ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে বিক্ষোভে নিরাপত্তা কর্মীসহ ২০০০ জন নিহত

ইরানের চলমান বিক্ষোভ ও সহিংস অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২,০০০ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিরতার বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো কর্তৃপক্ষ এত উচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করল। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, যাদের তিনি “সন্ত্রাসী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাদের কারণেই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয় পক্ষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত এই অস্থিরতাকে ইরানি কর্তৃপক্ষ গত অন্তত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে গত বছর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই এই সংকট দেখা দিয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান নিয়েছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক সমস্যার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে বৈধ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করছে। কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে এবং দাবি করেছে, নাম প্রকাশ না করা কিছু ব্যক্তি—যাদের তারা “সন্ত্রাসী” বলছে—বিক্ষোভকে হাইজ্যাক করেছে।

এর আগে একটি মানবাধিকার সংগঠন শত শত নিহতের তথ্য চিহ্নিত করে এবং জানায়, হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্স যাচাই করা কয়েকটি ভিডিওতে গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও ভবন পুড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্যসহ তীব্র সহিংসতার চিত্র দেখা গেছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়তি ভাড়া নিলে সরাসরি জানাবেন: যোগাযোগ নাম্বার নাই আইজিপি

ইরানে বিক্ষোভে নিরাপত্তা কর্মীসহ ২০০০ জন নিহত

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের চলমান বিক্ষোভ ও সহিংস অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২,০০০ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিরতার বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো কর্তৃপক্ষ এত উচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করল। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, যাদের তিনি “সন্ত্রাসী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাদের কারণেই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয় পক্ষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত এই অস্থিরতাকে ইরানি কর্তৃপক্ষ গত অন্তত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে গত বছর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই এই সংকট দেখা দিয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান নিয়েছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক সমস্যার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে বৈধ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করছে। কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে এবং দাবি করেছে, নাম প্রকাশ না করা কিছু ব্যক্তি—যাদের তারা “সন্ত্রাসী” বলছে—বিক্ষোভকে হাইজ্যাক করেছে।

এর আগে একটি মানবাধিকার সংগঠন শত শত নিহতের তথ্য চিহ্নিত করে এবং জানায়, হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্স যাচাই করা কয়েকটি ভিডিওতে গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও ভবন পুড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্যসহ তীব্র সহিংসতার চিত্র দেখা গেছে।


প্রিন্ট