ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন Logo নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি উদ্ধার সম্পন্ন, লাইন স্থাপনের কাজ চলছে Logo মহম্মদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ পেল ৫৮৫ জন Logo জামালপুরে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo জামালপুরে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo শ’হীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রু’হের মা’গফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল Logo বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ Logo ইরানে লারিজানি-সোলেইমানিসহ নৌসেনাদের জানাজা অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর এান তহবিল থেকে পীরগঞ্জে ৩শ পরিবারের মাঝে ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ 

পাবনার বাজারে বিক্রি হওয়া দুধে মিলল ডিটারজেন্ট

পাবনার মানুষের সকালের এক গ্লাস দুধ এখন আর পুষ্টির নিশ্চয়তা নয়—বরং নীরব বিষের আতঙ্ক। বাজারে বিক্রি হওয়া তরল দুধে কাপড় ধোয়ার ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট পাউডারের অস্তিত্ব মিলেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাব পরীক্ষায়। রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
গত ৪ ডিসেম্বর পাবনার লাইব্রেরি বাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন ডেইরি প্রতিষ্ঠানের দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার ফলাফল যেন জনস্বাস্থ্যের ওপর এক নির্মম চপেটাঘাত। আটঘরিয়া উপজেলার বাঈখোলায় অবস্থিত ‘ফারুক ডেইরি ফার্ম’-এর দুধে সরাসরি ডিটারজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। যদিও অন্য প্রতিষ্ঠানের দুধে আপাতত ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কতটা অদৃশ্য ভেজাল চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে?
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম ফারুক দাবি করেন,
“প্রতিদিন ১৯–২০ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করি। বাইরের খামার থেকেও দুধ আনা হয়। সতর্কতা থাকে, তবু কেন এমন হলো খতিয়ে দেখা হবে।”
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—ডিটারজেন্ট কি ভুলে পড়ে? নাকি মুনাফার নেশায় ইচ্ছাকৃত মেশানো হয়?
পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিএম শাফিকুল হাসান জুয়েল সতর্ক করে বলেন,
“ডিটারজেন্ট মিশ্রিত দুধ লিভার ও পাকস্থলীতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডায়রিয়া, আমাশয়সহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়।”
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন—
“কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের দুধ সংগ্রহ করেই থেমে নেই, নিজেরাই ভেজালের সঙ্গে জড়িত।”
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাবনার কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান,
“ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু জনমনে প্রশ্ন—মৌখিক সতর্কতায় কি থামবে দুধে ডিটারজেন্ট?
শিশু, বৃদ্ধ, রোগী—সবার খাদ্য নিয়ে এমন নোংরা কারবারের বিরুদ্ধে কি শুধু কাগুজে ব্যবস্থা যথেষ্ট?
দুধ যদি বিষ হয়, তবে নীরবতা অপরাধ।
এখনই প্রয়োজন কঠোর শাস্তি, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং প্রকাশ্য জবাবদিহি—নইলে “পুষ্টির দুধ” নামেই চলবে বিষের ব্যবসা।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন

পাবনার বাজারে বিক্রি হওয়া দুধে মিলল ডিটারজেন্ট

আপডেট সময় ০৩:০০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পাবনার মানুষের সকালের এক গ্লাস দুধ এখন আর পুষ্টির নিশ্চয়তা নয়—বরং নীরব বিষের আতঙ্ক। বাজারে বিক্রি হওয়া তরল দুধে কাপড় ধোয়ার ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট পাউডারের অস্তিত্ব মিলেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাব পরীক্ষায়। রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
গত ৪ ডিসেম্বর পাবনার লাইব্রেরি বাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন ডেইরি প্রতিষ্ঠানের দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার ফলাফল যেন জনস্বাস্থ্যের ওপর এক নির্মম চপেটাঘাত। আটঘরিয়া উপজেলার বাঈখোলায় অবস্থিত ‘ফারুক ডেইরি ফার্ম’-এর দুধে সরাসরি ডিটারজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। যদিও অন্য প্রতিষ্ঠানের দুধে আপাতত ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কতটা অদৃশ্য ভেজাল চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে?
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম ফারুক দাবি করেন,
“প্রতিদিন ১৯–২০ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করি। বাইরের খামার থেকেও দুধ আনা হয়। সতর্কতা থাকে, তবু কেন এমন হলো খতিয়ে দেখা হবে।”
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—ডিটারজেন্ট কি ভুলে পড়ে? নাকি মুনাফার নেশায় ইচ্ছাকৃত মেশানো হয়?
পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিএম শাফিকুল হাসান জুয়েল সতর্ক করে বলেন,
“ডিটারজেন্ট মিশ্রিত দুধ লিভার ও পাকস্থলীতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডায়রিয়া, আমাশয়সহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়।”
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন—
“কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের দুধ সংগ্রহ করেই থেমে নেই, নিজেরাই ভেজালের সঙ্গে জড়িত।”
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাবনার কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান,
“ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু জনমনে প্রশ্ন—মৌখিক সতর্কতায় কি থামবে দুধে ডিটারজেন্ট?
শিশু, বৃদ্ধ, রোগী—সবার খাদ্য নিয়ে এমন নোংরা কারবারের বিরুদ্ধে কি শুধু কাগুজে ব্যবস্থা যথেষ্ট?
দুধ যদি বিষ হয়, তবে নীরবতা অপরাধ।
এখনই প্রয়োজন কঠোর শাস্তি, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং প্রকাশ্য জবাবদিহি—নইলে “পুষ্টির দুধ” নামেই চলবে বিষের ব্যবসা।


প্রিন্ট