রহমান বলেছেন, আগামী দিনের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর জনশক্তিকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জনে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “বিজয়ের ধারাবাহিকতায় নৈতিকতার ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান শক্তি ও মর্যাদার জায়গা হলো নৈতিকতা। সুতরাং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।”
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬-এর প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিবির নেতাদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, নামাজ নৈতিকতার ভিত্তি। কোনো অজুহাতেই নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। যুবক বয়স থেকেই যারা গোপন ও প্রকাশ্য নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হন, তাদের ব্যবহারিক জীবনে এর প্রভাব আমৃত্যু থেকে যায়। মানুষের নৈতিক সৌন্দর্য অন্যদের আকৃষ্ট করলে তাদের বিজয় রোধ করার শক্তি কারও থাকবে না।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে দারসুল কোরআন পেশ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ মো. রেজবুল হক (প্লাবন)-এর পিতা মো. আজাদুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং জাহিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। পরিষদের সদস্যদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা, সভাপতিকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান, সংবিধান অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নের তদারকি এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে ভূমিকা রাখা অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জনশক্তির নৈতিক মানোন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা ও চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষণে নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশ-জাতির কল্যাণে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
দিনব্যাপী অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ, বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। বিদায়ি কার্যকরী পরিষদ সদস্যরাও বক্তব্য দেন।
প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিনিধি 


















