ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভাঙ্গুড়ায় কর্মজীবী নারীদের ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল Logo টাকার খেলায় জড়িয়ে গণপূর্তের আশরাফুল Logo জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইল আসছেন বুধবার Logo বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক লোগো Logo হাসনাত আবদুল্লাহ ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে Logo শিশু নির্যাতন: স্ত্রীসহ বিমানের এমডি শফিকুর কারাগারে Logo ঠাকুরগাঁও—৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচন \ ত্রি—মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা Logo বুধবার বরিশালে যাচ্ছেন তারেক রহমান, চলছে মঞ্চ তৈরি: Logo মহম্মদপুর আইডিয়াল একাডেমীর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান -২০২৬ অনুষ্ঠিত Logo ‎উদিতা কিন্ডারগার্টেন এন্ড  হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ভাঙ্গুড়ায় ফসলী জমিতে অনুমতি না নিয়ে টপসয়েল কেটে বিক্রয় চলছে

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রশাসনের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই চলছে ফসলী জমির টপ সয়েল স্কেভেটর দিয়ে কেটে কুতুব গাড়ি যোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয়ের মহোৎসব চলছে। গত কয়েক দিন ধরে দিনভর উপজেলা পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পারভাঙ্গুড়া এলাকার জগাতলা বাজারের অদূরে পাথরঘাটা মাঠে চলছে এই কর্মযজ্ঞ। তবে উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি তারা দেখাতে পারেন নি।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সরেজমিন উপজেলা পারভাঙ্গুড়া জগাতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক বিঘা তিন ফসলী কৃষি জমিতে এস্কেভেটর দিয়ে ৫/৭ ফুট গভীর করে মাটি কেটে কুতুব গাড়ি যোগে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করছেন।তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতি কুতুব গাড়ির মাটি বিক্রয় করছেন দুরুত্ব ভেদে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,পাথরঘাটা এলাকার মাটি ব্যবসায়ী শফি খাঁ ও পারভাঙ্গুড়া এলাকার ইউপি সদস্য হারুন এর নেতৃত্বে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই ফসলী জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রয়ের এই কাজ চলছে। তারা কেহই উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাষনের লিখিত অনুমতি পত্র দেখাতে পারে নি। তবে মাটি ব্যবসায়ীরা বলেছেন যে, তারা মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন।

প্রসঙ্গতঃ গত ০৭/০১/২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ভুমি মন্ত্রাণালয়ের যুগ্ম সচিব সাবেরা আক্তার স্বাক্ষরিত এ পত্রে জানা যায়, ‘দেশের বিভিন্ন জেলার কোথাও কোথাও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে রাতের আঁধারে কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারি অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপরি-স্তর কর্তন/খনন করছে। উপরি-স্তর কর্তনের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, যা কৃষিজ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩” এর ১৩ ধারায় মাটির উপরি-স্তর কর্তন ও ভরাটের দন্ড সম্পর্কে নিম্নরূপভাবে বলা আছে:

“যদি কোনো ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিরেকে আবাদযোগ্য বা কর্ষণীয় জমির উপরি-স্তর কর্তন করেন অথবা জমির রেকর্ডিও মালিকের বিনা অনুমতিতে জমি বালু/মাটি দ্বারা ভরাট করেন, তাহা হইলে তাহার অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ০২ (দুই) বৎসর কারাদন্ড ও অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।”

বর্ণিতাবস্থায়, “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩” এর ১৩ ধারা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ঘটনার বিষয়ে জানতে মাটি ব্যবসায়ী শফি খাঁ মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায় নি।

অনুমতি বিহীন ফসলী জমির স্তর পরিবর্তনের বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টা তিনি জানে না তবে খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলেও জানান তিনি।

অনুমতি বিহীন ফসলী জমির স্তর পরিবর্তনের বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপস কুমার পাল এর সরকারি নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয় সম্ভব হয় নি।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গুড়ায় কর্মজীবী নারীদের ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল

ভাঙ্গুড়ায় ফসলী জমিতে অনুমতি না নিয়ে টপসয়েল কেটে বিক্রয় চলছে

আপডেট সময় ০৯:২২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রশাসনের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই চলছে ফসলী জমির টপ সয়েল স্কেভেটর দিয়ে কেটে কুতুব গাড়ি যোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয়ের মহোৎসব চলছে। গত কয়েক দিন ধরে দিনভর উপজেলা পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পারভাঙ্গুড়া এলাকার জগাতলা বাজারের অদূরে পাথরঘাটা মাঠে চলছে এই কর্মযজ্ঞ। তবে উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি তারা দেখাতে পারেন নি।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সরেজমিন উপজেলা পারভাঙ্গুড়া জগাতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক বিঘা তিন ফসলী কৃষি জমিতে এস্কেভেটর দিয়ে ৫/৭ ফুট গভীর করে মাটি কেটে কুতুব গাড়ি যোগে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করছেন।তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতি কুতুব গাড়ির মাটি বিক্রয় করছেন দুরুত্ব ভেদে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,পাথরঘাটা এলাকার মাটি ব্যবসায়ী শফি খাঁ ও পারভাঙ্গুড়া এলাকার ইউপি সদস্য হারুন এর নেতৃত্বে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই ফসলী জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রয়ের এই কাজ চলছে। তারা কেহই উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাষনের লিখিত অনুমতি পত্র দেখাতে পারে নি। তবে মাটি ব্যবসায়ীরা বলেছেন যে, তারা মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন।

প্রসঙ্গতঃ গত ০৭/০১/২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ভুমি মন্ত্রাণালয়ের যুগ্ম সচিব সাবেরা আক্তার স্বাক্ষরিত এ পত্রে জানা যায়, ‘দেশের বিভিন্ন জেলার কোথাও কোথাও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে রাতের আঁধারে কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারি অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপরি-স্তর কর্তন/খনন করছে। উপরি-স্তর কর্তনের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, যা কৃষিজ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩” এর ১৩ ধারায় মাটির উপরি-স্তর কর্তন ও ভরাটের দন্ড সম্পর্কে নিম্নরূপভাবে বলা আছে:

“যদি কোনো ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিরেকে আবাদযোগ্য বা কর্ষণীয় জমির উপরি-স্তর কর্তন করেন অথবা জমির রেকর্ডিও মালিকের বিনা অনুমতিতে জমি বালু/মাটি দ্বারা ভরাট করেন, তাহা হইলে তাহার অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ০২ (দুই) বৎসর কারাদন্ড ও অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।”

বর্ণিতাবস্থায়, “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩” এর ১৩ ধারা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ঘটনার বিষয়ে জানতে মাটি ব্যবসায়ী শফি খাঁ মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায় নি।

অনুমতি বিহীন ফসলী জমির স্তর পরিবর্তনের বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টা তিনি জানে না তবে খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলেও জানান তিনি।

অনুমতি বিহীন ফসলী জমির স্তর পরিবর্তনের বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপস কুমার পাল এর সরকারি নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয় সম্ভব হয় নি।


প্রিন্ট