ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি আটক Logo আনোয়ারায় রাতের আঁধারে পরৈকোড়া ইউনিয়নের সাদ্দামের বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ, Logo বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে ইটভাটা, পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতি Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা Logo আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের Logo বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা Logo নাসিরনগরে অবৈধ মাটি কাটায় দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা, ৫ ট্রাক্টর জব্দ Logo পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল Logo শিবিরের জনশক্তিকে বৃহত্তর নেতৃত্বের যোগ্যতায় গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর

চাঁদ উদ্যানের ‘চোর বিদ্যুৎ দস্যু’: একজন মিটার রিডারের ভয়ঙ্কর গল্প!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • ২১৫ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর মিটার রিডার পদ যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মকর্তা অবৈধ সংযোগ ও মিটার কারসাজির মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অবৈধ সম্পদ। এমনই একজন আলোচিত নাম একেএম রফিকুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক ও বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসছিলেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের ঘুষ। পাশাপাশি, মিটার টেম্পারিং ও বিল কারসাজির মাধ্যমে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকেও আদায় করেন বিপুল অর্থ।

২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সোয়েব হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রফিকুল ইসলাম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন, যার সাথে তাঁর চাকরির আয় মেলেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুলের রয়েছে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে দুটি বহুতল ভবন (বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি টাকা), কাটাসুর ও লালমাটিয়ায় দুটি ফ্ল্যাট, নিজ এলাকায় কয়েক একর জমি, দুটি মোটরবাইক, দুটি মাইক্রোবাস ও একটি বন্ধকী ফ্ল্যাট।

বাড়ির কেয়ারটেকার আইয়ুব আলী জানান, “এই বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম। তবে কীভাবে এত সম্পদ করেছেন, আমি জানি না।”

জানা যায়, এর আগেও একাধিক সাংবাদিকের কাছে রফিকুল নিজের দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছিলেন, আবার প্রতিবেদন প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন ও ঘুষের প্রস্তাব দেন। এমনকি এক সাংবাদিককে ডিজিএফআই দিয়ে তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে একটি ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে দেওয়া স্থায়ী ঠিকানাও সন্দেহজনক। সহকর্মীদের দাবি, পাবনার সাথিয়া উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে রফিকুল নামে কেউ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে চাকরি নিয়েছেন।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, রফিকুল সম্প্রতি বকশিবাজার কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন। সেখানে গিয়েও তাঁর দুর্নীতি থেমে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকর্মী জানান, তিনি দুর্নীতিবাজ মিটার রিডারদের একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে।

ডিপিডিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিকবার তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন

চাঁদ উদ্যানের ‘চোর বিদ্যুৎ দস্যু’: একজন মিটার রিডারের ভয়ঙ্কর গল্প!

আপডেট সময় ০১:০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর মিটার রিডার পদ যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মকর্তা অবৈধ সংযোগ ও মিটার কারসাজির মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অবৈধ সম্পদ। এমনই একজন আলোচিত নাম একেএম রফিকুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক ও বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসছিলেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের ঘুষ। পাশাপাশি, মিটার টেম্পারিং ও বিল কারসাজির মাধ্যমে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকেও আদায় করেন বিপুল অর্থ।

২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সোয়েব হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রফিকুল ইসলাম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন, যার সাথে তাঁর চাকরির আয় মেলেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুলের রয়েছে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে দুটি বহুতল ভবন (বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি টাকা), কাটাসুর ও লালমাটিয়ায় দুটি ফ্ল্যাট, নিজ এলাকায় কয়েক একর জমি, দুটি মোটরবাইক, দুটি মাইক্রোবাস ও একটি বন্ধকী ফ্ল্যাট।

বাড়ির কেয়ারটেকার আইয়ুব আলী জানান, “এই বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম। তবে কীভাবে এত সম্পদ করেছেন, আমি জানি না।”

জানা যায়, এর আগেও একাধিক সাংবাদিকের কাছে রফিকুল নিজের দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছিলেন, আবার প্রতিবেদন প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন ও ঘুষের প্রস্তাব দেন। এমনকি এক সাংবাদিককে ডিজিএফআই দিয়ে তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে একটি ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে দেওয়া স্থায়ী ঠিকানাও সন্দেহজনক। সহকর্মীদের দাবি, পাবনার সাথিয়া উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে রফিকুল নামে কেউ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে চাকরি নিয়েছেন।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, রফিকুল সম্প্রতি বকশিবাজার কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন। সেখানে গিয়েও তাঁর দুর্নীতি থেমে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকর্মী জানান, তিনি দুর্নীতিবাজ মিটার রিডারদের একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে।

ডিপিডিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিকবার তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট