ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!! Logo সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো Logo সায়েন্সল্যাব অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ Logo বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা মৃত্যুবরণ করেছেন Logo ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ Logo সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট Logo আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, ভারতে ঝুঁকি আছে: ক্রীড়া উপদেষ্টা

‎আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেও–আনন্দপুর সংঘর্ষ

‎নিহত ভাইকে ঘিরে মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে আ.লীগ নেতা আপেল মিয়া

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ও আনন্দপুরে সংঘটিত নজিরবিহীন সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনায় এসেছে মামলা-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটের গুরুতর অভিযোগ। সংঘর্ষে হৃদরোগে নিহত রাসেল মিয়াকে ঘিরে তাঁরই ভাই, কাকাইলছেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আপেল মিয়ার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রথম ৯৩ আসামী করা হলেও আসামী নেমে আসে ৮৭জনে বাকীদের জনপ্রতি ২লাখ করে টাকা নিয়ে নাম বাদ দেয় আপেল। 

‎পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল ও রিপোর্টে রাসেল মিয়ার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন নিহতের ভাই আপেল মিয়াসহ তাঁর পক্ষের লোকজন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় উত্তেজনা ও চিৎকারের মধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েই রাসেল মিয়ার মৃত্যু ঘটে।

‎এরপরই মামলা, আসামি প্রায় শতাধিক কিন্তু ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। নিহতের ভাই আপেল মিয়া বাদী হয়ে লুটপাট ও হত্যার অভিযোগে প্রায় ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তালিকায় উঠে আসে আল কোরআন সওদাগর পরিবারের লোকজন ও তাঁদের পক্ষের একাধিক নাম।

‎‘নাম কাটাতে টাকা’—খোলাবাজারে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয়দের , এই মামলাকে ঘিরেই শুরু হয় খোলাবাজারে দরদাম। আসামিদের কাছ থেকে প্রতি জনের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, আর এর বিনিময়ে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই নিহত ভাইয়ের মৃত্যুকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক লাভের হাতিয়ার বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আপেল মিয়ার বিরুদ্ধে।

‎গ্রামীণ রাজনীতির শিকার সাংবাদিকও, এই মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম আপনকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্বে নিউজ সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিক মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি স্পষ্টতই গ্রামীণ রাজনীতির প্রতিহিংসামূলক অপব্যবহার।

‎রাজনৈতিক ফায়দা: বিএনপির দ্বন্দ্ব, সুবিধা আ.লীগের

‎স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ সামনে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত মামলার মাধ্যমে সুবিধা নিচ্ছে আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী অংশ। আপেল মিয়ার ভূমিকা সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

‎এলাকাবাসীর প্রশ্ন—

‎যদি মৃত্যু হৃদ্‌রোগে হয়ে থাকে,

‎যদি প্রাথমিক রিপোর্টে আঘাতের চিহ্ন না থাকে,

‎তাহলে এত বড় মামলা, এত আসামি, এত লেনদেন কেন?

‎এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ঘটনার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত, মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

‎আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেও–আনন্দপুর সংঘর্ষ

আপডেট সময় ০৬:১৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

‎নিহত ভাইকে ঘিরে মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে আ.লীগ নেতা আপেল মিয়া

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ও আনন্দপুরে সংঘটিত নজিরবিহীন সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনায় এসেছে মামলা-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটের গুরুতর অভিযোগ। সংঘর্ষে হৃদরোগে নিহত রাসেল মিয়াকে ঘিরে তাঁরই ভাই, কাকাইলছেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আপেল মিয়ার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রথম ৯৩ আসামী করা হলেও আসামী নেমে আসে ৮৭জনে বাকীদের জনপ্রতি ২লাখ করে টাকা নিয়ে নাম বাদ দেয় আপেল। 

‎পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল ও রিপোর্টে রাসেল মিয়ার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন নিহতের ভাই আপেল মিয়াসহ তাঁর পক্ষের লোকজন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় উত্তেজনা ও চিৎকারের মধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েই রাসেল মিয়ার মৃত্যু ঘটে।

‎এরপরই মামলা, আসামি প্রায় শতাধিক কিন্তু ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। নিহতের ভাই আপেল মিয়া বাদী হয়ে লুটপাট ও হত্যার অভিযোগে প্রায় ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তালিকায় উঠে আসে আল কোরআন সওদাগর পরিবারের লোকজন ও তাঁদের পক্ষের একাধিক নাম।

‎‘নাম কাটাতে টাকা’—খোলাবাজারে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয়দের , এই মামলাকে ঘিরেই শুরু হয় খোলাবাজারে দরদাম। আসামিদের কাছ থেকে প্রতি জনের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, আর এর বিনিময়ে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই নিহত ভাইয়ের মৃত্যুকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক লাভের হাতিয়ার বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আপেল মিয়ার বিরুদ্ধে।

‎গ্রামীণ রাজনীতির শিকার সাংবাদিকও, এই মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম আপনকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্বে নিউজ সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিক মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি স্পষ্টতই গ্রামীণ রাজনীতির প্রতিহিংসামূলক অপব্যবহার।

‎রাজনৈতিক ফায়দা: বিএনপির দ্বন্দ্ব, সুবিধা আ.লীগের

‎স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ সামনে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত মামলার মাধ্যমে সুবিধা নিচ্ছে আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী অংশ। আপেল মিয়ার ভূমিকা সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

‎এলাকাবাসীর প্রশ্ন—

‎যদি মৃত্যু হৃদ্‌রোগে হয়ে থাকে,

‎যদি প্রাথমিক রিপোর্টে আঘাতের চিহ্ন না থাকে,

‎তাহলে এত বড় মামলা, এত আসামি, এত লেনদেন কেন?

‎এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ঘটনার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত, মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


প্রিন্ট