ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo নবীনগরে মতবিনিময় সভা: তৃণমূলে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আন্তরিকতার আহ্বান জেলা প্রশাসকের Logo অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে Logo কিশোর গঞ্জ জেলা ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের আদেশেও দায়িত্ব পাননি চেয়ারম্যান রিপন Logo ছয় মাসেও ফেরেনি প্রতিবন্ধী রাজ্জাকের দোকান, আশ্বাসেই থমকে আছে প্রশাসনিক উদ্যোগ Logo রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ Logo জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পায়নি ইইউ Logo কক্সবাজারে এমপি কাজলের প্রচেষ্টায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া হল বড় প্রকল্প Logo চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩

চাঁদ উদ্যানের ‘চোর বিদ্যুৎ দস্যু’: একজন মিটার রিডারের ভয়ঙ্কর গল্প!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • ২৫৪ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর মিটার রিডার পদ যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মকর্তা অবৈধ সংযোগ ও মিটার কারসাজির মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অবৈধ সম্পদ। এমনই একজন আলোচিত নাম একেএম রফিকুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক ও বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসছিলেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের ঘুষ। পাশাপাশি, মিটার টেম্পারিং ও বিল কারসাজির মাধ্যমে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকেও আদায় করেন বিপুল অর্থ।

২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সোয়েব হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রফিকুল ইসলাম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন, যার সাথে তাঁর চাকরির আয় মেলেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুলের রয়েছে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে দুটি বহুতল ভবন (বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি টাকা), কাটাসুর ও লালমাটিয়ায় দুটি ফ্ল্যাট, নিজ এলাকায় কয়েক একর জমি, দুটি মোটরবাইক, দুটি মাইক্রোবাস ও একটি বন্ধকী ফ্ল্যাট।

বাড়ির কেয়ারটেকার আইয়ুব আলী জানান, “এই বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম। তবে কীভাবে এত সম্পদ করেছেন, আমি জানি না।”

জানা যায়, এর আগেও একাধিক সাংবাদিকের কাছে রফিকুল নিজের দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছিলেন, আবার প্রতিবেদন প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন ও ঘুষের প্রস্তাব দেন। এমনকি এক সাংবাদিককে ডিজিএফআই দিয়ে তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে একটি ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে দেওয়া স্থায়ী ঠিকানাও সন্দেহজনক। সহকর্মীদের দাবি, পাবনার সাথিয়া উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে রফিকুল নামে কেউ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে চাকরি নিয়েছেন।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, রফিকুল সম্প্রতি বকশিবাজার কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন। সেখানে গিয়েও তাঁর দুর্নীতি থেমে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকর্মী জানান, তিনি দুর্নীতিবাজ মিটার রিডারদের একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে।

ডিপিডিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিকবার তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চাঁদ উদ্যানের ‘চোর বিদ্যুৎ দস্যু’: একজন মিটার রিডারের ভয়ঙ্কর গল্প!

আপডেট সময় ০১:০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর মিটার রিডার পদ যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মকর্তা অবৈধ সংযোগ ও মিটার কারসাজির মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অবৈধ সম্পদ। এমনই একজন আলোচিত নাম একেএম রফিকুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক ও বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসছিলেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের ঘুষ। পাশাপাশি, মিটার টেম্পারিং ও বিল কারসাজির মাধ্যমে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকেও আদায় করেন বিপুল অর্থ।

২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সোয়েব হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রফিকুল ইসলাম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন, যার সাথে তাঁর চাকরির আয় মেলেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুলের রয়েছে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে দুটি বহুতল ভবন (বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি টাকা), কাটাসুর ও লালমাটিয়ায় দুটি ফ্ল্যাট, নিজ এলাকায় কয়েক একর জমি, দুটি মোটরবাইক, দুটি মাইক্রোবাস ও একটি বন্ধকী ফ্ল্যাট।

বাড়ির কেয়ারটেকার আইয়ুব আলী জানান, “এই বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম। তবে কীভাবে এত সম্পদ করেছেন, আমি জানি না।”

জানা যায়, এর আগেও একাধিক সাংবাদিকের কাছে রফিকুল নিজের দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছিলেন, আবার প্রতিবেদন প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন ও ঘুষের প্রস্তাব দেন। এমনকি এক সাংবাদিককে ডিজিএফআই দিয়ে তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে একটি ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে দেওয়া স্থায়ী ঠিকানাও সন্দেহজনক। সহকর্মীদের দাবি, পাবনার সাথিয়া উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে রফিকুল নামে কেউ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে চাকরি নিয়েছেন।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, রফিকুল সম্প্রতি বকশিবাজার কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন। সেখানে গিয়েও তাঁর দুর্নীতি থেমে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকর্মী জানান, তিনি দুর্নীতিবাজ মিটার রিডারদের একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে।

ডিপিডিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিকবার তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট