ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদিরাই আমাদের গৌরব ছিলেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৩ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

রাজপথের হাদিরা বনাম ড্রয়িংরুমের রাজনীতি
রাজতন্ত্র, বংশপরম্পরা কিংবা পারিবারিক তকমা—
এসব দিয়ে নেতা বানানো যায়,
কিন্তু নেতৃত্ব তৈরি হয় না।
নেতৃত্ব তৈরি হয় রাজপথে,
ধুলো–রক্ত–অশ্রু মেখে,
সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে লড়াই করে।
আর ঠিক এখানেই হাদিরা আলাদা, অনন্য ও অপরাজেয়। পার্থক্যটা নির্মমভাবে স্পষ্ট—
একদল ১৬ বছর ধরে প্রবাসে বসে নিরাপদ, আয়েশি জীবন কাটিয়েছে। দেশ যখন আগুনে পুড়েছে,
তখন তাদের সাহস, উপস্থিতি বা দায়বদ্ধতার কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি।
আর ঠিক সেই সময়েই
হাদিরা নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছেন।
তারা কোনো ‘বাপ–দাদার’ পরিচয়ে নেতা হননি।
কোনো ক্ষমতার ছায়ায় বড় হননি।
নিজেদের যোগ্যতা, ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে
সাধারণ মানুষ থেকে ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছেন।
সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্যটা হলো—
মা ক্ষমতায় থাকাকালীন এই হাদিরা কখনো সামনে আসেননি।
ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে
পকেট ভারী করার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিলেন না। তারা মাঠে নেমেছেন তখনই,
যখন দেশ চরম সংকটে।
তারা লড়েছেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে,
দুর্নীতি, লুটপাট আর দখলদারির বিরুদ্ধে।
এই আধিপত্য রুখতে গিয়েই
আজ তারা শহীদ। যাদের কোনো ত্যাগ নেই,
যাদের কোনো অবদান নেই,
তারাই আজ বড় বড় বুলি আউড়ায়।
কিন্তু হাদিদের অবদান শব্দে নয়—
রাজপথে রক্ত দিয়ে পরীক্ষিত।
তারা প্রবাসে লুকিয়ে থেকে নিরাপদ, শব্দহীন জীবন বেছে নেননি। তারা দাঁড়িয়েছিলেন সামনে,
বুক পেতে দিয়েছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
হাদিদের জানাজায় ১৪ লক্ষ মানুষের ঢল
কোনো আবেগ নয়—এটা ইতিহাসের রায়।
পকেট ভরানোর রাজনীতি তারা করেননি বলেই
আজ তারা ক্ষমতার মসনদে নয়,
কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর।
যোগ্য বনাম অযোগ্যর এই লড়াইয়ে
হাদিরা কেউ প্রতীক নয়—
তারা একেকজন জীবন্ত কিংবদন্তি।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে—নেতৃত্ব ড্রয়িংরুমে তৈরি হয় না,
নেতৃত্ব তৈরি হয়
আধিপত্যের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছুটির প্রথমদিনে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, পরিবহনগুলোতে বাড়ছে ভিড়

হাদিরাই আমাদের গৌরব ছিলেন

আপডেট সময় ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজপথের হাদিরা বনাম ড্রয়িংরুমের রাজনীতি
রাজতন্ত্র, বংশপরম্পরা কিংবা পারিবারিক তকমা—
এসব দিয়ে নেতা বানানো যায়,
কিন্তু নেতৃত্ব তৈরি হয় না।
নেতৃত্ব তৈরি হয় রাজপথে,
ধুলো–রক্ত–অশ্রু মেখে,
সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে লড়াই করে।
আর ঠিক এখানেই হাদিরা আলাদা, অনন্য ও অপরাজেয়। পার্থক্যটা নির্মমভাবে স্পষ্ট—
একদল ১৬ বছর ধরে প্রবাসে বসে নিরাপদ, আয়েশি জীবন কাটিয়েছে। দেশ যখন আগুনে পুড়েছে,
তখন তাদের সাহস, উপস্থিতি বা দায়বদ্ধতার কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি।
আর ঠিক সেই সময়েই
হাদিরা নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছেন।
তারা কোনো ‘বাপ–দাদার’ পরিচয়ে নেতা হননি।
কোনো ক্ষমতার ছায়ায় বড় হননি।
নিজেদের যোগ্যতা, ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে
সাধারণ মানুষ থেকে ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছেন।
সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্যটা হলো—
মা ক্ষমতায় থাকাকালীন এই হাদিরা কখনো সামনে আসেননি।
ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে
পকেট ভারী করার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিলেন না। তারা মাঠে নেমেছেন তখনই,
যখন দেশ চরম সংকটে।
তারা লড়েছেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে,
দুর্নীতি, লুটপাট আর দখলদারির বিরুদ্ধে।
এই আধিপত্য রুখতে গিয়েই
আজ তারা শহীদ। যাদের কোনো ত্যাগ নেই,
যাদের কোনো অবদান নেই,
তারাই আজ বড় বড় বুলি আউড়ায়।
কিন্তু হাদিদের অবদান শব্দে নয়—
রাজপথে রক্ত দিয়ে পরীক্ষিত।
তারা প্রবাসে লুকিয়ে থেকে নিরাপদ, শব্দহীন জীবন বেছে নেননি। তারা দাঁড়িয়েছিলেন সামনে,
বুক পেতে দিয়েছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
হাদিদের জানাজায় ১৪ লক্ষ মানুষের ঢল
কোনো আবেগ নয়—এটা ইতিহাসের রায়।
পকেট ভরানোর রাজনীতি তারা করেননি বলেই
আজ তারা ক্ষমতার মসনদে নয়,
কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর।
যোগ্য বনাম অযোগ্যর এই লড়াইয়ে
হাদিরা কেউ প্রতীক নয়—
তারা একেকজন জীবন্ত কিংবদন্তি।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে—নেতৃত্ব ড্রয়িংরুমে তৈরি হয় না,
নেতৃত্ব তৈরি হয়
আধিপত্যের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।


প্রিন্ট