ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এস আলম থেকে ঘুস নেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান Logo দুর্ভোগের রাজধানী কারওয়ান বাজারে অব্যবস্থাপনা, নেপথ্যে চাঁদাবাজি মাহমুদা ডলি Logo মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান Logo আতঙ্কে বাঁশখালী প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ প্রতিবেদন চট্টগ্রাম Logo অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট আলফাজ আনাম Logo আজমিরীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কালভৈরব মেলায় Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!!

প্লাস্টিকের হাঁড়ি-পাতিলের আড়ালে প্রতারণার সাম্রাজ্য ফাঁস — ধুমপাড়ায় ভুয়া কবিরাজ বাবুল শেখের ভয়ঙ্কর খেলা

  • বিশেষ প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৩৩ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের ধুমপাড়া এলাকার সাগরপাড় রোডের পাশে একটি ছোট প্লাস্টিকের হাঁড়ি-পাতিলের দোকান—যেটি সাধারণ মানুষের চোখে একেবারেই নিরীহ ব্যবসা। কিন্তু দোকানের আড়ালে, অন্ধকার স্থানে, সাইনবোর্ডবিহীন একটি ‘গোপন চেম্বার’-এ চলছিল দীর্ঘ সাত বছরের এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার ব্যবসা। এখানেই ভুয়া কবিরাজ বাবুল শেখ অসংখ্য অসহায় ও কুসংস্কারপ্রবণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন।

গোপন অনুসন্ধানী অভিযানে ধরা পড়ে বাবুল শেখ। ক্যামেরায় ধরা পড়ে—রোগীর সামনে রহস্যময় গুঁড়া, পুরনো কাপড়, কোরআন শরীফের স্ট্যান্ড, মন্ত্র লেখা কাগজ, তাবিজ-কবচ ও নানা প্রপস সাজিয়ে বসে আছেন তিনি। পাশে এক অসুস্থ রোগী, যিনি আধুনিক চিকিৎসা না নিয়ে এই ভুয়া কবিরাজের অন্ধ বিশ্বাসে ফেঁসে গিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবুল শেখের কোনো সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই। তবুও তিনি নিজেকে ক্ষমতাধর ‘কবিরাজ’ দাবি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয়, শুধু কবিরাজগিরি নয়—দোকানে প্লাস্টিকের পণ্য বিক্রির আড়ালে তিনি ‘ওজালি’ (ধর্মীয় চিকিৎসা) সেবাও দিচ্ছেন। যখনই কেউ তার লাইসেন্স বা অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে, তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দেন এবং দাবি করেন—“আমার পকেটে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ—সবাই আছে, কেউ আমাকে কিছু করতে পারবে না।”

গত সাত থেকে দশ বছরে অসংখ্য মানুষ তার ফাঁদে পড়েছেন। সংসারের অশান্তি, সন্তান না হওয়া, জন্ডিস, লিভার রোগ—এমনকি মানসিক সমস্যা সমাধানের নামে প্রতিবার হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। অনেকের অবস্থা চিকিৎসাহীনতায় আরও খারাপ হয়েছে, কেউ কেউ সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন।

ভুক্তভোগীদের অনেকেই সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হাতে থাকা ভিডিও, ছবি ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ পেলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

সাংবাদিক সমাজের ভাষায়—“এই ধরনের ভুয়া কবিরাজরা শুধু মানুষের টাকা নয়, জীবন, মানসিক শান্তি ও সামাজিক মর্যাদাও ধ্বংস করছে।”

জনসচেতনতার আহ্বানঃ
কখনো ভুয়া কবিরাজ, ওঝা বা তাবিজ-কবচ ব্যবসায়ীর ফাঁদে পা দেবেন না। রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত ডাক্তার ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নিন। কুসংস্কারের নামে আপনার অর্থ ও জীবন দুটোই যেন ধ্বংস না হয়।

