ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo স্পিকার হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার Logo চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে Logo জামালপুর পাকুল্লায়  স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ Logo মহম্মদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি টুটুলের নামে বন বিভাগের গাছের গুঁড়ি সরানোর অভিযোগে মামলা Logo রাস্তার কাজের অস্তিত্ব নেই, কাগজে-কলমে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প! ভাঙ্গুড়ায় টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে Logo ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা ৫ এমপি প্রার্থীর Logo ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অভিযান শুরু Logo ইরানের প্রতিরোধে দিশাহারা ট্রাম্প Logo ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে Logo এতিম শিশুদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করল এশিয়ান টেলিভিশন এর ফুলবাড়ী প্রতিনিধি কবির সরকার

ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমান ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০২৫ সালে মুসলমান ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ‘হেট স্পিচের’ ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৩০০-র বেশি, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এর বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের (সিএসওএইচ) একটি প্রকল্প ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের (আইএইচএল) বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ২১টি রাজ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রায় ১ হাজার ৩১৮টি ঘৃণামূলক বক্তব্যের (হেট স্পিচ) ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের তুলনায় ‘হেট স্পিচ’ বেড়েছে ১৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের তুলনায় ৯৭ শতাংশ, যখন ৬৬৮টি এ ধরনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।

জাতিসংঘে ‘হেট স্পিচ’-এর যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে এসব বক্তব্য শ্রেণিবদ্ধ করে আইএইচএল। এর মধ্যে রয়েছে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ব্যবহার, সহিংসতা ও অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান, সামাজিক বা অর্থনৈতিকভাবে বয়কটের আহ্বান, উপাসনালয় দখল বা ধ্বংস করার দাবি, ভাষার অবমাননা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মোট ১ হাজার ২৮৯টি হেট স্পিচ, অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ মুসলিমদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে। আর ১৩৩টি ক্ষেত্রে হয়েছে খ্রিস্টানদের সঙ্গে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।’

বেশির ভাগ ঘৃণামূলক বক্তব্য ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনার প্রায় ৮৮ শতাংশ (১,১৬৪) বিজেপি শাসিত রাজ্যে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট শাসিত রাজ্য এবং বিজেপি শাসিত কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলোতে ঘটেছে। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলগুলোতে রেকর্ড করা ৯৩১টি ঘটনার তুলনায় এটি ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

উত্তর প্রদেশে ২৬৬, মহারাষ্ট্রে ১৯৩, মধ্যপ্রদেশে ১৭২, উত্তরাখণ্ডে ১৫৫ এবং দিল্লিতে ৭৬টি সর্বাধিকসংখ্যক ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী সব ঘটনার ৬৫ শতাংশ।

বিপরীতভাবে, বিরোধী দল বা জোট শাসিত সাতটি রাজ্যে ২০২৫ সালে ১৫৪টি ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে এই রাজ্যগুলোতে নথিভুক্ত ২৩৪টি ঘটনার তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দল – উভয়ই উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ২৮৯টি ‘হেট স্পিচের’ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তারপরেই রয়েছে অন্তর্রাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ (এএইচপি) ১৩৮টি।

২০২৫ সালে নথিভুক্ত সকল ঘৃণামূলক বক্তৃতার প্রায় অর্ধেক (৬৫৬টি ঘটনা) ‘লাভ জিহাদ’, ‘ভূমি জিহাদ’ এবং ‘জনসংখ্যা জিহাদ’ এর মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে উস্কে দিয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, ৩০৮টি বক্তৃতায় সহিংসতার স্পষ্ট আহ্বান ছিল, ১৩৬টিতে সরাসরি অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ছিল।

২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রধানত মুসলিমদের বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ১২০টি বক্তব্য এবং মসজিদ, মাজার এবং গির্জা অপসারণ বা ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়ে ২৭৬টি বক্তব্য দিতে দেখা গেছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেটস টাইমস/মক্তব মিডিয়া


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার

ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’

আপডেট সময় ১২:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমান ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০২৫ সালে মুসলমান ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ‘হেট স্পিচের’ ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৩০০-র বেশি, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এর বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের (সিএসওএইচ) একটি প্রকল্প ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের (আইএইচএল) বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ২১টি রাজ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রায় ১ হাজার ৩১৮টি ঘৃণামূলক বক্তব্যের (হেট স্পিচ) ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের তুলনায় ‘হেট স্পিচ’ বেড়েছে ১৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের তুলনায় ৯৭ শতাংশ, যখন ৬৬৮টি এ ধরনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।

জাতিসংঘে ‘হেট স্পিচ’-এর যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে এসব বক্তব্য শ্রেণিবদ্ধ করে আইএইচএল। এর মধ্যে রয়েছে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ব্যবহার, সহিংসতা ও অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান, সামাজিক বা অর্থনৈতিকভাবে বয়কটের আহ্বান, উপাসনালয় দখল বা ধ্বংস করার দাবি, ভাষার অবমাননা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মোট ১ হাজার ২৮৯টি হেট স্পিচ, অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ মুসলিমদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে। আর ১৩৩টি ক্ষেত্রে হয়েছে খ্রিস্টানদের সঙ্গে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।’

বেশির ভাগ ঘৃণামূলক বক্তব্য ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনার প্রায় ৮৮ শতাংশ (১,১৬৪) বিজেপি শাসিত রাজ্যে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট শাসিত রাজ্য এবং বিজেপি শাসিত কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলোতে ঘটেছে। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলগুলোতে রেকর্ড করা ৯৩১টি ঘটনার তুলনায় এটি ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

উত্তর প্রদেশে ২৬৬, মহারাষ্ট্রে ১৯৩, মধ্যপ্রদেশে ১৭২, উত্তরাখণ্ডে ১৫৫ এবং দিল্লিতে ৭৬টি সর্বাধিকসংখ্যক ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী সব ঘটনার ৬৫ শতাংশ।

বিপরীতভাবে, বিরোধী দল বা জোট শাসিত সাতটি রাজ্যে ২০২৫ সালে ১৫৪টি ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে এই রাজ্যগুলোতে নথিভুক্ত ২৩৪টি ঘটনার তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দল – উভয়ই উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ২৮৯টি ‘হেট স্পিচের’ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তারপরেই রয়েছে অন্তর্রাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ (এএইচপি) ১৩৮টি।

২০২৫ সালে নথিভুক্ত সকল ঘৃণামূলক বক্তৃতার প্রায় অর্ধেক (৬৫৬টি ঘটনা) ‘লাভ জিহাদ’, ‘ভূমি জিহাদ’ এবং ‘জনসংখ্যা জিহাদ’ এর মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে উস্কে দিয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, ৩০৮টি বক্তৃতায় সহিংসতার স্পষ্ট আহ্বান ছিল, ১৩৬টিতে সরাসরি অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ছিল।

২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রধানত মুসলিমদের বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ১২০টি বক্তব্য এবং মসজিদ, মাজার এবং গির্জা অপসারণ বা ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়ে ২৭৬টি বক্তব্য দিতে দেখা গেছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেটস টাইমস/মক্তব মিডিয়া


প্রিন্ট