ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তানোরে সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমপি মুুজিবুবের পৃথক মতবিনিময় সভা! Logo নবর্নিবাচিত সাংসদকে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সংবর্ধনা Logo গংগাছড়া উপজেলায় ক্যাসিনো খেলায় প্রতিটি যুবক আসক্ত ৩ নং বড়বিল মন্থনা বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে Logo জামালপুরে ৪টি ইফতার সামগ্রীর দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা Logo লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ সিম বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ জন Logo বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি আটক Logo আনোয়ারায় রাতের আঁধারে পরৈকোড়া ইউনিয়নের সাদ্দামের বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ, Logo বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে ইটভাটা, পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতি Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

রাউজানে বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪০

চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহরে হামলার জেরে সংঘটিত দুইপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের রাউজানের সর্ত্তারঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে গোলাম আকবর খন্দকার নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তার গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহরে হামলা করলে এ সংঘর্ষ বাধে।

অভিযোগ আছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাউজানে নিজেদের অধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তাদের অনুসারীরা মরিয়া হয়ে উঠেন। এর জের ধরে গত ৮ মাসে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাটিও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং তা ধরে রাখার লড়াইয়ের অংশ বলে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

গোলাম আকবর ছাড়াও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন তারা হলেন- আনোয়ার হোসেন, নাসিম উদ্দিন চৌধুরী, অর্জুন কুমার নাথ, আসিকুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন, আওরঙ্গজেব সম্রাট, নাঈম উদ্দিন মিনহাজ, মোহাম্মদ হুমায়ুনসহ ২০ জন।

অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রুপের মধ্যে আহত যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- মো. হেলাল, তাফসি, সুমন, গাজী সুলতান, রেওয়াজ উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, অনিক, মিরাজ, জনি, রিয়াদ, আজগর, শাহাদাত মির্জা, রিবন, আমির, সাজ্জাদ, সুমন, সাইমুন, রিপন, গিয়াস উদ্দিন মুন্না, তারেক, সোহেল, রবিউল, আবদুস শুক্কুর প্রমুখ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে উপজেলার সুলতানপুরে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি মহিউদ্দিন আহমদের কবর জিয়ারত করতে যান গোলাম আকবর খোন্দকার। একই দিন আগামী ৯ আগস্ট সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে পূর্বনির্ধারিত মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার কর্মসূচি ছিল গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীদের। গোলাম আকবর তার গাড়িবহর নিয়ে সর্ত্তারঘাট এলাকায় পৌঁছলে সেখানে অবস্থান নেওয়া গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীদের মুখোমুখি হন।

প্রথমেই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহর লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। ওই সময়ে পালটা পাথর নিক্ষেপ করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন আকবরের অনুসারীরা। একপর্যায়ে গোলাম আকবর খোন্দকার যে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন সেই গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে আসেন গোলাম আকবর খোন্দকার।

সরেজমিন দেখা যায়, গোলাম আকবরের ব্যবহৃত পাজেরো জিপের সামনের পেছনের কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এ সময় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল। ঘটনার পরপরই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে পুলিশ আসার পর সড়কের একপাশে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার বলেন, আমরা রাউজানে প্রয়াত বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলাম। সর্ত্তারঘাট এলাকায় পৌঁছার আগেই গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীরা গহিরা সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা যখন রাউজান সত্তারহাট এলাকায় পৌঁছি তখন আমাদের ওপর তার ৪০-৫০ জন অনুসারী হামলা শুরু করে। তারা এসময় গুলিও করে। তখন আমার ঘাড়ে ছররা গুলির আঘাত লেগেছে।

ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুনসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, আমি আগে থেকেই খবর পাচ্ছিলাম এ রকম কিছু একটা ঘটবে। সেই কারণে আমি জেলা পুলিশের এসপিকে জানিয়েছিলাম বিষয়টি। পুলিশের পক্ষ থেকে অভয় দেওয়ার পর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমি রাউজানে যাই। এরপরও হামলার ঘটনা ঘটল।

তবে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

যদিও গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এটি ছিল পরিকল্পিত হামলা। যুবদলের শান্তিপূর্ণ মোটর শোভাযাত্রায় এলোপাতাড়ি গুলি করেছে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা। তিনি শান্ত রাউজানকে অশান্ত করছেন বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে। মঙ্গলবার হামলার ঘটনায় তাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, একপক্ষ কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিল, আরেকপক্ষের শোভাযাত্রা ছিল। সর্ত্তারঘাট এলাকায় গোলাম আকবর খোন্দকার তার অনুসারীদের নিয়ে গাড়িবহরে যাওয়ার সময় দুইপক্ষ মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত হয়। পরে তাদের টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরুতে কিছুটা সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে স্বাভাবিক হয়।

রাউজানে গত বছরের ৫ আগস্টের পর সহিংসতায় মোট ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির দুইপক্ষে সংঘর্ষ হয় শতাধিকবার। এসব ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তানোরে সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমপি মুুজিবুবের পৃথক মতবিনিময় সভা!

