছাকৃত মেশানো হয়?
পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিএম শাফিকুল হাসান জুয়েল সতর্ক করে বলেন,
“ডিটারজেন্ট মিশ্রিত দুধ লিভার ও পাকস্থলীতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডায়রিয়া, আমাশয়সহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়।”
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন—
“কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের দুধ সংগ্রহ করেই থেমে নেই, নিজেরাই ভেজালের সঙ্গে জড়িত।”
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাবনার কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান,
“ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু জনমনে প্রশ্ন—মৌখিক সতর্কতায় কি থামবে দুধে ডিটারজেন্ট?
শিশু, বৃদ্ধ, রোগী—সবার খাদ্য নিয়ে এমন নোংরা কারবারের বিরুদ্ধে কি শুধু কাগুজে ব্যবস্থা যথেষ্ট?
দুধ যদি বিষ হয়, তবে নীরবতা অপরাধ।
এখনই প্রয়োজন কঠোর শাস্তি, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং প্রকাশ্য জবাবদিহি—নইলে “পুষ্টির দুধ” নামেই চলবে বিষের ব্যবসা।


প্রিন্ট