ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo মিথ্যা মামলা কড়াটাই যেন তার নেশা অভিযোগ উঠেছে একাধিক এলাকা বাসীর বাদী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সার্জেন্ট ও তার পরিবারের সবার বিরুদ্ধে….!! Logo সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো Logo সায়েন্সল্যাব অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ Logo বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা মৃত্যুবরণ করেছেন Logo ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বেড়েছে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ Logo সুবিধাবাদী চরমোনাই ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট Logo আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, ভারতে ঝুঁকি আছে: ক্রীড়া উপদেষ্টা

ফ্যাসিবাদ সরকারের গুমের শিকার সাভারের যুবদল নেতা সুরুজ্জামান

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন সাভারের যুবদল নেতা সুরুজ্জামান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ রাত ১০টার দিকে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়া ৮-১০ জনের একটি সাদা পোশাকের দল। গুম হওয়ার ৬ দিন পর তাকে ফেরত দেওয়া হয়।

গুমের পর তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে কয়েক দফা মোটা অংকের টাকা আদায় করে ডিবির কর্মকর্তারা। পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ডিবি পুলিশ তাকে নাটকীয়ভাবে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী সুরুজ্জামানের।

যুবদল নেতা সুরুজ্জামান বলেন, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে-দেশজুড়ে তখন ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের উত্তাপ। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় আমাকে আদাবরের ভাড়া বাসা থেকে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তুলে নিয়ে যায় ডিবির একটি টিম। আমাকে গাড়িতে তুলেই কালো কাপড়ের মুখোশ পরিয়ে বিভিন্ন অবান্তর প্রশ্ন করে এবং গাড়ির ভিতরেই আমাকে অত্যাচার করতে থাকে। এরপরে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক আমাকে দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে। তিনি আরো বলেন, গুমের পর অজ্ঞাত স্থানে আমাকে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, প্রথম তিন দিন কাটাতে হয়েছে রহস্যময় ‘আয়নাঘরে’ যেখানে সব সময় চোখ ও হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল।

অন্ধকার ছোট একটি ঘরে শুধু ফ্যানের শব্দ শোনা যেত সেখানে দুনিয়ার কোন খবর বোঝা যেত না, দুনিয়ার কারো সাথে কোন যোগাযোগ করার ব্যবস্থা ছিল না, চারদিকে কালো অন্ধকার, মনে হচ্ছিল যেন একটা কবর। সেখানে যেমন শারীরিক নির্যাতন করতো তেমনি মানসিক নির্যাতন করতো, খাবার হিসেবে পেতাম শুধু পাউরুটি আর কলা। টয়লেটে যেতে হলে হাতে রশি বেঁধে নিয়ে যেত।

তিনি আরও বলেন, কতটা নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে আমাকে ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়, তাদের মারপিট অত্যাচারে আমি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এভাবে যে কত সাধারন মানুষ এবং আমাদের নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে ও আটকে রাখা হতো নির্যাতন করা হতো তার কোন হিসাব মিলানো কঠিন।

গুমের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন যুবদল নেতা সুরুজ্জামান। এ সময় তিনি তার সাথে যে অমানবিক অন্যায় অত্যাচার হয়েছে তার বিচার দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, এরকম জঘন্য অপরাধ, মানবতা বিরোধী কাজ এই বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর না হয়, এই বাংলাদেশের মাটিতে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি হওয়া উচিত, বিচার হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন এরকম দুঃসাহস কেউ না দেখাতে পারে।বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয়

ফ্যাসিবাদ সরকারের গুমের শিকার সাভারের যুবদল নেতা সুরুজ্জামান

আপডেট সময় ০১:২১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন সাভারের যুবদল নেতা সুরুজ্জামান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ রাত ১০টার দিকে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়া ৮-১০ জনের একটি সাদা পোশাকের দল। গুম হওয়ার ৬ দিন পর তাকে ফেরত দেওয়া হয়।

গুমের পর তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে কয়েক দফা মোটা অংকের টাকা আদায় করে ডিবির কর্মকর্তারা। পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ডিবি পুলিশ তাকে নাটকীয়ভাবে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী সুরুজ্জামানের।

যুবদল নেতা সুরুজ্জামান বলেন, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে-দেশজুড়ে তখন ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের উত্তাপ। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় আমাকে আদাবরের ভাড়া বাসা থেকে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তুলে নিয়ে যায় ডিবির একটি টিম। আমাকে গাড়িতে তুলেই কালো কাপড়ের মুখোশ পরিয়ে বিভিন্ন অবান্তর প্রশ্ন করে এবং গাড়ির ভিতরেই আমাকে অত্যাচার করতে থাকে। এরপরে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক আমাকে দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে। তিনি আরো বলেন, গুমের পর অজ্ঞাত স্থানে আমাকে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, প্রথম তিন দিন কাটাতে হয়েছে রহস্যময় ‘আয়নাঘরে’ যেখানে সব সময় চোখ ও হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল।

অন্ধকার ছোট একটি ঘরে শুধু ফ্যানের শব্দ শোনা যেত সেখানে দুনিয়ার কোন খবর বোঝা যেত না, দুনিয়ার কারো সাথে কোন যোগাযোগ করার ব্যবস্থা ছিল না, চারদিকে কালো অন্ধকার, মনে হচ্ছিল যেন একটা কবর। সেখানে যেমন শারীরিক নির্যাতন করতো তেমনি মানসিক নির্যাতন করতো, খাবার হিসেবে পেতাম শুধু পাউরুটি আর কলা। টয়লেটে যেতে হলে হাতে রশি বেঁধে নিয়ে যেত।

তিনি আরও বলেন, কতটা নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে আমাকে ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়, তাদের মারপিট অত্যাচারে আমি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এভাবে যে কত সাধারন মানুষ এবং আমাদের নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে ও আটকে রাখা হতো নির্যাতন করা হতো তার কোন হিসাব মিলানো কঠিন।

গুমের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন যুবদল নেতা সুরুজ্জামান। এ সময় তিনি তার সাথে যে অমানবিক অন্যায় অত্যাচার হয়েছে তার বিচার দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, এরকম জঘন্য অপরাধ, মানবতা বিরোধী কাজ এই বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর না হয়, এই বাংলাদেশের মাটিতে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি হওয়া উচিত, বিচার হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন এরকম দুঃসাহস কেউ না দেখাতে পারে।বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


প্রিন্ট