আনোয়ারা উপজেলায় অবৈধ পল্লী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান না চালাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাবউদ্দিন চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আনোয়ারা উপজেলা গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অবৈধ ডাক্তারদের বিরুদ্ধে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উপজেলা গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সাথে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় অভিযান না চালাতে এই ঘুষের টাকা লেনদেন হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সদস্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে উপজেলার সব পল্লী চিকিৎসক, ফার্মেসি মালিক ও ফার্মাসিস্টদের জানানো হয়- এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সাইনবোর্ড, ব্যানার, হ্যান্ডবিল কিংবা ব্যবস্থাপত্রে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনোয়ারা’ লেখা, নিজেকে বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। নির্দেশনায় চিকিৎসা কার্যক্রমে রেফারেল পদ্ধতি অনুসরণ এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এই বিজ্ঞপ্তির পর গত বৃহস্পতিবার সকালে আনোয়ারা উপজেলা গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সভাপতি কংসরাজ দত্ত, সাধারণ সম্পাদক সজল দাস, অর্থ সম্পাদক শম্ভু রঞ্জন দত্ত ও সহ-সভাপতি পি কে দাশ বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক অডিও রেকর্ডে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পল্লী চিকিৎসক দাবি করেন, সমিতির শীর্ষ চার নেতা সমিতির সাধারণ সদস্যদের না জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ওই অডিওতে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কোনো অবৈধ বা নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করি না। তাহলে কেন ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে’।
প্রিন্ট
বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম শওকত হোসেন মুন্না 


