প্রশাসনের প্রতি নিরীহ মানুষের দাবি:
অবিলম্বে বাবুল শেখ ও তার মতো প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনুন, যাতে অন্য প্রতারকেরা ভয় পায় এবং এ ধরনের কালোবাজারি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়।


প্রিন্ট
ট্যাগস :

এস আলম থেকে ঘুস নেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান

প্লাস্টিকের হাঁড়ি-পাতিলের আড়ালে প্রতারণার সাম্রাজ্য ফাঁস — ধুমপাড়ায় ভুয়া কবিরাজ বাবুল শেখের ভয়ঙ্কর খেলা

আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের ধুমপাড়া এলাকার সাগরপাড় রোডের পাশে একটি ছোট প্লাস্টিকের হাঁড়ি-পাতিলের দোকান—যেটি সাধারণ মানুষের চোখে একেবারেই নিরীহ ব্যবসা। কিন্তু দোকানের আড়ালে, অন্ধকার স্থানে, সাইনবোর্ডবিহীন একটি ‘গোপন চেম্বার’-এ চলছিল দীর্ঘ সাত বছরের এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার ব্যবসা। এখানেই ভুয়া কবিরাজ বাবুল শেখ অসংখ্য অসহায় ও কুসংস্কারপ্রবণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন।

গোপন অনুসন্ধানী অভিযানে ধরা পড়ে বাবুল শেখ। ক্যামেরায় ধরা পড়ে—রোগীর সামনে রহস্যময় গুঁড়া, পুরনো কাপড়, কোরআন শরীফের স্ট্যান্ড, মন্ত্র লেখা কাগজ, তাবিজ-কবচ ও নানা প্রপস সাজিয়ে বসে আছেন তিনি। পাশে এক অসুস্থ রোগী, যিনি আধুনিক চিকিৎসা না নিয়ে এই ভুয়া কবিরাজের অন্ধ বিশ্বাসে ফেঁসে গিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবুল শেখের কোনো সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই। তবুও তিনি নিজেকে ক্ষমতাধর ‘কবিরাজ’ দাবি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয়, শুধু কবিরাজগিরি নয়—দোকানে প্লাস্টিকের পণ্য বিক্রির আড়ালে তিনি ‘ওজালি’ (ধর্মীয় চিকিৎসা) সেবাও দিচ্ছেন। যখনই কেউ তার লাইসেন্স বা অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে, তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দেন এবং দাবি করেন—“আমার পকেটে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ—সবাই আছে, কেউ আমাকে কিছু করতে পারবে না।”

গত সাত থেকে দশ বছরে অসংখ্য মানুষ তার ফাঁদে পড়েছেন। সংসারের অশান্তি, সন্তান না হওয়া, জন্ডিস, লিভার রোগ—এমনকি মানসিক সমস্যা সমাধানের নামে প্রতিবার হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। অনেকের অবস্থা চিকিৎসাহীনতায় আরও খারাপ হয়েছে, কেউ কেউ সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন।

ভুক্তভোগীদের অনেকেই সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হাতে থাকা ভিডিও, ছবি ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ পেলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

সাংবাদিক সমাজের ভাষায়—“এই ধরনের ভুয়া কবিরাজরা শুধু মানুষের টাকা নয়, জীবন, মানসিক শান্তি ও সামাজিক মর্যাদাও ধ্বংস করছে।”

জনসচেতনতার আহ্বানঃ
কখনো ভুয়া কবিরাজ, ওঝা বা তাবিজ-কবচ ব্যবসায়ীর ফাঁদে পা দেবেন না। রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত ডাক্তার ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নিন। কুসংস্কারের নামে আপনার অর্থ ও জীবন দুটোই যেন ধ্বংস না হয়।

প্রশাসনের প্রতি নিরীহ মানুষের দাবি:
অবিলম্বে বাবুল শেখ ও তার মতো প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনুন, যাতে অন্য প্রতারকেরা ভয় পায় এবং এ ধরনের কালোবাজারি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়।


প্রিন্ট