ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ধামরাইয়ে সরকারি ভূমি অফিস এখন ‘মাদকের আখড়া’ ও গোবরের গুদাম ঘর Logo গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে লেক থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার, এলাকায় আতঙ্ক Logo কিশোর গঞ্জ জেলা ভৈরবে কালিকা প্রসাদে দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত Logo জামালপুরে অনলাইনে কবিরাজীর নামে প্রতারণা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন গ্রেফতার Logo প্রায় ২৭ বছরের শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায়: Logo আ.লীগ সরকারের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে Logo এসএসসি পরীক্ষায় ফিরলো ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ Logo সংসদের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে দুর্নীতি, ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ Logo ‎এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন ‎ Logo ঈদগাঁও থানার এ এস আই অন্ত বড়ুয়া বেপরোয়া মিথ্যা জিডি নিয়ে তার বাণিজ্য

জামালপুরে অনলাইনে কবিরাজীর নামে প্রতারণা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন গ্রেফতার

জামালপুরে চরযথার্থপুর চান্দাপাড়ার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন (২১)কে অনলাইনে কবিরাজির নামে প্রতারণা করে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যায়,তিনি প্রতারণা চক্রের মূলহোতা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এক প্রেস ব্রিফিংএ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতারকৃত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করেন।
প্রেস ব্রিফিংএ পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, পাশ্ববর্তী শেরপুর জেলার কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া কিশোরী মেয়ে (১৩) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায় এসব ভিডিও দেখা শুরু করে। টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী খুরশেদ কবিরাজের সাথে ওই মেয়ের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে খুরশেদ কবিরাজ নামক প্রতারক চক্র তার সহকারী ‘কবিরাজ’ নামে ২টি ও ‘আল্লাহর দান’ নামে ১টি ইমু একাউন্টের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতো। তার সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কবিরাজীর ফি ছিল, ১টি খাসি, ৪টি জায়নামাজ, ৪টি আগরবাতি, ৪টি মোমবাতি, ৫ কেজি গরুর দুধ, ৫ কেজি ফল।তিনি সবকিছু নিয়ে কাজ করেন।কিন্তু মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় জোড়া শুকর ক্রয় করে জবাই করা, ২ কেজি চন্দন কাঠ ক্রয় ইত্যাদি বাবদ গত ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় চক্রটি। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁক দেয়ার কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১ লক্ষ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়। ওই মেয়েটি আবারো বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে দোকানে গেলে কম বয়স হওয়ায় দোকানদারের সন্দেহ হয়। দোকারদার তার বাবা ছাইদুর রহমানকে ফোন করলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্ত শুরু করেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত জামালপুর সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার মোস্তফার ছেলে মুছা মিয়া ও মৃত নবাব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম নামে দুইজনকে গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত আরও জানান, আগেই গ্রেফতার হওয়া দুইজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ এপ্রিল ঘটনার মূলহোতা কনেন্ট ক্রিয়েটর জামালপুর সদর উপজেলার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মনির হোসেনকে ময়মনসিংহের মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ীর পাশ্ববর্তী বাগানের মাটি খুড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। যার অনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা। খুরশেদ কবিরাজ নামে কোন ব্যাক্তির অস্তিত্ব নেই। এই নামটি ব্যবহার করে অনলাইন কবিরাজীর আড়ালে চক্রটি প্রতারণা করে আসছিলো। পরে আজ বৃহস্পতিবার মনির হোসেনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
১৬.০৪.২৬


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে সরকারি ভূমি অফিস এখন ‘মাদকের আখড়া’ ও গোবরের গুদাম ঘর

জামালপুরে অনলাইনে কবিরাজীর নামে প্রতারণা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরে চরযথার্থপুর চান্দাপাড়ার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন (২১)কে অনলাইনে কবিরাজির নামে প্রতারণা করে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যায়,তিনি প্রতারণা চক্রের মূলহোতা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এক প্রেস ব্রিফিংএ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতারকৃত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করেন।
প্রেস ব্রিফিংএ পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, পাশ্ববর্তী শেরপুর জেলার কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া কিশোরী মেয়ে (১৩) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায় এসব ভিডিও দেখা শুরু করে। টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী খুরশেদ কবিরাজের সাথে ওই মেয়ের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে খুরশেদ কবিরাজ নামক প্রতারক চক্র তার সহকারী ‘কবিরাজ’ নামে ২টি ও ‘আল্লাহর দান’ নামে ১টি ইমু একাউন্টের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতো। তার সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কবিরাজীর ফি ছিল, ১টি খাসি, ৪টি জায়নামাজ, ৪টি আগরবাতি, ৪টি মোমবাতি, ৫ কেজি গরুর দুধ, ৫ কেজি ফল।তিনি সবকিছু নিয়ে কাজ করেন।কিন্তু মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় জোড়া শুকর ক্রয় করে জবাই করা, ২ কেজি চন্দন কাঠ ক্রয় ইত্যাদি বাবদ গত ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় চক্রটি। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁক দেয়ার কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১ লক্ষ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়। ওই মেয়েটি আবারো বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে দোকানে গেলে কম বয়স হওয়ায় দোকানদারের সন্দেহ হয়। দোকারদার তার বাবা ছাইদুর রহমানকে ফোন করলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্ত শুরু করেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত জামালপুর সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার মোস্তফার ছেলে মুছা মিয়া ও মৃত নবাব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম নামে দুইজনকে গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত আরও জানান, আগেই গ্রেফতার হওয়া দুইজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ এপ্রিল ঘটনার মূলহোতা কনেন্ট ক্রিয়েটর জামালপুর সদর উপজেলার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মনির হোসেনকে ময়মনসিংহের মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ীর পাশ্ববর্তী বাগানের মাটি খুড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। যার অনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা। খুরশেদ কবিরাজ নামে কোন ব্যাক্তির অস্তিত্ব নেই। এই নামটি ব্যবহার করে অনলাইন কবিরাজীর আড়ালে চক্রটি প্রতারণা করে আসছিলো। পরে আজ বৃহস্পতিবার মনির হোসেনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
১৬.০৪.২৬


প্রিন্ট