সিলেট মহানগরীর শাহজালাল উপশহরে টেন্ডারের শর্ত ভঙ্গ করে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে ৩৫-৪০ বছর বয়সী বিশাল একটি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনতা অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, রহস্যজনকভাবে ঘণ্টাখানেক সময়ের মধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর ই-ব্লক পয়েন্টে একটি বিশাল ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা শুরু করেন কয়েকজন শ্রমিক। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ও উপশহর কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বাধা দেন। গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানান, সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা গাছ তারা কাটছেন।
পরে সাইদুল ইসলাম রিপন নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে দাবি করেন, তার ভাই শাহিন আহমদ সিসিক থেকে এই গাছ কিনেছেন এবং প্রকৌশলী বেলাল আহমদ তাদের গাছ দেখিয়ে দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সিসিকের একটি কার্যাদেশের কপি (স্মারক নং ৪৬.০৭.০০০০.০১৮.৯৯.০৬৬.২৫.২৮৩) দেখান। সেখানে দেখা যায়, ২১নং ওয়ার্ডের টিলাগড় পয়েন্টে ১টি এবং শিবগঞ্জ পয়েন্ট থেকে উপশহর পর্যন্ত ১৩টি গাছ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে ইউক্যালিপটাস গাছটি কাটা হচ্ছিল, সেটি ই-ব্লকের অন্তর্ভুক্ত এবং কোনোভাবেই টেন্ডারের তালিকায় ছিল না।
কার্যাদেশের ৩নং শর্ত অনুযায়ী, গাছ কাটার সময় সিসিক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গাছ কাটতে হবে। কিন্তু এই শর্তের তোয়াক্কা না করেই গাছটি কাটা হচ্ছিল।
সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী মোঃ বেলাল আহমদ মোবাইল ফোনে জানান, তিনি কেবল টিলাগড় ও শিবগঞ্জ এলাকার নির্ধারিত গাছগুলো কাটার জন্য সরেজমিনে দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “উপশহরে কোনো গাছ টেন্ডার হয়নি এবং আমি দেখিয়েও দেইনি। তারা নিজ ইচ্ছায় এবং দায়িত্বে গাছটি কাটিয়েছে।”
অন্যদিকে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেহেতু পুলিশ অভিযুক্তদের নিয়ে গেছে, তাই পুলিশই আইনি ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম রিপন প্রথমে দায় এড়িয়ে জনৈক স’মিল ব্যবসায়ীর ওপর দোষ চাপালেও, পরে ফোনে শ্রমিকদের দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়েন। উত্তেজিত জনতা রিপনসহ ৪ জনকে আটক করে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাফরের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ তাদের থানায় সোপর্দ করার আশ্বাস দিলেও ঘন্টাখানেক পরে ফাড়ি থেকেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ইনচার্জ জাফর জানান, কেউ তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন না এবং টেন্ডার গ্রহীতা শাহিন আহমদ ফাঁড়িতে এসে ভুল স্বীকার করেছেন এবং আগামীকাল সিসিক-এ জরিমানা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন উপশহর কল্যাণ পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন রুবেল, এডভোকেট আবু জাফর তারেক, ওজি মোঃ কাওছার, সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম, আলমগীর আলম রুমন ও জাকির হোসেন সহ স্থানীয় লোকজন।
তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বলেন, “প্রকাশ্যে দিনের আলোয় সরকারি সম্পদ লুট করা এবং টেন্ডারের শর্ত ভেঙে গাছ কাটা একটি গুরুতর অপরাধ। জনতা অভিযুক্তদের ধরিয়ে দেওয়ার পরও পুলিশ কেবল মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রকৌশলী বেলাল আহমদ জানিয়েছেন, জরিমানা আদায়ের বিষয়ে তিনি আগামীকাল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তবে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: 




















