ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন Logo নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি উদ্ধার সম্পন্ন, লাইন স্থাপনের কাজ চলছে Logo মহম্মদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ পেল ৫৮৫ জন Logo জামালপুরে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo জামালপুরে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo শ’হীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রু’হের মা’গফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল Logo বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ Logo ইরানে লারিজানি-সোলেইমানিসহ নৌসেনাদের জানাজা অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর এান তহবিল থেকে পীরগঞ্জে ৩শ পরিবারের মাঝে ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ 

প্রায় দেড় যুগ পর ঠাকুরগাঁওয়ে মন্দিরের ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার// ব্যস্ত কুমোরটলির প্রতিমাশিল্পীরা, চলছে পূজার আয়োজন

প্রায় দেড় যুগ পর ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহাসিক রসিক রায় জিউ মন্দির থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পর এই অচলাবস্থা ভেঙে এ বছর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করা হয়। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে এই মন্দির এলাকায় মূর্তি তৈরি ও মন্ডপ সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে শ্রীশ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সনাতনী ও ইসকনপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মন্দিরের সেবায়েত ফুলবাবু নির্মমভাবে নিহত হন। তখন থেকেই দুর্গাপূজার সময় মন্দির এলাকায় জারি ছিল প্রশাসনের ১৪৪ ধারা। এ বছর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে অনুমতি দিয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজা আয়োজনের। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর এই মন্দিরে আবারও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভক্ত ও স্থানীয়রা ভীষণ আনন্দিত।

স্থানীয় বাসিন্দা মৃগেণ চন্দ্র বলেন, “ প্রায় দেড় যুগ বা ১৬টা বছর আমরা অন্যের মন্দিরে পূজা করেছি। নিজেদের মন্দিরে পূজা করতে না পারাটা আমাদের জন্য অনেক বড় কষ্টের ছিল। অবশেষে আমরা আমাদের মন্দিরে পূজা আয়োজনের সুযোগ পেয়েছি।”

বিকাশ রায় নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, “আমার বয়স এখন প্রায় ২১ বছর। এ মন্দিরে সর্বশেষ যখন পূজা হয়, তখন আমি খুব ছোটো। সে পূজার কথা আমার মনে নেই। বুঝতে শেখার পর থেকে এখানে তালা ঝুলতে দেখেছি আর বাবার কাছে শুনেছি এখানে অনেক বড় পূজার আয়োজন হতো। এসব শুনে আমার সে পূজো দেখতে খুব ইচ্ছে করতো। এবার আমার সে ইচ্ছে পূরণ হবে।

ঠাকুরগাঁও রসিক রায় জিউ মন্দিরের সেবায়েত অপু সরকার বলেন, ২০০৯ সালের সেই ঘটনাই আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। ফুলবাবুর মৃত্যুতে মন্দিরে এক দুঃসহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন থেকে পূজা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের কাছাকাছি সময় পর আমরা আবারো এখানে পূজা করতে পারছি তাই আমরা আয়োজনে কোনো কমতি রাখছি না। অনেক বড় ও জমকালো আয়োজন হবে আশা করছি।”

পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, “দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রসিক রায় জিউ মন্দিরে এবারের দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভরা এক মহোৎসব। প্রশাসনের সহযোগিতা ও দুই পক্ষের সমঝোতায় যে উৎসবের দ্বার খুলেছে, তা শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন

প্রায় দেড় যুগ পর ঠাকুরগাঁওয়ে মন্দিরের ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার// ব্যস্ত কুমোরটলির প্রতিমাশিল্পীরা, চলছে পূজার আয়োজন

আপডেট সময় ০৫:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রায় দেড় যুগ পর ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহাসিক রসিক রায় জিউ মন্দির থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পর এই অচলাবস্থা ভেঙে এ বছর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করা হয়। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে এই মন্দির এলাকায় মূর্তি তৈরি ও মন্ডপ সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে শ্রীশ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সনাতনী ও ইসকনপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মন্দিরের সেবায়েত ফুলবাবু নির্মমভাবে নিহত হন। তখন থেকেই দুর্গাপূজার সময় মন্দির এলাকায় জারি ছিল প্রশাসনের ১৪৪ ধারা। এ বছর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে অনুমতি দিয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজা আয়োজনের। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর এই মন্দিরে আবারও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভক্ত ও স্থানীয়রা ভীষণ আনন্দিত।

স্থানীয় বাসিন্দা মৃগেণ চন্দ্র বলেন, “ প্রায় দেড় যুগ বা ১৬টা বছর আমরা অন্যের মন্দিরে পূজা করেছি। নিজেদের মন্দিরে পূজা করতে না পারাটা আমাদের জন্য অনেক বড় কষ্টের ছিল। অবশেষে আমরা আমাদের মন্দিরে পূজা আয়োজনের সুযোগ পেয়েছি।”

বিকাশ রায় নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, “আমার বয়স এখন প্রায় ২১ বছর। এ মন্দিরে সর্বশেষ যখন পূজা হয়, তখন আমি খুব ছোটো। সে পূজার কথা আমার মনে নেই। বুঝতে শেখার পর থেকে এখানে তালা ঝুলতে দেখেছি আর বাবার কাছে শুনেছি এখানে অনেক বড় পূজার আয়োজন হতো। এসব শুনে আমার সে পূজো দেখতে খুব ইচ্ছে করতো। এবার আমার সে ইচ্ছে পূরণ হবে।

ঠাকুরগাঁও রসিক রায় জিউ মন্দিরের সেবায়েত অপু সরকার বলেন, ২০০৯ সালের সেই ঘটনাই আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। ফুলবাবুর মৃত্যুতে মন্দিরে এক দুঃসহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন থেকে পূজা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের কাছাকাছি সময় পর আমরা আবারো এখানে পূজা করতে পারছি তাই আমরা আয়োজনে কোনো কমতি রাখছি না। অনেক বড় ও জমকালো আয়োজন হবে আশা করছি।”

পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, “দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রসিক রায় জিউ মন্দিরে এবারের দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভরা এক মহোৎসব। প্রশাসনের সহযোগিতা ও দুই পক্ষের সমঝোতায় যে উৎসবের দ্বার খুলেছে, তা শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


প্রিন্ট