ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২
সংবাদ শিরোনাম ::
নান্দাইলে প্রতিবন্ধি নজরুলকে হুইলচেয়ার উপহার পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ইপিজেড থানা জাতীয় শ্রমিকলীগের উদগ্যে মোটরসাইকেল র‌্যালী ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠিত আমার টাকায় আমার সেতু, বাংলাদেশ পদ্মা সেতু প্রতিপাদ্য কে সমনে রেখে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ বাহিনীর আয়োজন নান্দাইলে পদ্মাসেতু উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা আ’লীগের আনন্দ র্যালী অনুষ্ঠিত বিসিএস ডাক্তারের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দ্বিতীয় স্ত্রীর এক নজরে পদ্মা সেতু নাম : পদ্মা সেতু, আছ সফল দক্ষিণ অঞ্চলের জনগণ পদ্ম সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিরামপুরে আনন্দ র‍্যালী পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে মোংলা উপজেলা প্রশাসনের আনন্দ মিছিল পাথরঘাটার রায়হানপুরে গভীর রাতে ডাকাতে হামলা, আহত -৪ পদ্মা সেতু পারাপারে প্রথম টোল প্রদান করলেন সেতুর স্থপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কাবাবী হাড্ডি

মো ইব্রাহীম খলিল।।
বরাবরই আমি একজন ভ্রমনপিপাসু এবং ছোট খাটো একজন নব খাদক টাইপের মানুষ। সত্যি বলতে আমি চরম খাই খাই স্বভাবের লোক মনে হলেও তেমন খেতে পারিনা। কিন্তু আমার মন ও মজ্জায় নতুন নতুন আইটেমের খানা খাওয়ার এক তীব্র নেশা ভর করে থাকে।
২০১৬সালে গিয়েছিলাম খাগড়াছড়ি প্রত্যন্ত এলাকা গুইমারায়। সেখানে স্থানীয় কলম বন্ধু আমাকে তার ওখানকার এক বিশেষ খানার নিমন্ত্রন করেছে। এই খানাটাকে তারা বলে থাকে “কাবাবী হাড্ডি”।
আমি জীবনে বহু কাবাব খেয়েছি। কিন্তু কাবাবী হাড্ডি কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে আমার কোনো পূর্ব ধারনাই ছিলো না।
কলম বন্ধু বখতিয়ার আমাকে তুর্কী স্পেশালিষ্ট কাবাবী হাড্ডি খাওয়াবে বলে আশ্বস্ত করেন।
বখতিয়ার নিজেও একজন সেরা রন্ধনবাজ। তার হাতের গুনাগুন প্রচুর।
বখতিয়ার নতুন বিয়ে করেছিলো। সেই সুবাধে নতুন ভাবিরও একটা গুনের কথা জানতে পারি। ভাবিও নাকি বিশেষ এক পিঠা বানাতে পারে, সেই পিঠার নাম “” অঙ্গাবঙ্গা”।
বন্ধু বখতিয়ার আমাকে আরো জানালো তার হাতে রান্না করা সেই কাবাবী হাড্ডি দিয়ে বউয়ের হাতের অঙ্গাবঙ্গা পিঠা খেতে নাকি খুব সুস্বাদু।
আমি বখতিয়ারের মুখে কাবাবী হাড্ডি এবং সেই অঙ্গাবঙ্গা পিঠার কথা শুনে খাওয়ার জন্য চরম মরিয়া হয়ে গেলাম। আহাঃকখন খাবো সেই মোহনীয় রসালো খাবার।

বখতিয়ার আমাকে জানালো তার কাবাবী হাড্ডি সাধারণ মাংস রান্নার মত হলেও সেটা আদৌ সাধারন কোনো রন্ধন নয়। এটা রান্নার প্রক্রিয়াটাই ভিন্ন। খেলেই নাকি বোঝা যাবে তার স্বাদ কেমন ব্যাতিক্রম।
দুপুরে হাইট্যা চাউলের ভাত আর  লইট্যা শুটকির ভর্তা দিয়ে ভাত খেলাম। পাহাড়ী খানা বলে কথা। এখানে মেহমানকে মাংসের বদলে শুটকি ভুনার প্রচলনটাই নাকি বেশি। তবে লইট্যা শুটকির ভর্তাটা চরম সুস্বাদু হয়েছে।
বখতিয়ার জানালো, কাবাবী হাড্ডি খাওয়ার উপযুক্ত সময় হলো বিকালে। ঐ সময় খেলে স্বাদটা নাকি ভালো করেই অস্বাধন করা যায়।
বখতিয়ারের বউ ঝুমু ভাবি  অঙ্গাবঙ্গা নামক পিঠা বানাতে ব্যস্ত। এই পিঠা নাকি মাসকলাইয়ের ডাল, চাউল ভাজা গুড়ো করে আরো কি কি আইটেম মিশিয়ে বানানো হয়। সে যা ই হোক, অঙ্গাবঙ্গা নিয়ে আমার তেমন একটা আগ্রহ নেই। সত্যি বলতে পিঠা আমি একটু কমই খাই।
বরাবরই আমি মাংসের প্রতি অতি সংবেদনশীল ছিলাম। তাই মন শুধু খুঁজে বেড়াচ্ছে, কখন সেই কাবাবী হাড্ডি খাবো।
আমি বখতিয়ারের কাছে জানতে পারি, সেই কাবাবী হাড্ডি রান্না করার উপকরন হলো–নতুন পাকা তেঁতুর ঝুল,সরিষা তৈল, আর সব রকম  মাংসের মশলা,ঘাওয়া ঘি,উস্তুনের গোটা,তুর্কিভুরার রস সহ আরো কিছু বিদেশী মশলা।
বখতিয়ার এই কাবাবী হাড্ডির বিশেষ সব মশলা গুলো কাজাকিস্তান থেকেই এনেছে। ঐখানে তার এক কাজিন থাকে, সে..ই প্রয়োজন হলে কুরিয়ারে ওসব রসদ গুলে নাকি পাঠায়।
দুপুরে ভাত খেয়ে হালকা নিদ্রা গিয়েছিলাম। সেই ঘুম ভাঙলো বাদ আসর বন্ধু বখতিয়ারের ডাকে।
ঘুম ভাঙতেই বন্ধু বখতিয়ার জানালো কাবাবী হাড্ডি তৈরি হয়ে গিয়েছে।
তড়িগড়ি করে বিছানা থেকে ওঠেই হাত মুখ ধুইয়ে মাড়াই ঘরে বসলাম।
কয়েক মিনিটের ভিতর বখতিয়ারের বউ অঙ্গাবঙ্গা পিঠা দিয়ে গেলো। সেই সাথে বখতিয়ার নিয়ে এলো তার হাতের স্পেশাল রান্না করা সেই কাবাবী হাড্ডি।
কাবাবী হাড্ডির ঘ্রানটাও ছিলো সেইরকম। আহাঃএমন রসালো কিবা মাংসাসী ঘ্রান আমি আগে কোথাও পাইনি। ঘ্রানেই ৫০%পেটের টাংকি মনে হয় ভরে গেছে।
বড় বন মোড়গের একটা পায়ের মাংসাসী হাড্ডি ও কিছু ঝোল দেওয়া হলো। শুরুতেই অঙ্গাবঙ্গা পিঠা দিয়ে সেই ঝোলে চুবিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। আহাঃ কি অমৃত মনে হচ্ছিলে। কাবাব না খেয়ে শুধুমাত্র ঝোল দিয়েই এতো তৃপ্তি পাচ্ছিলাম, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

বন্ধু বখতিয়ারও খেতে খেতে বলতে লাগলো, দোস্ত গোশতের স্বাদ কখন বেশি পাওয়া যায় জানিস?
আমি মাথা নেড়ে “না “বলতেই বখতিয়ার জানালো, তখনই স্বাদ বেশি পাওয়া যায়, যখন ঐ গোশতে রস থাকে। গোশত কিবা হাড্ডিতে রস না থাকলে বাড়ির পোষা কুত্তাও নাকি চাটে না।
বন্ধু বখতিয়ার খুব দামি একটা কথা বলেছে। সত্যিই তো, হাড্ডিতে রস না থাকলে কুত্তাও চাটে না। এমন আমি বহু কুকুরকে দেখেছি।
সে যা ই হোক। ইতিমধ্যে কথার ফাক ফোকড়ে আমি অঙ্গবঙ্গা পিঠা পাঁচটি খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছি।
ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে সব ঝোল গুলো পেটস্থ করে এবার খানা ধটলাম কাবাবী হাড্ডি।
চার কামড়েই কাবাবী হাড্ডি খেয়ে সাবাড় করলাম।
আহাঃ!বাংলার আনাচে কানাচে বখতিয়ারের মতো এই বন্ধুদের কারনেই এমন সব নাহুল্লা খানা গুলো খেতে পারছি।
আমার খুব ইচ্ছে জীবনের ষোলআনা সব খানা গুলো খেয়ে নিতে।
এসব খানা পেলে আমি আর কিছুই বুঝতে চাইনা। আমি সব জিনিসের ভাগ দিতে রাজি। কিন্তু নব আয়োজিত খানার ভাগ দিতে রাজী নই।
জাতীয় আরো খবর.......
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নান্দাইলে প্রতিবন্ধি নজরুলকে হুইলচেয়ার উপহার

কাবাবী হাড্ডি

আপডেট টাইম : ০৪:২৩:০৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৩ মে ২০২২
মো ইব্রাহীম খলিল।।
বরাবরই আমি একজন ভ্রমনপিপাসু এবং ছোট খাটো একজন নব খাদক টাইপের মানুষ। সত্যি বলতে আমি চরম খাই খাই স্বভাবের লোক মনে হলেও তেমন খেতে পারিনা। কিন্তু আমার মন ও মজ্জায় নতুন নতুন আইটেমের খানা খাওয়ার এক তীব্র নেশা ভর করে থাকে।
২০১৬সালে গিয়েছিলাম খাগড়াছড়ি প্রত্যন্ত এলাকা গুইমারায়। সেখানে স্থানীয় কলম বন্ধু আমাকে তার ওখানকার এক বিশেষ খানার নিমন্ত্রন করেছে। এই খানাটাকে তারা বলে থাকে “কাবাবী হাড্ডি”।
আমি জীবনে বহু কাবাব খেয়েছি। কিন্তু কাবাবী হাড্ডি কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে আমার কোনো পূর্ব ধারনাই ছিলো না।
কলম বন্ধু বখতিয়ার আমাকে তুর্কী স্পেশালিষ্ট কাবাবী হাড্ডি খাওয়াবে বলে আশ্বস্ত করেন।
বখতিয়ার নিজেও একজন সেরা রন্ধনবাজ। তার হাতের গুনাগুন প্রচুর।
বখতিয়ার নতুন বিয়ে করেছিলো। সেই সুবাধে নতুন ভাবিরও একটা গুনের কথা জানতে পারি। ভাবিও নাকি বিশেষ এক পিঠা বানাতে পারে, সেই পিঠার নাম “” অঙ্গাবঙ্গা”।
বন্ধু বখতিয়ার আমাকে আরো জানালো তার হাতে রান্না করা সেই কাবাবী হাড্ডি দিয়ে বউয়ের হাতের অঙ্গাবঙ্গা পিঠা খেতে নাকি খুব সুস্বাদু।
আমি বখতিয়ারের মুখে কাবাবী হাড্ডি এবং সেই অঙ্গাবঙ্গা পিঠার কথা শুনে খাওয়ার জন্য চরম মরিয়া হয়ে গেলাম। আহাঃকখন খাবো সেই মোহনীয় রসালো খাবার।

বখতিয়ার আমাকে জানালো তার কাবাবী হাড্ডি সাধারণ মাংস রান্নার মত হলেও সেটা আদৌ সাধারন কোনো রন্ধন নয়। এটা রান্নার প্রক্রিয়াটাই ভিন্ন। খেলেই নাকি বোঝা যাবে তার স্বাদ কেমন ব্যাতিক্রম।
দুপুরে হাইট্যা চাউলের ভাত আর  লইট্যা শুটকির ভর্তা দিয়ে ভাত খেলাম। পাহাড়ী খানা বলে কথা। এখানে মেহমানকে মাংসের বদলে শুটকি ভুনার প্রচলনটাই নাকি বেশি। তবে লইট্যা শুটকির ভর্তাটা চরম সুস্বাদু হয়েছে।
বখতিয়ার জানালো, কাবাবী হাড্ডি খাওয়ার উপযুক্ত সময় হলো বিকালে। ঐ সময় খেলে স্বাদটা নাকি ভালো করেই অস্বাধন করা যায়।
বখতিয়ারের বউ ঝুমু ভাবি  অঙ্গাবঙ্গা নামক পিঠা বানাতে ব্যস্ত। এই পিঠা নাকি মাসকলাইয়ের ডাল, চাউল ভাজা গুড়ো করে আরো কি কি আইটেম মিশিয়ে বানানো হয়। সে যা ই হোক, অঙ্গাবঙ্গা নিয়ে আমার তেমন একটা আগ্রহ নেই। সত্যি বলতে পিঠা আমি একটু কমই খাই।
বরাবরই আমি মাংসের প্রতি অতি সংবেদনশীল ছিলাম। তাই মন শুধু খুঁজে বেড়াচ্ছে, কখন সেই কাবাবী হাড্ডি খাবো।
আমি বখতিয়ারের কাছে জানতে পারি, সেই কাবাবী হাড্ডি রান্না করার উপকরন হলো–নতুন পাকা তেঁতুর ঝুল,সরিষা তৈল, আর সব রকম  মাংসের মশলা,ঘাওয়া ঘি,উস্তুনের গোটা,তুর্কিভুরার রস সহ আরো কিছু বিদেশী মশলা।
বখতিয়ার এই কাবাবী হাড্ডির বিশেষ সব মশলা গুলো কাজাকিস্তান থেকেই এনেছে। ঐখানে তার এক কাজিন থাকে, সে..ই প্রয়োজন হলে কুরিয়ারে ওসব রসদ গুলে নাকি পাঠায়।
দুপুরে ভাত খেয়ে হালকা নিদ্রা গিয়েছিলাম। সেই ঘুম ভাঙলো বাদ আসর বন্ধু বখতিয়ারের ডাকে।
ঘুম ভাঙতেই বন্ধু বখতিয়ার জানালো কাবাবী হাড্ডি তৈরি হয়ে গিয়েছে।
তড়িগড়ি করে বিছানা থেকে ওঠেই হাত মুখ ধুইয়ে মাড়াই ঘরে বসলাম।
কয়েক মিনিটের ভিতর বখতিয়ারের বউ অঙ্গাবঙ্গা পিঠা দিয়ে গেলো। সেই সাথে বখতিয়ার নিয়ে এলো তার হাতের স্পেশাল রান্না করা সেই কাবাবী হাড্ডি।
কাবাবী হাড্ডির ঘ্রানটাও ছিলো সেইরকম। আহাঃএমন রসালো কিবা মাংসাসী ঘ্রান আমি আগে কোথাও পাইনি। ঘ্রানেই ৫০%পেটের টাংকি মনে হয় ভরে গেছে।
বড় বন মোড়গের একটা পায়ের মাংসাসী হাড্ডি ও কিছু ঝোল দেওয়া হলো। শুরুতেই অঙ্গাবঙ্গা পিঠা দিয়ে সেই ঝোলে চুবিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। আহাঃ কি অমৃত মনে হচ্ছিলে। কাবাব না খেয়ে শুধুমাত্র ঝোল দিয়েই এতো তৃপ্তি পাচ্ছিলাম, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

বন্ধু বখতিয়ারও খেতে খেতে বলতে লাগলো, দোস্ত গোশতের স্বাদ কখন বেশি পাওয়া যায় জানিস?
আমি মাথা নেড়ে “না “বলতেই বখতিয়ার জানালো, তখনই স্বাদ বেশি পাওয়া যায়, যখন ঐ গোশতে রস থাকে। গোশত কিবা হাড্ডিতে রস না থাকলে বাড়ির পোষা কুত্তাও নাকি চাটে না।
বন্ধু বখতিয়ার খুব দামি একটা কথা বলেছে। সত্যিই তো, হাড্ডিতে রস না থাকলে কুত্তাও চাটে না। এমন আমি বহু কুকুরকে দেখেছি।
সে যা ই হোক। ইতিমধ্যে কথার ফাক ফোকড়ে আমি অঙ্গবঙ্গা পিঠা পাঁচটি খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছি।
ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে সব ঝোল গুলো পেটস্থ করে এবার খানা ধটলাম কাবাবী হাড্ডি।
চার কামড়েই কাবাবী হাড্ডি খেয়ে সাবাড় করলাম।
আহাঃ!বাংলার আনাচে কানাচে বখতিয়ারের মতো এই বন্ধুদের কারনেই এমন সব নাহুল্লা খানা গুলো খেতে পারছি।
আমার খুব ইচ্ছে জীবনের ষোলআনা সব খানা গুলো খেয়ে নিতে।
এসব খানা পেলে আমি আর কিছুই বুঝতে চাইনা। আমি সব জিনিসের ভাগ দিতে রাজি। কিন্তু নব আয়োজিত খানার ভাগ দিতে রাজী নই।