রাউজানে বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪০

আপডেট সময় ০৯:৪১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহরে হামলার জেরে সংঘটিত দুইপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের রাউজানের সর্ত্তারঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে গোলাম আকবর খন্দকার নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তার গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহরে হামলা করলে এ সংঘর্ষ বাধে।

অভিযোগ আছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাউজানে নিজেদের অধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তাদের অনুসারীরা মরিয়া হয়ে উঠেন। এর জের ধরে গত ৮ মাসে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাটিও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং তা ধরে রাখার লড়াইয়ের অংশ বলে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

গোলাম আকবর ছাড়াও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন তারা হলেন- আনোয়ার হোসেন, নাসিম উদ্দিন চৌধুরী, অর্জুন কুমার নাথ, আসিকুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন, আওরঙ্গজেব সম্রাট, নাঈম উদ্দিন মিনহাজ, মোহাম্মদ হুমায়ুনসহ ২০ জন।

অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রুপের মধ্যে আহত যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- মো. হেলাল, তাফসি, সুমন, গাজী সুলতান, রেওয়াজ উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, অনিক, মিরাজ, জনি, রিয়াদ, আজগর, শাহাদাত মির্জা, রিবন, আমির, সাজ্জাদ, সুমন, সাইমুন, রিপন, গিয়াস উদ্দিন মুন্না, তারেক, সোহেল, রবিউল, আবদুস শুক্কুর প্রমুখ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে উপজেলার সুলতানপুরে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি মহিউদ্দিন আহমদের কবর জিয়ারত করতে যান গোলাম আকবর খোন্দকার। একই দিন আগামী ৯ আগস্ট সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে পূর্বনির্ধারিত মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার কর্মসূচি ছিল গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীদের। গোলাম আকবর তার গাড়িবহর নিয়ে সর্ত্তারঘাট এলাকায় পৌঁছলে সেখানে অবস্থান নেওয়া গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীদের মুখোমুখি হন।

প্রথমেই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহর লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। ওই সময়ে পালটা পাথর নিক্ষেপ করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন আকবরের অনুসারীরা। একপর্যায়ে গোলাম আকবর খোন্দকার যে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন সেই গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে আসেন গোলাম আকবর খোন্দকার।

সরেজমিন দেখা যায়, গোলাম আকবরের ব্যবহৃত পাজেরো জিপের সামনের পেছনের কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এ সময় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল। ঘটনার পরপরই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে পুলিশ আসার পর সড়কের একপাশে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার বলেন, আমরা রাউজানে প্রয়াত বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলাম। সর্ত্তারঘাট এলাকায় পৌঁছার আগেই গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীরা গহিরা সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা যখন রাউজান সত্তারহাট এলাকায় পৌঁছি তখন আমাদের ওপর তার ৪০-৫০ জন অনুসারী হামলা শুরু করে। তারা এসময় গুলিও করে। তখন আমার ঘাড়ে ছররা গুলির আঘাত লেগেছে।

ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুনসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, আমি আগে থেকেই খবর পাচ্ছিলাম এ রকম কিছু একটা ঘটবে। সেই কারণে আমি জেলা পুলিশের এসপিকে জানিয়েছিলাম বিষয়টি। পুলিশের পক্ষ থেকে অভয় দেওয়ার পর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমি রাউজানে যাই। এরপরও হামলার ঘটনা ঘটল।

তবে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

যদিও গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এটি ছিল পরিকল্পিত হামলা। যুবদলের শান্তিপূর্ণ মোটর শোভাযাত্রায় এলোপাতাড়ি গুলি করেছে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা। তিনি শান্ত রাউজানকে অশান্ত করছেন বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে। মঙ্গলবার হামলার ঘটনায় তাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, একপক্ষ কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিল, আরেকপক্ষের শোভাযাত্রা ছিল। সর্ত্তারঘাট এলাকায় গোলাম আকবর খোন্দকার তার অনুসারীদের নিয়ে গাড়িবহরে যাওয়ার সময় দুইপক্ষ মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত হয়। পরে তাদের টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরুতে কিছুটা সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে স্বাভাবিক হয়।

রাউজানে গত বছরের ৫ আগস্টের পর সহিংসতায় মোট ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির দুইপক্ষে সংঘর্ষ হয় শতাধিকবার। এসব ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হন।


প্রিন্ট