ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজধানীর গুলশান রাজউকের এস্টেট শাখায় উপ-পরিচালক লিটন সরকারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ফাইল গায়েব থেকে বিতর্কিত অনুমোদন Logo এস আলম থেকে ঘুস নেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান Logo দুর্ভোগের রাজধানী কারওয়ান বাজারে অব্যবস্থাপনা, নেপথ্যে চাঁদাবাজি মাহমুদা ডলি Logo মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান Logo আতঙ্কে বাঁশখালী প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ প্রতিবেদন চট্টগ্রাম Logo অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট আলফাজ আনাম Logo আজমিরীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কালভৈরব মেলায় Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

পর্ব -১ বিআইডব্লিউটিএ-তে দূর্নীতিবাজ শাহজাহানকে রুখবে কে!

  • বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় ০৮:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১২৬ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

★ দূদকে একাধিক অভিযোগ তবুও ব্যবস্থা নেই।
★ নিজ নামে, স্ত্রী লিমা তাবাসসুমের নামে ও নিকট আত্মীয়ের নামে সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বানিজ্যসহ ফ্ল্যাট, জমিজমা, দোকানপাট ও বহুতল একাধিক ভবন রয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য দুইশত কোটি টাকার উপরে।
★ দূদক ব্যবস্থা না নেয়া রহস্যজনক মত দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আস্থাভাজন ও সুবিধাভোগী বিআইডব্লিউটিএর নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মোঃ শাহজাহান সিন্ডিকেট তৈরি করে ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে হয়ে উঠেছিলেন বেপরোয়া। তার সিন্ডিকেট বিভিন্ন নামে-বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে শতশত কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে ৫-ই আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শাহজাহান। এমনকি বর্তমানে কিছু প্রভাবশালীকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে পূর্বের মতোই চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপকর্ম। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা হলেও ব্যবস্থা নেই শাহজাহানের বিরুদ্ধে। দূদক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিআইডব্লিউটিএর সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারির মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এমনকি এ ধরনের অপরাধী অপকর্মের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরিচালক শাহজাহান ও অতিরিক্ত পরিচালক(নাবিক) মোঃ আব্দুর রহিম মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর কর্তৃপক্ষের অধীনে সিএন্ডপি আরিচা শাখায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য গত ১২/০৯/২৪ ইং তারিখে মেসার্স পটুয়াখালী এজেন্সি ৩৫ নং সিরাজুদ্দৌলা রোড নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের জন্য ডিজেল, মবিল, কেরোসিন তেল, অকটেন, পেট্রোল, গ্রীজ, হাইড্রোলিক ওয়েল ইত্যাদি ১,৫৯,৪৮,৭৩৫/- (এক কোটি উনষাট লাখ আটচল্লিশ হাজার সাতশত পঁয়ত্রিশ) টাকায় জ্বালানি সরবরাহ করার কার্যাদেশ (NOA) প্রদান করেছেন। ০৩/১১/২০২৪ তারিখে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে আংশিক মাসের জন্য জাহাজ ও পল্টুন সমূহে বিলের জন্য অনুমোদন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১১/১১/২০২৪ খ্রিঃ তারিখে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএর, আরিচা অফিসে কমিটির স্বাক্ষর নিয়ে ৯ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৬ টাকার বিল দাখিল করেন যা ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে অনুমোদন করেছে হিসাব বিভাগ। অতঃপর আরিচা অফিস বিলটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে। বর্তমানে আই বাসের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক হিসাব দপ্তর থেকে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি বিল জমা হচ্ছে। অথচ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরিচা নৌ-বন্দর এলাকায় কোন অফিস নেই। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংক, লরি, ট্যাংকার ও মজুদকৃত গুদাম কোন কিছুই তাদের নেই। