ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে Logo লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যে কী কারণ, জানালেন এফবিআই এজেন্ট Logo হাইকোর্টে এমপি আমির হামজার আগাম জামিন Logo ভাঙ্গুড়ায় জনতা ট্রেসপোট এজেন্সিতে অভিযান: নকল দুধ তৈরির কেমিক্যাল জব্দ ও ধ্বংস Logo নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির Logo সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ আবার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে Logo আল্লাহর দেওয়া বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু Logo টানা তাপদাহের মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি Logo ইসলামপুরে আওয়ামীলীগের ২৪ নেতাকর্মী জামিন চেয়ে আদালতে স্বেচায় আত্মসমর্পন করায় আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন Logo কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে গজারি ইউনিয়নের প্রধান নুরুল ইসলাম খোলকানী অনুষ্ঠিত, সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯০ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং দোয়া জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) তারা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জোটের অন্যান্য এমপিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভাষাশহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় তারা দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধী দলীয় নেতারা শহীদ বেদীতে ফুল দেন। পরে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়েও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর তিন বাহিনীর প্রধানরাও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতের আগেই শহীদ মিনার এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের অপেক্ষা করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শুক্রবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হন। পরে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।

ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

২১ ফেব্রুয়ারি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের ভাষাভাষী মানুষের অধিকার রক্ষার দিন। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা

আপডেট সময় ০২:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং দোয়া জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) তারা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জোটের অন্যান্য এমপিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভাষাশহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় তারা দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধী দলীয় নেতারা শহীদ বেদীতে ফুল দেন। পরে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়েও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর তিন বাহিনীর প্রধানরাও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতের আগেই শহীদ মিনার এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের অপেক্ষা করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শুক্রবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হন। পরে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।

ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

২১ ফেব্রুয়ারি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের ভাষাভাষী মানুষের অধিকার রক্ষার দিন। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।


প্রিন্ট