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক জাহাজ বাদ্রিং করার কোন অনুমোদন নেই। অপরদিকে কমিটির উপস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা শাখায় তিনজন অফিসারসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও মাস্টার ড্রাইভারদের উপস্থিতিতে জ্বালানি গ্রহণের সময় লগ, ইনভয়েস স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন লোকজনই সরেজমিনে কখনোই উপস্থিত থাকেন না। শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত অফিসারগণ কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই অবৈধ অর্থের বিনিময়ে অফিসে বসেই লগ, ইনভয়েস স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে ইতিপূর্বে তিনবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এতে কোন প্রকার সুরাহা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে পরস্পর যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তদন্তের প্রাক্কালে জাহাজ নিয়ে এসে আবার ঐদিনই চলে যায়। অপর একটি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানের যোগ্যতা না থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ-তে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। এমনকি অবৈধভাবে একাধিক প্রমোশনও পেয়েছেন তিনি। এছাড়া শাহজাহানের নিজ এলাকার নিকটতম আত্নীয় ঠিকাদার মোঃ বাহারকে দিয়ে একাধিক নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিল তৈরি করে লুটপাট করে চলেছেন। কলসি বয়া একটি প্রজেক্ট তৈরি করে তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা যার বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নেই। অথচ এই কলসি বয়াগুলো ১০ বছরের সিকিউরিটি রয়েছে। বয়া বিকন বাতি যা প্রজেক্ট তৈরি করে বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকেন বাহারের কোম্পানির নামে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাহারের কোম্পানির নামে ভূয়া বিল বানিয়ে লুটপাট করেন সরকারি অর্থ। আখি এন্টারপ্রাইজের নামে টিপি-১৩৫ ভূয়া বিল ৭,৭২,০০০/- (সাত লাখ বাহাত্তর হাজার) টাকা। তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে এমপি-১২ এর ভূয়া বিল ৬,৮১,০০০/- (ছয় লাখ একাশি হাজার) টাকা। তানজিল ডগ ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের নামে টিপি-৮০ এর ভূয়া বিল ৭,১৩,৩৫২/- (সাত লাখ তের হাজার তিনশত বায়ান্ন) টাকা ও টিপি-১৭৩ এর ৯,৩৬,০০০/- (নয় লাখ ছত্রিশ হাজার) টাকা। তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে স্পিডবোট-১ এর মেরামতের ভূয়া বিল ৮,৮৪,১০০/- (আট লাখ চুরাশি হাজার একশত) টাকা। আলিফ এন্টারপ্রাইজের নামে টিপি-৪৫ এর ভূয়া বিল ৪,৯৮,১৫১/- (চার লাখ আটানব্বই হাজার একশত একান্ন) টাকা। পি সি পোল মার্কা যা বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়, এসব মার্কা কোন হিসাব দিতে হয় না শুধুমাত্র নদীর মাটি পলি ভেঙ্গে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এমন কথা বলে শাহজাহান প্রত্যেক বছরের বাজেটে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করে থাকেন। এভাবেই শাজাহান সরকারি কোষাগার থেকে হরিলুট করেছেন শতশত কোটি টাকা। নিজ নামে, স্ত্রী লিমা তাবাসসুমের নামে ও নিকট আত্মীয়ের নামে সাভার, কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বানিজ্যসহ ফ্ল্যাট, জমিজমা, দোকানপাট ও বহুতল একাধিক ভবন রয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য দুইশত কোটি টাকার উপরে। শাহজাহানের কোটি কোটি টাকা লোপাট ও আনুমানিক দুইশত কোটি টাকার মালিক হওয়ার ব্যাপারে দূদকে একাধিক অভিযোগের পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অপরাধ বিশ্লেষকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, দূদক ব্যবস্থা না নেয়া রহস্যজনক। দূদকের উচিত বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ধরনের অপরাধী পার পেলে দূর্নীতি উৎসাহিত হবে। বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে শাহজাহানের মুটো ফোনে ফোন করলে প্রতিবেদককে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন ও ধান্ধাবাজ বলে গালি দেন। একাধিক অভিযোগের ব্যাপারে জানতে দূদক কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা দুই/তিন পর বিস্তারিত জানাবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীর গুলশান রাজউকের এস্টেট শাখায় উপ-পরিচালক লিটন সরকারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ফাইল গায়েব থেকে বিতর্কিত অনুমোদন

পর্ব -১ বিআইডব্লিউটিএ-তে দূর্নীতিবাজ শাহজাহানকে রুখবে কে!

আপডেট সময় ০৮:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

★ দূদকে একাধিক অভিযোগ তবুও ব্যবস্থা নেই।
★ নিজ নামে, স্ত্রী লিমা তাবাসসুমের নামে ও নিকট আত্মীয়ের নামে সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বানিজ্যসহ ফ্ল্যাট, জমিজমা, দোকানপাট ও বহুতল একাধিক ভবন রয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য দুইশত কোটি টাকার উপরে।
★ দূদক ব্যবস্থা না নেয়া রহস্যজনক মত দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আস্থাভাজন ও সুবিধাভোগী বিআইডব্লিউটিএর নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মোঃ শাহজাহান সিন্ডিকেট তৈরি করে ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে হয়ে উঠেছিলেন বেপরোয়া। তার সিন্ডিকেট বিভিন্ন নামে-বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে শতশত কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে ৫-ই আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শাহজাহান। এমনকি বর্তমানে কিছু প্রভাবশালীকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে পূর্বের মতোই চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপকর্ম। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা হলেও ব্যবস্থা নেই শাহজাহানের বিরুদ্ধে। দূদক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিআইডব্লিউটিএর সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারির মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এমনকি এ ধরনের অপরাধী অপকর্মের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরিচালক শাহজাহান ও অতিরিক্ত পরিচালক(নাবিক) মোঃ আব্দুর রহিম মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর কর্তৃপক্ষের অধীনে সিএন্ডপি আরিচা শাখায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য গত ১২/০৯/২৪ ইং তারিখে মেসার্স পটুয়াখালী এজেন্সি ৩৫ নং সিরাজুদ্দৌলা রোড নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের জন্য ডিজেল, মবিল, কেরোসিন তেল, অকটেন, পেট্রোল, গ্রীজ, হাইড্রোলিক ওয়েল ইত্যাদি ১,৫৯,৪৮,৭৩৫/- (এক কোটি উনষাট লাখ আটচল্লিশ হাজার সাতশত পঁয়ত্রিশ) টাকায় জ্বালানি সরবরাহ করার কার্যাদেশ (NOA) প্রদান করেছেন। ০৩/১১/২০২৪ তারিখে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে আংশিক মাসের জন্য জাহাজ ও পল্টুন সমূহে বিলের জন্য অনুমোদন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১১/১১/২০২৪ খ্রিঃ তারিখে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএর, আরিচা অফিসে কমিটির স্বাক্ষর নিয়ে ৯ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৬ টাকার বিল দাখিল করেন যা ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে অনুমোদন করেছে হিসাব বিভাগ। অতঃপর আরিচা অফিস বিলটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে। বর্তমানে আই বাসের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক হিসাব দপ্তর থেকে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি বিল জমা হচ্ছে। অথচ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরিচা নৌ-বন্দর এলাকায় কোন অফিস নেই। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংক, লরি, ট্যাংকার ও মজুদকৃত গুদাম কোন কিছুই তাদের নেই। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক জাহাজ বাদ্রিং করার কোন অনুমোদন নেই। অপরদিকে কমিটির উপস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা শাখায় তিনজন অফিসারসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও মাস্টার ড্রাইভারদের উপস্থিতিতে জ্বালানি গ্রহণের সময় লগ, ইনভয়েস স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন লোকজনই সরেজমিনে কখনোই উপস্থিত থাকেন না। শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত অফিসারগণ কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই অবৈধ অর্থের বিনিময়ে অফিসে বসেই লগ, ইনভয়েস স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে ইতিপূর্বে তিনবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এতে কোন প্রকার সুরাহা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে পরস্পর যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তদন্তের প্রাক্কালে জাহাজ নিয়ে এসে আবার ঐদিনই চলে যায়। অপর একটি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানের যোগ্যতা না থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ-তে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। এমনকি অবৈধভাবে একাধিক প্রমোশনও পেয়েছেন তিনি। এছাড়া শাহজাহানের নিজ এলাকার নিকটতম আত্নীয় ঠিকাদার মোঃ বাহারকে দিয়ে একাধিক নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিল তৈরি করে লুটপাট করে চলেছেন। কলসি বয়া একটি প্রজেক্ট তৈরি করে তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা যার বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নেই। অথচ এই কলসি বয়াগুলো ১০ বছরের সিকিউরিটি রয়েছে। বয়া বিকন বাতি যা প্রজেক্ট তৈরি করে বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকেন বাহারের কোম্পানির নামে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাহারের কোম্পানির নামে ভূয়া বিল বানিয়ে লুটপাট করেন সরকারি অর্থ। আখি এন্টারপ্রাইজের নামে টিপি-১৩৫ ভূয়া বিল ৭,৭২,০০০/- (সাত লাখ বাহাত্তর হাজার) টাকা। তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে এমপি-১২ এর ভূয়া বিল ৬,৮১,০০০/- (ছয় লাখ একাশি হাজার) টাকা। তানজিল ডগ ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের নামে টিপি-৮০ এর ভূয়া বিল ৭,১৩,৩৫২/- (সাত লাখ তের হাজার তিনশত বায়ান্ন) টাকা ও টিপি-১৭৩ এর ৯,৩৬,০০০/- (নয় লাখ ছত্রিশ হাজার) টাকা। তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে স্পিডবোট-১ এর মেরামতের ভূয়া বিল ৮,৮৪,১০০/- (আট লাখ চুরাশি হাজার একশত) টাকা। আলিফ এন্টারপ্রাইজের নামে টিপি-৪৫ এর ভূয়া বিল ৪,৯৮,১৫১/- (চার লাখ আটানব্বই হাজার একশত একান্ন) টাকা। পি সি পোল মার্কা যা বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়, এসব মার্কা কোন হিসাব দিতে হয় না শুধুমাত্র নদীর মাটি পলি ভেঙ্গে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এমন কথা বলে শাহজাহান প্রত্যেক বছরের বাজেটে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করে থাকেন। এভাবেই শাজাহান সরকারি কোষাগার থেকে হরিলুট করেছেন শতশত কোটি টাকা। নিজ নামে, স্ত্রী লিমা তাবাসসুমের নামে ও নিকট আত্মীয়ের নামে সাভার, কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বানিজ্যসহ ফ্ল্যাট, জমিজমা, দোকানপাট ও বহুতল একাধিক ভবন রয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য দুইশত কোটি টাকার উপরে। শাহজাহানের কোটি কোটি টাকা লোপাট ও আনুমানিক দুইশত কোটি টাকার মালিক হওয়ার ব্যাপারে দূদকে একাধিক অভিযোগের পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অপরাধ বিশ্লেষকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, দূদক ব্যবস্থা না নেয়া রহস্যজনক। দূদকের উচিত বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ধরনের অপরাধী পার পেলে দূর্নীতি উৎসাহিত হবে। বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে শাহজাহানের মুটো ফোনে ফোন করলে প্রতিবেদককে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন ও ধান্ধাবাজ বলে গালি দেন। একাধিক অভিযোগের ব্যাপারে জানতে দূদক কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা দুই/তিন পর বিস্তারিত জানাবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।


প্রিন্ট